
রাজাকাররা ১৯৭১ সালে বিরাট সমস্যা ছিল। এখন চোর, ডাকাত ও বদমাসরা বড় সমস্যা। সেটা দেশ প্রেমিক হলেও সমস্যা এবং রাজাকার হলেও সমস্যা। তেমন একটি সমস্যা ছিল দেশ প্রেমিক ফ্যাসিবাদ সমস্যা। ৫ আগষ্ট তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের এলাকার কিছু মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র জমা না দিয়ে ডাকাতি করতেন। জনগণ তাদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা আলোচনা না করে তাদের ডাকাতির সমালোচনা করতেন। জাতির জনকের কন্য সেই ক্যাটাগরিতে পড়েছেন। তাঁর সমালোচনা তাঁর আলোচনাকে ঢেকে দিয়েছে। তাঁর পক্ষের লোকেরাও তাঁর পক্ষে কি বলবেন ভেবে পান না।
কেউ আগে মন্দ ছিল এখন ভালো এবং কেউ আগে ভালো ছিল এখন মন্দ তাহলে কেউ কার পক্ষে থাকবে? ভালোর পক্ষে থাকা সংগত এ সূত্রে নগদ ভালো অতীত ভালোর বিপক্ষে জয়ী হয়। অতীত ভালো দিয়ে কতকাল আর বানিজ্য করা যায়? এসব সওদাগরি এক সময় শেষ হয়। জাতির জনকের কন্যার ক্ষেত্রে এখন সেটা হয়েছে। তিনি বলছেন তাঁর কি দোষ? জনগণ বলছে দোষটা ফ্যাসিবাদ। সেদিন পালিয়ে না গেলে হয়ত তিনি এখন উপরে থাকতেন। তিনি অবশ্য তাঁর ফ্যাসিবাদের কথা স্বীকার করেন না। তাঁর মতে এসব দুষ্ট লোকের কথা।
কেউ দেশটা ভারত অথবা পাকিস্তানকে দিয়ে দিতে চাইলে তারা নতুন রাজাকার। তারা একাত্তরের রাজাকারের চেয়ে বেশী ঘৃণিত। কারণ তারা বলেছে তারা বিদ্যমান দেশকে বিদ্যমাণ রাখতে চেয়েছে। নব্য রাজাকার বিদ্যমাণ দেশকে বিলিন করতে চায়।সেজন্য নব্য রাজাকারের দোষ বেশী।একাত্তরে মুক্তিকামী থেকে এখন রাজাকার হলে কিলাভ? একাত্তরে রাজাকার থেকে এখন মুক্তিকামী হলে এটা তবু লাভ জনক। কারণ এরা এখন বিদ্যমাণ দেশকে বিদ্যমাণ রাখতে চায়। সবচেয়ে ভালো একাত্তরের মুক্তিকামী এখনো মুক্তিকামী থাকা। দেশ পরিচালনার ভোটে এরা ভোট পাওয়ার হকদার। এদের মধ্যে যারা সৎ তারা ভোট পাওয়ার সবচেয়ে বেশী হক দার। আর ভোট দান বিষয়ে নব্য রাজাকার থেকে দূরে থাকতে হবে।
দেশের টাকা যারা বিদেশে পাচার করে তাদের পরিচয় কি? তারা কি রাজাকার থেকে ভালো? রপ্তানি করে পাচারের জন্য আমদানির টাকা পাওয়া না গেলে কেমন লাগে? দেশ চালকের একপক্ষ চোর, অন্য পক্ষ দূর্নীতি বাজ। এরমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এখন লোকে খুনী বলে। অপরাধ প্রমাণ হলে হয়ত তাঁর ফাঁসির রায় হবে। ইতিহাসের ইতি কেটে আমরা হাঁস বানিয়ে ফেলি এটা বড় সমস্যা। আর আমাদের হাসপাতাল হাঁসের পায়ের তলেই থাকে। এখন আমাদের দরকার নৈতিক শিক্ষা। এটা যারা দিবে তারা অনৈতিক হলে নৈতিক শিক্ষা কোথা থেকে আসে? সেজন্য আমরা উন্নতির সূচকে প্রায় সবার পিছনে। এমন অপরাধ নাই যেটা আমাদের এখানে না ঘটে। আমাদের লোকেরা অপরাধ করতে লজ্জা পায় না, তারা অপরাধের দোষ স্বীকার করতে লজ্জা পায়। একাত্তরের রাজাকাররা তাদের দোষ স্বীকার করতে লজ্জা পায়, চব্বিশের রাজাকারাও তাদের দোষ স্বীকার করতে লজ্জা পায়। ভোট দিতে রাজাকার বাদ দিয়ে ভোট দিন। রাজাকারের মধ্যে যারা নতুন রাজাকার তাদেরকে ভোট দেওয়া বাদ দিন। কারণ তাদের হাতের রক্তের দাগ এখনো দগদগ করে। সামনে ভোটের মৌসুম সেজন্য এসব নচিহত। এরপর আমার নচিহত মানা না মানা ভোটারের বিষয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




