somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাসূলের (সা.) সুন্নাতের পর আখারিনের মাযহাবের কথা আল্লাহ নিজেই বলেছেন

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।

সূরাঃ ৫৩ নাজম, ৩ নং ও ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩। আর সে মনগড়া কথা বলে না।
৪। এটাতো ওহি যা তার প্রতি ওহি হিসেবেই পাঠানো হয়।

সহিহ আল বোখারী, ২৮৮৯ নং হাদিসের (জিহাদ অধ্যায়) অনুবাদ-
২৮৮৯। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে কল্যাণ দানের ইচ্ছা করেন, তাঁকে তিনি দীন সম্পর্কে ফিকাহ (গভির জ্ঞান) দান করেন। আল্লাহ প্রদানকারী আর আমি বন্টনকারী। আমার এ উম্মত তাদের বিরোধীদের উপর চিরদিন বিজয়ী হবে। এ অবস্থায় আল্লাহর চূড়ান্ত সমাধান এসে যাবে।

* রাসুল (সা.) ওহীর বাইরে কিছুই কিছুই বলেন না। ওহীতে ফিকাহের মাধ্যমে ভয় প্রদর্শন করতে ও সাবধান হতে বলায় ফিকাই রাসূলের (সা.) সুন্নাত। আল্লাহ ফিকাহ প্রদানকারী এবং রাসূল (সা.) এর বন্টনকারী। রাসূলের (সা.) ফিকাহ পালনকারী উম্মত কেয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। হযরত মুয়াবীয়া (রা.) তাঁর অনুসারীদেরকে সেই উম্মত মনে করতেন। কারণ হযরত আলী (রা.) ও ইমাম হাসানের (রা.) অনুসারীগণ তাঁকে হারাতে পারেননি।কিন্তু তাঁর অনুসারীদেরকে আব্বাসীয়রা পরাজিত করায় হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) অনুসারীগণ চিরজয়ী নয় এবং তারা ফিকাহ পালনকারী উম্মত নয় প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে রাসূলের (সা.) চিরজয়ী ফিকাহপালনকারী উম্মত কারা?

সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।

সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।

* রাসূলের (সা.) চিরজয়ী ফিকাহ পালনকারী উম্মত হলো আখারিন (অন্যান্য), যাদের শুরা প্রধান রাসূলের (সা.) সাথে মিলিত না হওয়া তাবেঈ এবং যাদের শুরা সদস্যগণ হলেন সাহাবায়ে কেরামের (রা.) সাথে মিলিত না হওয়া তাবে তাবেঈ। রাসূল (সা.) ব্যাসায় ও সামরিক হিকমাত শিক্ষা দিয়েছেন।এ হিকমাতকে আল্লাহর অনুগ্রহ বলা হয়েছে। সুতরাং আখারিনের সূরা প্রদানের মধ্যে ব্যবসায় হিকমত থাকা জরুরী। কারণ তাদেরকে আল্লাহর অনুগ্রহ প্রদানের কথা আল্লাহ বলেছেন।নবুয়ত পাওয়ার পূর্বে রাসূল (সা.) এটি প্রাপ্ত ছিলেন। সুতরাং যিনি রাসূলের (সা.) সুন্নাত ফিকাহ পাবেন তাঁর মধ্যে ব্যাবসায় হিকমাত থাকতে হবে। কোরআনের শর্ত সমূহে গঠিত আখারিনের ফিকাহ সংকলনের সূরা হলো ইমাম আবু হানিফা (র.) ও তাঁর ছাত্রদের শুরা। ইমাম আবু হানিফা (র.) ব্যবসায় হিকমাত সমৃদ্ধ তাবেঈ ছিলেন। তাঁর ছাত্রগণ ছিলেন তাবে তাবেঈ। তাঁদের সংকলিত হানাফী ফিকাহ যা হানাফী মাযহাব নামে পরিচিত এর অনুসারীগণ চির জয়ী অবস্থায় বিদ্যমাণ। ইমাম আবু হানিফা (র.) হিকমাত সমৃদ্ধ ফিকাহ প্রাপ্ত বিধায় তিনি আল্লাহ দ্বিগুণ অনুগ্রহ প্রাপ্ত ছিলেন।একথার হিদায়াত সূরা জুমুয়ার ৪নং আয়াতে দেখুন।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।

সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।

সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের সুন্নতের? কিন্তু তুমি আল্লাহর সুন্নাতে কখনও কোন পরিবর্তন পাবে না এবং আল্লাহর সুন্নতে কোন ব্যতিক্রমও দেখবে না।

সূরাঃ ২ বাকারা, ৩৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৪। আর যখন আমরা ফেরেশতাগণকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর তখন ইবলিশ ছাড়া সবাই সিজদা করে ছিল। সে অগ্রাহ্য করলো, আর অহংকার করলো এবং কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

* ইমাম আবু হানিফার (র.) ফিকাহ ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আমির হারুনুর রশিদের শুরায় পরিশোধীত হয়ে আমির হারুনুর রশিদ কর্তৃক অনুমোদীত হয়ে এটি রাসূলের (সা.) সুন্নাত থেকে আল্লাহর সুন্নাতে পরিণত হয়।যারা এটি অস্বীকার করে তারা অহংকারী ও কাফের।

সূরাঃ ২, বাকারা। ১০৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৬। আমরা কোন আয়াত মানসুখ বা রহিত করলে অথবা ভুলে যেতে দিলে তা’হতে উত্তম বা তার সমতুল্য কোন আয়াত আমরা প্রদান করে থাকি।তুমি কি জান না যে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।

সূরা: ৪৫ জাছিয়া, ৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬। এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করছি। সুতরাং আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা কোন হাদিসে বিশ্বাস করবে?

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।

সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।

* আল্লাহর এবং তাঁর আয়াতে গঠিত হানাফী ফিকাহের পরিবর্তে উপস্থাপিত আয়াত মানসুখ ও হাদিস বাতিল। যারা এর বাইরে থাকে তারা আল্লাহর সিরাতাম মুসতাকিমের বাইরে থাকে। এরা বিভিন্ন পথের অনুসারী হয়ে জাহান্নামের যাত্রী হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ইমাম এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবেন কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৬


১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির গেটে শুরু হয় অস্বাভাবিক গোলমাল। মিনিটের মধ্যে সেখানে জড়ো হয় দেড়শো মানুষের উত্তেজিত ভিড়। তাদের টার্গেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ও আকাশ, একটুখানি শুনে যা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০২


=নতুন দিনে নতুন আকাশ=
ও আকাশ তুই কী রূপ পাল্টাবি?
নাকি থেকে যাবি আগের মত?
তোর বুকে কী বিবর্ণ মেঘই রাখবি
না কিছু শুভ্র মেঘ তুলবি বুকে।

ও আকাশ নতুন দিন আসছে,
তুই কী মেতে উঠবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়া নাকি শেখ হাসিনা! কে কাকে হত্যা করতে চেয়েছিল?

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪০



সুপার এক্সক্লুসিভঃ খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করে মেরে ফেলেন শেখ হাসিনা – কতটুকু সত্য? খালেদা জিয়া যে মদ্যপায়ী ছিলেন এবং মদ্যপানের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

জাপানের ফুজি মাউন্টেন, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ওরা এখনো বলে, শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েতে
কাউকেই নাকি হত্যা করা হয়নি।
গায়ে রং মেখে কিছু লোক ৫ মে ২০১৩... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা নবীজিকে ভুল ভাবে অনুসরণ করেন, তারাই দিপু দাসকে হত্যা করেছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

ইসলাম বুঝতে আপনি কার আদর্শ বেশি অনুসরণ করবেন - নবীজির বংশধর নাকি তাঁদের বাইরের কারো? নবীজির কথা যারা ভুলে গিয়েছেন এবং আমাদের ভুলে যেতে অযাচিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তারাই দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×