somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সবচেয়ে যোগ্য ইসলামী নেতা কে?

২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।

সূরাঃ ২ বাকারা, ২৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬৯। তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমাত দান করেন। আর যাকে হিকমাত দান করা হয় এর ফলে সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে।মূলত জ্ঞানী ব্যক্তিরা ছাড়া কেউই বুঝতে পারে না।

সূরাঃ ২ বাকারা, ১৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ
১৪৩। এইভাবে আমি তোমাদিগকে এক মধ্যমপন্থী উম্মতরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি।যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হতে পারেন।তুমি এ যাবত যে কিবলা অনুসরন করতেছিলে উহা আমরা এ এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলাম যাতে আমরা জানতে পারি কে রাসূলের অনুসরন করে আর কে ফিরে যায়? আল্লাহ যাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন তারা ছাড়া অন্যদের নিকট এটা (সৎপথ)কঠিন।তোমাদের ঈমানকে ব্যর্থ করে দিবেন আল্লাহ এমন নন।আল্লাহ মানুষদের প্রতি স্নেহশীল-দয়াদ্র।

* ইসলামের প্রধান নেতা মহানবির (সা.) কিতাব ও হিকমাতের জ্ঞান ছিল। মহানবির (সা.) ব্যবসায়, পশুপালন, সামরিক ও চিকিৎসা হিকমাতের জ্ঞান ছিল। তাঁর স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজার (রা.) ব্যবসায় হিকমাত ছিল।কিতাব ও হিকমাতের জ্ঞান মধ্যম হলেও চলে। এরকম একমাত্র জুটি ডা. শফিকুর রহমান ও ডা. আমেনা শফিক। হিকমাতের জ্ঞানের সাথে তাঁদের মাঝারি মানের কিতাবের জ্ঞান রয়েছে। আল্লাহ কিতাবের জ্ঞানের থেকে হিকমাতের বেশী গুরুত্ব দেওয়ায় যেসব নেতার কিতাবের জ্ঞান আছে, কিন্তু হিকমাতের জ্ঞান নাই। সেজন্য তারা ইসলামী নেতৃত্বের অযোগ্য। ডা. শফিক ক্ষমতা পেলে শরিয়া আইন চালু না করার কথা বলেছেন। তাঁর কথা অসংগত নয়। কারণ শরিয়া কায়েমে রাসূলের (সা.) সামরিক বাহিনী ও প্রশাসন কিতাবের জ্ঞান সম্পন্ন ছিলেন। ডা. শফিক ক্ষমতা পেলে যে সামরিক বাহিনী ও প্রশাসন পাবেন তাদের কিতাবের জ্ঞান সন্তোষ জনক পর্যায়ে নাই। ক্ষমতা পেয়েই শরিয়া আইন কায়েম সম্ভব নয় বলেই ডা. শফিক শরিয়া আইন কায়েম না করার কথা বলেছেন। ইসলামের বেশী জ্ঞানী আবার অনুসরন যোগ্য নন।

সূরাঃ ১৮ কাহফ, ৬০ থেকে ৮২ আয়াতের অনুবাদ-
৬০।যখন মূসা তাঁর সংগীকে বলেছিল, দুই সমুদ্রের সংগমস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।
৬১।তারা উভয়ে যখন দুই সমুদ্রের সংগমস্থলে পৌঁছল তারা নিজেদের মৎসের কথা ভুলেগেল।উহা সুড়ংগের মত নিজের পথ করে সমূদ্রে নেমে গেল।
৬২। যখন তারা আরো অগ্রসর হলো মূসা তার সংগীকে বলল আমাদের নাস্তা নিয়ে আস।আমরা তো আমাদের সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
৬৩। সে বলল, আপনি কি দেখেছেন? যখন আমরা শিলাখন্ডে বিশ্রাম নিতে ছিলাম তখন আমি মৎসের কথা ভুলে গিয়ে ছিলাম! শয়তান উহার কথা বলতে ভুলিয়ে দিয়েছিল।মৎসটি বিস্ময়করভাবে সমূদ্রে নিজের পথ করে নেমে গেল।
৬৪। মূসা বলল, আমরা তো সেই স্থানটিই খুঁজতেছিলাম।অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল।
৬৫। অতঃপর তারা সাক্ষাৎ পেল আমাদের বান্দাদের মধ্যে একজনের।যাকে আমরা আমাদের নিকট হতে অনুগ্রহ দান করে ছিলাম এবং আমরা তাকে আমাদের নিকট হতে শিক্ষা দিয়ে ছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।
৬৬। মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা’ হতে আমাকে শিক্ষা দিবেন এ শর্তে আমি আপনার অনুসরন করব কি?
৬৭। সে বলল, আপনি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না।
৬৮। যে বিষয় আপনার জ্ঞানায়ত্ত নয় সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরবেন কেমন করে?
৬৯। মূসা বলল, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না।
৭০। সে বলল, যেহেতু আপনি আমার অনুসরন করবেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে আপনাকে কিছু বলি।
৭১।অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল। পরে যখন তারা নৌকায় চড়লো সে ইহা ফুটো করে দিল।মূসা বলল, আপনি কি আরোহীদিগকে নিমজ্জিত করে দেবার জন্য উহা ফুটো করলেন? আপনিতো গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
৭২। সে বলল, আমি কি বলিনি যে আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না?
৭৩। মূসা বলল, আমার ভুলের জন্য আমাকে অপরাধী করবেন না এবং আমার বিষয়ে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।
৭৪। অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল।চলতে চলতে ইহাদের সাথে এক বালকের সাক্ষাত হলে সে উহাকে হত্যা করল। তখন মূসা বলল, আপনি এক নিস্পাপ জীবন নাশ করলেন হত্যার অপরাধ ছাড়াই। আপনিতো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
৭৫।সে বলল, আমি কি বলিনি যে আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না?
৭৬।মূসা বলল, এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাস করি তবে আপনি আমাকে সংগে রাখবেন না।আমার ওযর-আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
৭৭।অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল।চলতে চলতে তারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে তাদের নিকট খাদ্য চাইল।কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা এক পতনোন্মুখ দেয়াল দেখতে পেল এবং সে উহা সুদৃঢ় করে দিল।মূসা বলল, আপনিতো ইচ্ছা করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
৭৮। সে বলল, এখানেই আপনার এবং আমার মধ্যে সম্পর্কছেদ হলো।যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি আমি তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।
৭৯।নৌকাটির ব্যাপার-এটা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যক্তির, উহারা সমূদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করত। আমি নৌকাটিতে ত্রুটিযুক্ত করতে ইচ্ছা করলাম। কারণ উহাদের সম্মুখে ছিল এক রাজা, যে বল প্রয়োগে নৌকা সকল ছিনিয়ে নিত।
৮০। আর বালকটি, তার পিতামাতা ছিল মু’মিন। আমি আশংকা করলাম যে সে বিদ্রোহাচরণ ও কূফুরি দ্বারা তাদেরকে বিব্রত করবে।
৮১। অতঃপর আমি চেয়েছি যে তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন। যে হবে পবিত্রতায় উত্তম এবং ভক্তিতে ঘনিষ্ঠ।
৮২। আর ঐ দেয়ালটি ছিল নগরবাসী দুই পিতৃহীন বালকের।যার নীচে রয়েছে তাদের গুপ্তধন।আর তাদের পিতাছিল সালেহ বা সৎকর্মপরায়ন।সুতরাং আপনার প্রতিপালক দয়া পরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে তাদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক।আমি নিজ হতে কিছু করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য ধরতে অপারগ হয়েছিলেন এটা তার ব্যাখ্যা।

* সূরা কাহায়ের ৬৭ নং আয়াতে বেশী জ্ঞানী হযরত মুসাকে (আ.) বললেন, আপনি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারবেন না। আমাদের দেশে যাঁরা কিতাবের বেশী জ্ঞানী তাঁদের সাথে কেউ কিছুতেই ধৈর্য ধরে থাকতে পারে না। সেজন্য হেফাজতের এক দল গেল বিএনপির সাথে, এক দল গেলে জামায়াতের সাথে এবং একদল গেল চরমোনাইয়ের সাথে। এদের মত বেশী জ্ঞানীরাও এদের সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে পারে না।

সূরাঃ ১৬ নাহল, ১২৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৫।ডাক তোমার রবের পথে, হিকমাত ও উত্তম ওয়াজের মাধ্যমে। আর তাদের সাথে তর্ক কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই তোমার রব খুব জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়। আর তিনি খুব জানেন কোন সব লোক হেদায়াত প্রাপ্ত।

* আল্লাহ তাঁর পথে ডাকতে হিকমাতের শর্ত আরোপ করেছেন। হযরত আদমের (আ.) ছিল কৃষি হিকমাত। হযরত নুহের (আ.) ছিল কাঠের কাজের হিকমাত। হযরত ইদ্রিসের (আ.) ছিল সেলাই হিকমাত। হযরত ইব্রাহীমের (আ.) ছিল ভাস্কার্য হিকমাত। হযরত মুছার (আ.) ছিল পশুপালন হিকমাত। হযরত ইউসুফের (আ.) ছিল স্থাপত্য হিকমাত। হযরত দাউদের (আ.) ছিল প্রকৌশল হিকমাত। হযরত সুলায়মানের (আ.) ছিল অবোধ প্রাণীর ভাষা বুঝার হিকমাত। আমাদের মহানবির (সা.) ছিল ব্যবসায়, পশুপালন, সামরিক ও চিকিৎসা হিকমাত। হিকমাতের জ্ঞান ছাড়া কিতাবের জ্ঞান কল্যাণকর নয় বলেই আল্লাহ আগে হিকমাত দিয়ে পরে কিতাব দিয়েছেন।সুতরাং শুধু কিতাবের জ্ঞানধারীর জ্ঞান মূলত কল্যাণকর কিছু নয়। এরা তাদের জ্ঞানের চেয়ে চিৎকার বেশী দেয় এবং তাতে তারা অবোধ জনতার বাহবা পায়। হযরত খিজিরের (আ.) জ্ঞান ছিল অনেক তবে তিনি নেতা ছিলেন না। হযরত মুসার (আ.) জ্ঞান কম থাকলেও তিনি নেতা ছিলেন। সুতরাং বস্তা ভরা কিতাবের জ্ঞান মূলত নেতৃতের কোন যোগ্যতা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত সন্তান মৃত মা’কে নিয়ে জেলগেটে,পিতার কাছে শেষ বিদায় নিতে ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


একজন মৃত শিশু তার মৃত মা’কে সাথে নিয়ে এসেছিলো জেলগেট ‼️পিতা সাদ্দাম জীবিত থেকেও যেতে পারেনি। আমাদের মানবিক শান্তির দুত শ্রেষ্ঠ সরকারের রাজত্বে।
আমরা ভুলে যাবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি "না" ভোট দেব

লিখেছেন কিরকুট, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের প্রশ্নটি শুধু একটি প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়, এটি ক্ষমতা, আস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ নিয়ে বড় একটি বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে গণভোটের ঝুঁকিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলিগ কোনো ভিক্টিম না

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৭

নিশ্পাপ সাদ্দাম



সাদ্দামের মত দলদাসেরা কি বুঝবে, যে নেতার জন্য সে আজকে জেলে সেই নেতা তাকে পুছেও না? নেতা আছে মজ-মাস্তিতে। বিদেশের আরামের জীবনে সে আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিগ্রি......

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯

ডিগ্রিধারী শিক্ষিত
রক্ত চোষা জোচ্চোর,
বলছে মানুষ পুকুর চুরি-
বালিশকান্ডের খোদচোর ।

নিরক্ষর বিশ্ব নবী
শাতিল আরব বুলবুলের,
ছিলনাতো ডিগ্রি কোন
রবীন্দ্রনাথ - নজরুলের ।

বিশ্বে যখন জয়জয়কার
নিউক্লিয়াস - প্রোটনের,
এই অবদান ডিগ্রি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সবচেয়ে যোগ্য ইসলামী নেতা কে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০



সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×