
ভুল উপলব্ধি থেকেই বিভাজন তৈরী হয়। আর বিভাজন হতে হতে দল সংখ্যা বেড়ে যায়।তাহলে দেখতে হয় ভুলটা কোথায়?
০১। ‘অমান লাম ইয়াহকুম বিমা আনজালাল্লাহু ফা উলায়িকা হুমুল কাফিরূন-যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুসারে হুকুম করেনা তারা কাফির। এ আয়াতের ভিত্তিতে খারেজি বা ইবাদিরা ফতোয়া দিল যে কবিরা গুণাহ করলে কাফির হবে।অথচ এ আয়াত ‘অমান লাম ইয়াহকুম বিমা আনজালাল্লাহু ফা উলায়িকা হুমুল ফাসিকিন-যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুসারে হুকুম করেনা তারা ফাসিক; ‘অমান লাম ইয়াহকুম বিমা আনজালাল্লাহু ফা উলায়িকা হুমুল জালিমিন-যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুসারে হুকুম করেনা তারা জালিম;এভাবেও আছে।কাজেই বুঝাগেল আল্লাহর বিধান অনুসারে হুকুম না করলে কোন ক্ষেত্রে কাফির হবে, কোন ক্ষেত্রে জালিম হবে আর কোন ক্ষেত্রে ফাসিক হবে। তারমানে আল্লাহর বিধান অনুসারে হুকুম না করলে সব ক্ষেত্রে কাফির হবেনা।তারমানে কবিরা গুণাহ করলে সব ক্ষেত্রে কাফির হবেনা, কোন কোন ক্ষেত্রে কাফির হবে।যেমন আপনি যদি বলেন আল্লাহ নেই বা মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নবি নন তবে আপনি কাফির হবেন।কিন্তু আপনি এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছেন, এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েননি তাহলে আপনি কাফির না হয়ে বরং ফাসিক হবেন। আর এভাবে কোরআন ভুল বুঝে খারেজি বা ইবাদিরা আলাদা দল গঠন করেছে। এখানে দায় ভুলের।
০২।‘শীয়ায়ে আলী বা আলীর দল নাজাত প্রাপ্ত’ মহানবির (সা.)এমন হাদিস থেকে শীয়া দল গঠিত। অন্য মুসলমানের মতে এটা মহানবির (সা.) হাদিস নয়।কারণ আল্লাহর দল ও মহানবির (সা.) দল নাজাত প্রাপ্ত নয় এমন বলার সুযোগ নেই। তাহলে দল হয় তিনটি। অথচ কোরআনে একদল থাকতে বলা হয়েছে। কাজেই শীয়ায়ে আলী সংক্রান্ত হাদিস কোরআন বিরোধী। হাদিস কোরআনের ব্যখ্যা। কোরআনের ব্যখ্যা কোরআনের বিরোধী হওয়া সম্ভব নয়। সংগত কারণে ‘শীয়ায়ে আলী’ সংক্রান্ত হাদিস হাদিস নয়।কাজেই জাল হাদিসের ভিত্তিতে শীয়ারা আলাদা দল গঠন করেছে। এখানেও ভুলের দায়।
০৩। একদল বলছে সঠিক দল হলো আহলে হাদিস। এখানেও প্রশ্ন আহলে কোরআন সঠিক দল নয় কেন? এখানেও ভুলনামে দল করে দল সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এভাবে ভুলে ভুলে মুসলমানদের মাঝে বহুদল হয়ে পড়েছে।মানুষ মাত্রই ভুল আছে। কাজেই ভুলের কারণে মুসলমানদের বহুদল হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামের কোন দায় নেই। এটা শ্রেফ ভুলের দায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


