somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি [email protected]

ছুটি

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাঝে মাঝে সংসার থেকে ছুটি নিতে হবে
সন্ততির কোলাহল-মধুর সান্নিধ্য ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হবে
বর্তমানের খোলস ছিঁড়ে উদ্দাম অষ্টাদশে ফিরে যেতে হবে

সবুজ পেয়ারাগাছে যে যুবতী এ-ডাল ও-ডাল ছুটে বেড়াচ্ছে, লাল রঙের
ওড়না পেঁচিয়ে কোমরে, সোনালি চরণে রুপোর পায়েল,
চিকন আগডালে ঝুঁলে পড়ে তুলে আনছে পক্ব পেয়ারা, মুখভর্তি রস-
কারণে অথবা অকারণে হেসে গড়িয়ে পড়ে বান্ধবীদের গায়;

সে তখন বালিকা- চপলাচপল হেঁটে যায় রাস্তায়
স্কুল অথবা কলেজে-
একটি যুবক প্রতিদিন চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকে, যে-পথে যুবতী হেঁটে যায়
একটি যুবক প্রতিদিন চুপিচুপি পিছু নেয়, যে-পথে যুবতী এঁকেবেঁকে চলে
একটি যুবক মিছেই ভীরু ছিল খুব, একদিন সাহসী হয়ে ওঠে, তীর ছোঁড়ে
শরাহত বালিকা কতো না উদগ্রীব ছিল ঘায়েল হবার জন্যেই- আহা,
নিমেষেই কুপোকাত।
একদিন মেয়েটির কাছে ফিরে যেতে হবে-

চলো, কিছুদিন ছুটি নিই।
গেরস্থালির হাড়মাংস ঝেড়েঝুড়ে নিপাট নির্জনে যাবো।
আঠার অথবা বিশ- টগবগে, দুর্ধ্বর্ষ দিন
আমাদের মাঝখানে বিলকুল কিছু নেই, আমরা দুজন যাবতীয় জঞ্জালহীন।

সদ্য প্রেমে পড়া যুগলের মতো একদিন ছুটে যাবো শালবন বিহার, যমুনার চর,
আনন্দ রাজার দিঘি, ধনবাড়ির পুরোনো জমিদার বাড়ি।
একদিন ভোরে রিভার ভিউ'র ভেজা বালুতে খালি পায়ে হাঁটবো। বেড়ালের লোমের
মতো শাদা ও নরম থোকা থোকা কাশফুল, স্নিগ্ধ মনোরম- তোমার গাল ছুঁয়ে দেবো,
আর চোরা চোখে চারদিক পরখ করে বার বার 'অসভ্য' হবো।
টিএসসি চত্বরে আর নয়, একুশে বইমেলা আরেক জীবনে। সিনেপ্লেক্স বড্ড যান্ত্রিক।
আজকাল সেভাবে সিনেমা দেখে না কেউ। আমরা পালিয়ে
সিনেমা দেখবার লোভে খুঁজতে যাবো 'জয়পাড়া সিনেমা' হল, যার দালানের গায়ে
একদা কে যেন লিখেছিল 'খ' যোগ 'ল'।

মাঝে মাঝে ছুটি নিতে হবে, ভুলে যেতে হবে আমাদের বয়স বেড়েছে
প্রতি ৫ মিনিটে মিস্‌ড কল না পেলে বাঘিনীর মতো হিংস্র হয়ে উঠবে
ডেটিং প্লেসে পৌঁছবো না, কিংবা পৌঁছবো ঠিক ঠিক একবেলা দেরি করে
আর তুমি ভয়ানক ফণা তুলে বিড়ায় বসে ফুঁসতে থাকবে
গভীর ভিড়ের মধ্যেও মওকা খুঁজবো, রিকশাতে হুড ফেলে দেবো,
একটু অন্ধকার পেলেই যত্তোসব 'অসভ্যতা'- তুমি জোর করে
হাত ফিরিয়ে দাও- অথচ মনে মনে জোর করো!
আমরা লঞ্চের রেলিঙে বসে ঝালমুড়ি খাবো- বান্দুরা-কলাকোপা-ইছামতির ঢেউ
আমরা ভুলে যাবো মর্ত্য অথবা অমরাবতীর কথা- তোমার অমৃতের চেয়ে
আর কিছু আরাধনা নেই

ভাটিমাইন চূড়ায় যেদিন হেলিকপ্টার নামলো, মাটিতে পা ফেলে ২০ গজ দূরে
এক ভিক্ষুকে দেখি- ভিক্ষু নয় সে, সন্ন্যাসী। সন্ন্যাসী নয় সে, মহান প্রেমিক।
কী গভীর তার ধ্যান! তার ক্ষুদ্র একটা ছাপরাঘর ছিল। ছিমছাম অন্ধকার।
দিন যায়, রাত আর কুয়াশা, এবং মেঘ উড়ে আসে ছাপরাঘরে।
থির সন্ন্যাসী জেগে থাকে ধ্যানের ভিতর- পিঁপড়া, মশা, সরীসৃপ দংশন-
বেজায় নস্যি।

সংসার পেছনে পড়ে থাক, সন্তানেরা একদিন ওদিকটা সামলাক-
ওদেরও ছুটি চাই, শাসন-বারণ থেকে বিস্তর স্বাধীনতা চাই।
ওরা নিজেরাই একদিন নিজেদের মা অথবা বাবা হয়ে উঠুক।
দেখা যাক- লাবিবের গোসল হলো কিনা, ইশকুলের হোমটাস্ক কে করে দিল;
ঐশীর টিফিন কে বানালো, আর সাইফকে কে দিল ঘুম থেকে জাগিয়ে।

আমরা একদিন ছুটি নিয়ে হাইকিঙে যাবো, ১৮০৩ ফুট আপ-হিল বেয়ে
ভাটিমাইন চূড়ায় উঠবো- বিস্তৃত কালাপাহাড় পুরোটাই দখলে;
ভিক্ষুকে দিয়ে ছুটি
ক্ষুদ্র ছাপরাঘরে গড়বো আমাদের জন্য অন্য একটি পৃথিবী।



জীবনে সজীবতা আনে ছুটি, ছুটিতে ভীষণ চাঙ্গা হয়ে উঠি-
এজন্য একদিন ছুটি নিতে হবে, ভাবনাহীন নির্ভেজাল ছুটি।

চলো, আজই ছুটি নিই।




সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৪৩
২১টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথার বুলেট ছুড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?

দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।

এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×