somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বসে থাকা

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলিফ্যান্ট রোডে জরুরি ছবি তোলা যায়, লেজারপ্রিন্ট, ঢাকা শহরের সেরা, এ কথা যখন বলছিলি, তখনও আমার মাথায় সূর্য গলে পড়ছিল, আর আমি বসুন্ধরা সিটির উন্মুক্ত ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টের রিভল্ভিং চেয়ারে তোর হাত ধরে মুখোমুখী বসবার সবটুকু অবয়ব ভেবে ভেবে সূর্যকে দ্রুত পেছনে ফেলে যাচ্ছেতাই একটা ক্যাবের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে মোবাইলস্ক্রিনে তোর ডাকের অপেক্ষায়।

বাংলাদেশের সেল্‌সগার্লরাও আজকাল অত্যাধুনিকা, সুন্দরী ও তুখোড় স্মার্ট – ওদের রোশনাইয়ে ঝলমল করে মডার্ন শপিংমলের বাহারি বিপনিপুঞ্জ। আমি যেখান থেকে দৌড়ে ছুটেছিলাম উন্নত কোয়ালিটির ছবি তুলবো বলে, তোর কথায়, বিগত বছরগুলোর গতানুগতিক পাসপোর্ট আর স্ট্যাম্প সাইজ ছবির সবগুলো নেগেটিভ ওরা সযত্নে তুলে রেখেছে, ‘চাহিবামাত্র’ প্রিন্ট দেবার প্রস্তুতিসহ। ওরা খুব সমীহ করে, ব্যক্তির চেয়েও পদের কারণে।

এলিফ্যান্ট রোডের ক্যামেরাম্যান জানালো সবকিছু এলোমেলো–
‘ছবি কি কাল নিলে হয় না?’
‘না। আধঘণ্টা বড়োজোর।’
‘দু ঘণ্টা সময় কি দেয়া যায়? রাত আটটায়?’
‘নোও। হাফ অ্যান আওয়ার অ্যাট বেস্ট। অর, আই কুইট।’
মেয়েদের মধ্যে কী আছে জানি না। ওরা সব পারে। মেয়েরা কীভাবে ভেঙে গুঁড়ো করে দেয় পাহাড় ও পাথর? সুন্দরীদের সাথে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে, বিশ্বাস করি না। মিষ্টি সেল্‌সগার্ল, যার কণ্ঠস্বর ততোধিক সুরেলা, বললো, ‘ভাইয়া, আপনি এখানটায় বসুন প্লিজ। হয়ে যাবে।’

একমুহূর্ত শেষে ৩০ মিনিট পার হয়ে গেলে ‘এ নিন ভাইয়া, আপনার ছবি’ বলে যখন মেয়েটি প্যাকেট বাড়িয়ে বিলের কাগজটা এগিয়ে দিল, তখনও আমি স্টুডিয়োর দরজার দিকে সটান তাকিয়ে। একটা কবিতার মতো লতানো গ্রীবা উঁকি দিয়ে সুনিশ্চিত আমার পানেই ধেয়ে আসবে - পিঠে পেলব হাত রেখে বলবে – ‘দেরি হয়ে গেল রে...’

ক্যামেরায় শট দিয়ে এলিফ্যান্ট রোডে ভিড়ের ভেতর আমরা হাঁটবো; আজও আমি কালো প্যান্টের কাপড় খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে গেলে তুই সবচেয়ে অপছন্দের কাপড়টাকে ‘এটা খুব ভালো লাগে’ বলে তীব্র বকা খাবি; ফুচকা খেতে বসে অহনার কথা পাড়বি – ওর জন্য খুব মায়া হয় বলে; বেইলি রোডে কি নাটক দেখা যায় আজকের সন্ধ্যায়? ‘খোঁজ দ্যা সার্চ’, বাংলাদেশে ওয়েস্টার্ন স্টাইলের দুর্দান্ত ছবি এই প্রথম, চলছে বলাকায় – তুই যখন ইডেনে পড়তি, একদিন বলাকায় সিনেমা দেখতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তুই বার বার চুল টেনে ঘুম ভাঙিয়েছিলি – আজও সেরকম হতে পারে – সিনেমা হলে আমার সবচেয়ে আরামপ্রদ ঘুম হয় মনে হয়; বসুন্ধরার সিনেপ্লেক্সে আজও যাই নি – কীভাবে কোথা থেকে টিকেট কেটে কোথা দিয়ে ঢুকতে হয়, তা আমায় শেখাবার কথা ছিল তোরই;

এরপর মহাকালের হিসাবে খুব অল্পই কেটে গেছে। আর, আমার ভেতর থেকে বেড়ে উঠছে পাহাড় ও পাথর। আমি বসে আছি। ইংল্যান্ডের ফলো অনে পড়ে বাংলাদেশ যখন টগবগ করে জ্বলছিল সেকেন্ড ইনিংসে, কমিউনিটি টেলিভিশনের সামনে যখন উপচে পড়ছিল দর্শক, আর একটি উইকেটও যেন না পড়ে আজ চতুর্থ দিনের শেষ দশ ওভারে, এমন প্রার্থনার পরও সবাইকে হতাশ ও বাকরুদ্ধ করে আশরাফুল যখন প্যাভেলিয়নমুখি, আমি তখনও মনেপ্রাণে আকুল বেদনায় ঘামছিলাম, এই তুই ফোন করে বলবি - ‘আমার খুব ভুল হয়েছে; শেষবারের মতো মাফ করা যায় না?’


আমি
বসে
আছি।

আমি
বসে
থাকি।

অনন্তকাল।

৩১ মে ২০১০

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১০:৩৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×