somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেয়েটি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যা যা লিখেছিল

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগস্ট

একটা মিথ্যেবাদী। ভালোবাসতে জানে না সে, কথা রাখতেও শেখে নি। আমি সাঁতার কেটে মাঝনদীতে গিয়েছি আর চিৎকার করে বলেছি : প্রেম তার নেশা। বলেছি : অভিনয় করেছে, আমার একা থাকার শান্তি খেয়েছে।

সেপ্টেম্বর

কী করে এমপি-থ্রি’টা অন করবো জানি না। তোর গান আর শোনা হলো না।

রুপার সাথে তোর দেখা। আহা, কতদিন ধরে জমিয়ে রাখা প্রেম, তোকে দেখেই সে-প্রেম মুহূর্তে উথলে ওঠে। সব শুনেছি। যত কষ্ট দিবি, নিজেকে ততই বোঝাবো।

রুপার সেলনাম্বার চেয়েছিলাম। কীসে তোর এত ভয়? তোকে নিয়ে আর কোনো কষ্ট নেই, তোর স্বাধীনতা তোরই থাক।

অক্টোবর

বিজনেস স্টার্ট করার পর তোকে খুব দরকার হতো, ঠিক এ সময় তুই চলে গেলি! বাবা নেই, ভাইয়া নেই, আমাদের এলাকাটা ভালো না। এত টাকার বিজনেস, খুব ঝুঁকি। তুই আমার ডানহাত ছিলি... সেই ডানহাতটা ভেঙে সরেও গেলি। কত টেনশন মাথায়। কী করে পথ চলবো জানি না। দোয়া করিস।

খুব বেশি স্যাক্রিফাইস করেছি তোর জন্য। আর কখনো যেন ইমোশনাল হয়ে না পড়ি; আমার প্রতিও অন্য কেউ না হয়; দোয়া করিস।

যদি পারতাম, সব পাই-পাই করে ফিরিয়ে দিতাম। তোকে টাকার পাল্লায় তুলতে পারলে কষ্ট কমতো।

তুই এত ভালো কেন? তোকে হারিয়ে অনেক কষ্ট। দোয়া করিস।

নভেম্বর

আমি তো এমন প্রেমিক চাই নি, অপরাধ ঢাকতে যে-প্রেমিক পায়ে পায়ে প্রেমিকার দোষ খোঁজে।

আমায় ভালোবাসতিস, সে প্রমাণ আজও দিতে পারিস নি। আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তোর জন্য আমার স্যাক্রিফাইস বড্ড বেশি ছিল।

তোকে কোনোদিনই আর ভোলা হলো না। তুই ভালো থাকিস।

ডিসেম্বর

রিলেশন আর নেই; প্রয়োজন ফুরোলে কেউ রাখে না। তোর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি তোকে আজও খুঁজি। তুই ভালো থাকিস।

আমাকে অনেকগুলো টাকা ঋণ দিয়েছিলি; ফিরিয়ে দিলাম, নিজের কাছে সামান্য রেখে; যদি ইচ্ছে হয় কোনোদিন তোর থেকে কিছু পাবার, ও-টাকায় কিনে ভাববো- এ তোরই দেয়া উপহার। তুই ভালো থাকিস।

জানুয়ারি

আমাকে অনেক দিয়েছিস, আমি পারি নি কিচ্ছুটুকুন; যা দিয়েছি তার কোনো বাজারমূল্য নেই : মহার্ঘ সময় - যখন তোকে ছাড়া আমি আর কিছুই ভাবি নি। তবু তুই ভালো থাক।

আমি তোকে খুঁজবো। যা কিছু তৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছিল, তোরই জন্য। তুই আরো কঠিন হ, আরো আরো - সীমারের চেয়েও। তবু তুই ভালো থাক।

ফেব্রুয়ারি

আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না।

যা পেয়েছি তার চেয়ে কঠিন কোনো শাস্তি দিতে পারবি? আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না। তুই ভালো থাক।

অনেক দিয়েছিস। কোনো হিসেবেই তার দাম হয় না। এটুকু ঋণ নিয়ে চলে যেতে হবে।
আমাকে আর কেউ, আমার বাবাও এত ভালোবাসে নি রে... আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না। তুই ভালো থাক।

মার্চ

আমার সেলফোন থেকে তোকে কল করলে ‘busy’ পাই, কিন্তু অন্য নাম্বার থেকে করলে তা হয় না। আমাকে কতভাবেই না বোকা বানালি। সান্ত্বনা - তোকে ভালোবেসেই ঘিলু খুইয়েছি। সত্যি ভালোবাসায় এমনই হবার কথা ছিল। তাই তো সংসার ছেড়েও সংসারী হতে পেরেছি। তুই পেরেছিস? তুই এমন কেন?

অতি ‘কাজে’ ব্যতিব্যস্ত তুই। তাই একদণ্ড সময় নেই আমাকে দেবার। আমাকে অনেক মূল্যবান কাজে সময় দিতে হয়। একটু কোর্টে গেলাম। যাবার আগে বলে গেলাম : সেলফোন ‘অন’ রাখিস। তুই এমন কেন?

ভালো লেখার শক্তি যদি থাকে, বই ছেপে স্বীকৃতি পাবি। ‘অপদার্থ’ কবিরাই মোবাইলে মেয়েদের কবিতা শোনায়। কবিতায় রুপার অনুরাগ কি অনেক বেশি? আমার চেয়েও?

তোর কণ্ঠ আমায় পাগল করে দিল। তুই এমন কেন?

এপ্রিল

তোর সাথে আর কী কথা থাকতে পারে? আমি ভুল করেছি, শাস্তিও পাচ্ছি। বিশ্বাস মরে গেছে, মনও। যতবার গোলচক্করে যাই, জিরো পয়েন্টের দিকে তাকিয়ে বলি : ভুল মানুষের পথে হেঁটে ভুল করেছি।

মে

জানতাম, যে-কোনো অজুহাতেই চলে যাবি। সব জেনেই সব ফেরত দিলাম। দিতে পেরে হাওয়ায় ভাসছে কাঁধ। একদিন সুদগুলোও পাঠিয়ে দেব।

তোকে কত ভালোবেসেছি তা শুধু এ মন জানে। তোর কোনো কষ্ট, কোনো ক্ষতি চাই না আজও। খুব কষ্ট হয় তোর জন্য, পাঁজরে ব্যথা হয়; তবু নিজেকে বোঝাই : তুই আমার কেউ না।

আমি মিথ্যে বলি না তুই জানিস। তবু কিছুই হলো না। কোনোদিনই হবার নয়।

তোর জন্য ন্যাড়া ভিক্ষু সেজেছি সুকেশী অপ্সরা। সুখ এটাই ভালোবাসতে পেরেছি। জাত-মান-কূল সব হারালাম। বিনিময়ে দুঃখ দিলি। ‘প্রেমিকা’ স্বীকৃতিটুকুও আমার পাওয়া হলো না।

তোর উপেক্ষাই আমাকে বহুদূর ঠেলে নিয়ে যায়, তোর টানেই আবার ফিরে আসি।

সবকিছু একদিন পাঠিয়ে দেব, যা কিছু পাবি। কোনো মহার্ঘের বিনিময়ে তোকে চাই নি। শুধু লোভ হয়েছিল তোর মনটার। আমার বুকের ভিতর ঘণ্টির মত তোর কণ্ঠ বেজে চলে। আমাকে পাগল করে দিল।

যে চলে যাবার, সে চলে যাবে। বনের পাখিরা বনের আকাশে সুখ বাঁধে।
তুই চলে যা।
তুই চলে যা।
চলে যা।

ভালো থাকিস।
ভালো থাকিস, পাখি।
ভালো থাকিস জাদুসোনা, টিয়ে।
ভালো থাকিস অফুরন্ত, ভীষণ দিনগুলোতে...

জুন

........

জুলাই

........

এরপর যতদিন মেয়েটা বেঁচেছিল, নিয়মিত মেসেজ পাঠাতো। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর সেগুলো তার সেলফোনে ‘মেসেজ সেন্ড ফেইল্‌ড’ হিসাবে ভেসে উঠতো।


২৬ আগস্ট ২০০৮


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:৫৯
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের জন্যে আপনি কি করতে পারেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



পৃথিবীতে অনবরত বিভিন্ন ধরণের কাণ্ড ঘটে চলেছে, যা একজন মানুষের মনকে ভারাক্রান্ত করতে বাধ্য। হামে কাছের মানু্ষ মারা যাচ্ছে, দুর্ঘটনায় বন্ধুর মৃত্যু কিংবা ইরান - যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে প্রাণহানি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×