somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি গল্প-সংকেত দিলাম, আর চ্যাটজিপিটি আমাকে পূর্ণাঙ্গ ছোটোগল্প দিল :) গল্পের নাম 'বিষদাহ'

০৬ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন চ্যাটজিপিটি'র উপর ব্লগার নতুন ভাইয়ের পোস্টসহ বেশ কয়েকটা পোস্ট এসেছে ব্লগে। গত বছর দুয়েকের মধ্যে ব্লগার জলদস্যু ভাইও চ্যাটজিপিটির আউটপুট নিয়ে মজার পোস্ট দিয়েছিলেন। আমি গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়ের জন্য বেশ আনকমন একটা বিষয়ের উপর ছোটোখাটো একটা রিসার্চ পেপারের কাজ করেছিলাম। নিঃসন্দেহে চ্যাটজিপিটি খুবই ইউসফুল, স্বল্প সময়ে আপনাকে ভালো আউটপুট দিবে।

তবে, আমার ক্রিয়েটিভ কোনো কাজের জন্য এখনো চ্যাটজিপিটির দ্বারস্থ হই নি। আমি জানি, যৎসামান্য যা-ই এক-আধটু ঘিলুতে আছে, চ্যাটজিপিটি দিয়ে গান, গল্প, কবিতা লেখালে সেটুকু অল্প ক'দিনেই নিঃশেষিত হয়ে যাবে :) মাসখানেক আগে একবার একটা লিরিক লিখতে বলেছিলাম চ্যাটিজিপিটিকে, কিছু ক্লু দেয়ার পর সে যা প্রডিউস করে দিয়েছিল, তা দেখে আমি বরং আরো বেশি দমে গিয়েছি।

চ্যাটজিপিটি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে আবার একটু চ্যাটজিপিটিকে নিয়ে খেলার ইচ্ছে হলো। এর আগে আমি 'বিষদাহ' নামক একটা গল্প (বা মুভি-স্ক্রিপ্টও বলতে পারেন) লিখেছিলাম। ওটার উপর ছোটো একটা থিম দিলাম চ্যাটজিপিটিকে, আর বললাম ৫০০ শব্দের একটা ছোটোগল্প লিখে দিতে। নীচে আমার গল্পের লিংক দিলাম। তারপর চ্যাটজিপিটিকে দেয়া আমার গল্পের থিম বা সংকেত। সব শেষে পড়ুন চ্যাটজিপিটির বানানো ৫০০ শব্দের ছোটোগল্প, যদিও এখানে শব্দসংখ্যা ৫০০ হয় নি, বড়োজোর ২০০ হয়েছে। আর এটাকে একটা ফানপোস্ট হিসাবে বিবেচনা করতে অনুরোধ করছি। সেই সাথে ক্রিয়েটিভ মাইন্ডেড সম্মানিত ব্লগারদের প্রতি অনুরোধ রাখছি, দয়া করে আপনার ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কের জন্য চ্যাটজিপিটিকে কিছু করে দিতে বলবেন না, আপনার ক্রিয়েটিভিটির ১২/১৩টা বাজিয়ে দিবে বলে আমার বিশ্বাস :)

বিষদাহ, পর্ব-১

বিষদাহ, পর্ব-২

বিষদাহ, পর্ব-৩


চ্যাটজিপিটিকে দেয়া আমার থিম


নীচের বর্ণনা মোতাবেক ৫০০ শব্দের মধ্যে একটা ছোটোগল্প লিখুন।

একটি সিনেমার শ্যুটিং হচ্ছে। একজন নায়িকা একজন নায়কের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে সিনেমায় অভিনয় করে। অভিনয় সূত্রে তাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। অভিনয়ের সময়ে তারা একে অপরকে খুব আবেগঘন অবস্থায় বাহুবন্দি করে। এতে উভয়েই খুব আনন্দ পায়।

এ সিনেমাটি শেষ হলে নায়িকাটি অন্য এক নায়কের সাথে আরেকটি সিনেমার শ্যুটিং করে। সেখানে নায়ক হলো অন্য একজন। দেখতে দেখতে সেখানেও নায়িকাটি খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে নায়কের সাথে। প্রথম নায়কের সাথে তার যে-রকম ঘনিষ্ঠতা ছিল, দ্বিতীয় নায়কের সাথেও ওরকম মধুময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রথম নায়ক একদিন শ্যুটিং স্পটে এলো। নায়িকাটি তার সাথে দেখা করতে এলো, সাথে দ্বিতীয় নায়ক। তার সাথে কুশলাদি বিনিময়ও হলো, কিন্তু আগের সেই সখ্যতা বা আবেগের ছোঁয়া পাওয়া গেল না। প্রথম নায়ক খুবই কষ্ট পেলো। সে বুঝতে পারলো, এ নায়িকার সাথে তার যে-রূপ ঘনিষ্ঠতা ছিল, দ্বিতীয় নায়কের সাথেও সেইরূপ ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সে কোনোদিন কল্পনাও করে নি এই নায়িকা কোনোদিন অন্য কারো বাহুবন্দিনি হতে পারে। বিষাদে তার মন ছেয়ে গেলো।


চ্যাটজিপিটির বানানো গল্প

সকালের রোদ গোধূলির আলোয় মিশে এক রঙিন সুর তৈরি করছে। সিনেমার শুটিং স্পটে সবাই ব্যস্ত, ক্যামেরার লাইট, ক্রু মেম্বারদের চিৎকার, সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। নায়িকা রূপা এবং নায়ক অভি আজকের শটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দুজনেই নামকরা অভিনেতা, এবং এই সিনেমার গল্পের মতই তাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কও গভীর। শুটিংয়ের সময় তারা একে অপরকে খুব আবেগঘন অবস্থায় বাহুবন্দি করে অভিনয় করত, যেন ক্যামেরার সামনের মুহূর্তগুলি সত্যিই তাদের জীবনের অংশ।

সিনেমাটি শেষ হলে রূপা আরেকটি নতুন প্রজেক্টে কাজ শুরু করে। এবার তার সহ-অভিনেতা রণ, একজন তরুণ এবং প্রতিভাবান নায়ক। রূপা এবং রণের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। শুটিংয়ের সময় তাদের একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলি যেন বাস্তব জীবনের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

একদিন অভি পুরনো দিনের স্মৃতিতে ভেসে শুটিং স্পটে আসে। রূপাকে দেখতে পেয়ে তার মন আনন্দে ভরে ওঠে। কিন্তু স্পটের দৃশ্য দেখে অভি হতবাক হয়ে যায়। রূপা রণের সাথে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্কের ছাপ স্পষ্ট। রূপা অভিকে দেখে এগিয়ে আসে, কিন্তু তার সাথে রণও আসে। প্রথমে কুশল বিনিময় হয়, কিন্তু অভি অনুভব করে রূপার চোখে সেই আগের উষ্ণতা নেই।

অভি স্তব্ধ হয়ে যায়, তার মনে পরতে থাকে পুরনো দিনের স্মৃতি। শুটিংয়ের সময় তাদের একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত যেন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সেই আবেগময় বাহুবন্দি, সেই উচ্ছ্বলতা, সব কিছুই এখন অতীত।

অভির মন বিষাদে ভরে যায়। সে বুঝতে পারে, রূপা এখন রণের সাথে নতুন এক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। তার মনে হয়, রূপা কিভাবে অন্য কারো বাহুবন্দিনি হতে পারে, এই প্রশ্ন তাকে গভীরভাবে আঘাত করে।

রূপা কিছু বলার আগে অভি চুপচাপ শুটিং স্পট ছেড়ে চলে যায়। তার মন ভারাক্রান্ত, কিন্তু সে উপলব্ধি করে যে জীবনের পথ এভাবেই চলে। সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়, মানুষ পরিবর্তিত হয়।

অভি তখন নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে। সে শিখে যায় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মেনে নিতে হবে। যা চলে গেছে, তা আর ফিরে আসে না।

শহরের ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অভি নিজেকে আবার খুঁজে পায়। জীবনের নতুন পথে হাঁটার জন্য সে প্রস্তুত হয়। রূপার সাথে কাটানো সময়গুলিকে স্মৃতির আল্পনায় রেখে অভি নতুন জীবন শুরু করে।

সেই দিনটি অভির জীবনে এক নতুন উপলব্ধি এনে দেয়। তার মন যেন একটা নতুন গান গায়, যেখানে হারিয়ে যাওয়ার কিছু নেই, শুধু নতুন সূর্যের অপেক্ষা। অভি বুঝতে পারে যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই একটি নতুন অধ্যায়, এবং সেই অধ্যায়কে মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়।


ফুটনোট

চ্যাটজিপিটির বানানো গল্পটি আমি এখনো পড়ি নি, পড়বো পোস্ট পাবলিশ হবার পর। কোনো বানান-ভুল বা অন্য কোনো অসংগতি যদি পাওয়া যায়, সেটা তখন সংশোধন করে দিব।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৪৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিপক্ক সময়ে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২২

পরিপক্ক সময়ে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

একটি মুরগী আর একটি মোরগ
পরিপক্ক সময়ে হঠাৎ মিলিত হলো
এরপর মুরগী ডিম পাড়া শুরু করলো
ডিম পাড়া শেষে, চালাকি করে-
মুরগীর মালিক হাঁসের ডিম দিয়ে দিলো
মুরগী নিশ্চিন্তে তা দেওয়া আরম্ভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইতিহাসের কাঁটাছেঁড়া ও পাঠ্যবইয়ের নতুন লড়াই

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



রহিমা বেগম তার মেয়ে সামিয়ার নতুন বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছিলেন। অষ্টম শ্রেণির বাংলা বই। গতবছর বড় ছেলে এই বইটাই পড়েছিল। কিন্তু এবারের বইটা দেখে তার চোখ কপালে উঠল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ হায়েনাদের দখলে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪



আমাদের দেশটা অনেক ছোট। কিন্তু জনসংখ্যা অনেক বেশি।
এই বিশাল জনশক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলো। ১৯৫২ তে হলো ভাষা আন্দোলন। আর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের ভাষা যখন রাজনীতির ভাষা: বাংলাদেশের অতি পুরাতন নতুন বিপদ!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩২


বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন একটি ধারণা ছিল যে, ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজনীতির ভাষা ধর্মীয় হবে না। মানুষ ধার্মিক হতে পারে, কিন্তু আইন, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন বছরের শুভেচ্ছা

লিখেছেন সাবিনা, ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৪



প্রিয় ব্লগার,
নতুন বছরের শুভেচ্ছা সবাই কে।

Samina Mart ...বাকিটুকু পড়ুন

×