উপক্রমণিকা
এ কেমন তুমি - ভাগ হয়ে অজস্র নদী, উপনদী
নিরন্তর বয়ে চলো, জন্ম থেকে জন্মান্তর অবধি!
তোমাকে ছুঁয়ে দেখি - স্পর্শে বিচ্ছুরিত হিরন্ময় দ্যুতি;
তোমার হয় না ভুল, বিলকুল ঘটে না বিচ্যুতি।
হে নদী, আকুলা স্রোতস্বিনী-
তোমাতেই প্রোথিত আমার অগ্রন্থিত সমগ্র কাহিনি।
ডাকাতিয়া নদী
বিছুটি বিছানো পথে কচি কচি আলোঘাস সুন্দর স্বপ্নের মতো হাসে
আঁকাবাঁকা আ’ল ধরে কতদূর হেঁটে গেছি ভেঙে ভেঙে সকালের দূর্বাশিশির
ধু-ধু চরের মতো আজ সব ঝাপসা অন্ধকার
একটি ছায়ার মতো স্মৃতির অবয়ব বার বার জেগে ওঠে,
আবার গলে পড়ে সূর্যের ভেতর
আমি কিছুই বুঝি না আজও– কে আমারে নিয়ে গেছে বহুদূর সপ্তসিন্ধু পাড়ে
বালুচরে ফেলে রেখে মৃতকোষ, জীর্ণ দেহখানি
একদিন ভোরে উঠে দেখি, সব নদী ভরে গেছে কুসুমে কুসুমে
আর ধবল মেঘেরা উড়ন্ত কাশফুল সুস্নিগ্ধ নীলে
কতদিন লুকিয়ে কেঁদেছি এমন একটা ভোরের বাসনায়
সন্ধ্যার বলাকারা বহুদূর ভেসে গেছে আনন্দ কোলাহলে-
কত সাধ হতো আমিও মিশে যাই পাখির ভুবনে-
আমারে ডাকে নি ওরা ওদের মিছিলে
পৃথিবীতে কিছুই যাও নি রেখে
আমার জন্য, হে পলাতকা পাখি, নদী ও কুয়াশা
আচানক তোমাদের দেখি আর দু ফোঁটা অশ্রুতে
উপশম খুঁজি, নিত্য, নিরবধি
আমারে শান্তি কে দেবে? নদীর দহনে জল কোথা পাবো, বলো!
২৬ আগষ্ট ২০০৯
অলৌকিক নদী
পাতার শিয়রে শিশিরের রং মেখে রৌদ্ররা বালুহাঁস
অখণ্ড জমিনে বার মাস তুলেছো দেয়াল রাতকে সাক্ষী না রেখে
অমোঘ শব্দব্যাধ ক্ষেপে গেলে শব্দের সংহারে
তুমিও পক্ষ নিয়েছ নিঠুর নিয়তির
আমি আর ভেজাবো না ঘাসপাতা জোছনার রং মেখে
অখণ্ড জমিনও নিলামে উঠুক
এসব শব্দাশব্দ খেলাগুলো নির্জন রাস্তায় তুলে রাখো
পাহাড়ের ওধারে শুকনো নদীরাপাখিদের সাথে জলকেলীরঙ্গে
আমিও নাববো এবার
১৮ অক্টোবর ২০০৯
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২৫ রাত ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



