সেই কয়েক বছর আগে শুনেছিলাম শাহেদের গান- হিট করা দরকার…। হয়ত গানের টাইটেল টা এটি নাও হতে পারে। কিন্তু তার গানের কথার সাথে বর্তমান সমাজের অনলাইনে এর প্রতিফলন দৃশ্যয়মান। অনলাইন নির্ভর উঠতি প্রজন্ম সল্প সময়ে সেলিব্রিটির রং লাগাতে এখন বিভর। হোক না তা পজিটিভ বা নেগেটিভ তাতে কি আসে যায় ! তবে এ সমাজে যেন পজিটিভ কাজ করে হিট করার চেয়ে নেগেটিভ ভাবে হিট করাটা যেন সহজ হয়ে গেছে। আর এর উন্মুক্ত মাধ্যম হচ্ছে সহজলভ্য ফেইসবুক, ব্লগি্ং ,সোশ্যাল শেয়ারিং মাধ্যম গুলো। যদিও এই মাধ্যমগুলোকে খোলা সাদা পাতার সাথে তুলনা করলে ভুল হবে না। আপনি এই পাতাতে বাংলা,ইংরেজি, হিব্রু,আরবি,হিন্দি লিখবেন না গানিতিক যুক্তি লিখবেন তা একান্তই আপনার নিজের ব্যপার। কিন্তু সমাজ এটিকে কিভাবে গ্রহন করবে সেদিকে কিন্তু আপনাকেই খেয়াল রাখতে হবে। কেননা আমারাই তো সামাজিক জীব আর আপনি তো সামাজিক মাধ্যমেই এসব লিখছেন।
এ দেশের টাইগার খ্যাত ক্রিকেটাররাও রক্ষা পাইনি কটূক্তি থেকে হোক না সে ছবি তার বউ বা বোনের। এই টাইগারদের কর্মের বিজয়ে নিজেকে বাঙালি বলে উন্মাদনায় ভাসিয়েছে অথচ তাদের ছবি বা স্ট্যাটাসে ঘৃণার বীজ বুনতে ভুল করেনি 'হিট' করতে চাওয়া ফলোয়াররা।
ধর্মকে নানা যুক্তি দিয়ে মিথ্যা বানানোর খেলা খেলেছেন এই মাধ্যমেই আবার এই ধর্ম কেই পুঁজি করে অনলাইনে কোট্টরপন্থী লেখা লিখছেন অনেকে, চালাচ্ছেন ধার্মিক বই,সিডি,ট্যাব,ফোন বা অনলাইন কোর্স বিক্রির ব্যাবসা । ধর্ম একটি স্পর্শকাতর বিষয়। যার যার ধর্ম তার তার কাছে। ধর্ম নিয়ে যেমন কেউ একজন উল্টাপাল্টা যুক্তি দিয়ে ধর্মের কর্মে আঘাত হানার অধিকার রাখে না তেমনি ধর্ম কে পুঁজি করে কারও জীবন কেড়েও নিতে পারে না। কিন্তু এখানেও হিট করার বিষয়টি মুখ্য। কেউ বা নাস্তিকতায়, কেউ বা আস্তিকতায়।
আর অক্সফোর্ড ডিকশেনারীর অন্তর্ভুক্ত ‘সেলফি’ তে তো উন্মাদ এই ‘হিট’ সমাজ । হোক না তা কারও মৃত্যু বা জন্ম সেলফি তো তোলা চাই ই, চাই। অমুক ‘হিট’ নেতার সাথে, মিটিং-মিছিলে, সেলিব্রিটির সাথে সেলফি উইথ ট্যাগ না করলে কি ‘হিট’ করা সম্ভব? সম্প্রতি দেখা দুটো সেলফি কাহিনি বলছি- বর্তমান সরকারের এক বিশিষ্ট মন্ত্রী তার শাশুড়ি ও ছেলের পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করতে গেছেন এমন সময় কিছু সেলফিখোর ছেলেপেলে, উঠতি ও প্রতিষ্ঠিত নেতাদের চলে হিট মন্ত্রীর সাথে সেলফি তোলা ও দোয়া শেষ হওয়ার আগেই তা ফেইসবুকে আপলোড করার প্রতিযোগিতা। আর এক সেলিব্রিটির গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটে কারওয়ান বাজারে, মুহূর্তে ভিড় আর তার সাথে চলে ভক্তদের সেলফি তোলার জোরাজোরি। অনিচ্ছা সত্তেও কমপক্ষে সত্তর থেকে আশি জনের সাথে সেলফি তুলতে হয়েছিল । আরে ভাই যেখানে আমার ‘হিট’ করা দরকার, সেখানে হিট ব্যাক্তির সুখ না শোক তা দেখার সময় তো নাই।
এইসকল ঘৃণ্য কাজের সমাহার থেকে কবে বের হয়ে আসবে ‘মানুষ’? কবে ফেইসবুকের স্ট্যাটাস আর লাইকে বড় না হয়ে নিজ কর্ম, সাধনায় বড় হবে? আসলেই কি ভার্চুয়াললি ‘হিট’ করাটা খুব দরকার না ব্যাক্তিক/সামাজিক/ আত্মিক উন্নয়ন ?
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



