প্রাথমিক স্তর থেকে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার মান বৃদ্ধির যে গল্প বিরামহীনভাবে করে যাওয়া হচ্ছে তার মধ্যদিয়ে আন্তঃসারশূন্য একটি ফাঁপা প্রজন্মই শুধু তৈরী হচ্ছে না একটি বোধ-বুদ্ধিহীন,বিচার-বিবেচনাহীন স্বার্থপর প্রজন্মও তৈরী করা হচ্ছে ।পরীক্ষার ফলাফলই যখন শিক্ষার মান নির্ণয়ের একমাত্র মাপকাঠি এবং এ সংক্রান্ত জবাবদিহিতার একমাত্র উপায় এবং ষোলআনা কৃতিত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে তখন সে ফলাফল কিভাবে ওজনহীন হয়ে উর্ধ্বমূখী হয় এবং আকাশ স্পর্শ করে তা ওয়াকিবহাল সকল মানুষেরই জানা । যে কোন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর সর্বোচ্চ ফলাফল এবং পাশের হারের পরিসংখ্যান দেখিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের গল্প সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়ে থাকে ।কিন্তু এ গল্পের পাশাপাশিই দেখা যায় শিক্ষা বঞ্চিতদের দীর্ঘ সারি । কাগুজে হিসাবের নানা মারপ্যাঁচে পাশের হার বাড়ানো যায় বটে কিন্তু বাস্তবে শিক্ষা বঞ্চিতদের দীর্ঘ সারিকে আড়াল বা গোপন রাখা যায় না । শিক্ষাক্ষেত্রে এদের বঞ্চনার ভার এতই বেশি যে , ওজনহীন ফলাফলের উর্ধ্বমূখী টান থাকলেও সে ফলাফলও এ বঞ্চিতদের স্পর্শ করতে পারে না ।
বাধ্যতামূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত কতকগুলো ভালো ফলাফলের গল্প বলে তার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রচার করা প্রতারণারই নামান্তর ।শিক্ষার মান একটি ব্যাপক এবং সামগ্রিক ব্যাপার ।শিক্ষার মান কেমন হবে তার প্রধান শর্ত হলো শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ,শিক্ষকদের পাঠদানের যোগ্যতা ।এর পরে আসে পাঠদানের বিষয়বস্তু অর্থাৎ পাঠ্যক্রম , পাঠদানের পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি ।এসব শর্ত ছাড়া শিক্ষার মান হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়তে পারে না ।কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষার মান যেন হঠাৎ করে আকাশ থেকেই পড়ে । যে কোন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের দিনই শিক্ষার মান বৃদ্ধির গল্প নিয়মিতভাবে শোনানো হয়ে থাকে ।
যেসব মানদন্ডের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে এবং এর ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে ক্যাটাগোরাইজড করা হয়ে থাকে সেখানে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান কোথায়?সরকারি হিসাব অনুসারেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নিম্নগামী হতে হতে এখন আর উল্লেখ করার মতও কিছু থাকছে না ।সরকারি এবং রাষ্ট্রায়াত্ত বড় বড় শিল্প-কলকারখানা যখন বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন শ্রমিকদের ওপর দোষ চাপনো হয় । কিন্তু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি হিসাবেই মান নিম্নগামী হওয়ার জন্য সরকার কার ঘাড়ে দোষ চাপাবে?একটা সময় ছিল যখন মানুষ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে স্বস্তির সাথে পাঠাতে পারত এবং গর্বও বোধ করতো । কিন্তু কাদের স্বার্থে সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান হাতে ধরে নিম্নগামী করে দিল?সরকার শিক্ষার মানের তদারকি করে, সার্টিফিকেট দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যাটাগোরাইজড করে ।সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায় না ।আবার সরকারই শিক্ষার মান বৃদ্ধির উচ্ছ্বসিত গল্প শোনায় । সবকিছু কেমন গোলমেলে লাগে ।
সরকারি মানদন্ডে শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা কি ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে ছবি মনের মধ্যে আঁকা যায় এসব প্রতিষ্ঠানের ছবি কি তেমনই ? এসব প্রতিষ্ঠানে কি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন খেলার মাঠ আছে? সেখানে কি কোন পাঠাগার আছে?এসব প্রশ্ন এখন অবান্তর হয়ে গেছে।শিক্ষার মান প্রসঙ্গে এসব প্রশ্ন তুললে মান নির্ধারকেরা আবাকই হবেন । যেখানে পরীক্ষার ফলাফলই শিক্ষার মান নির্ধারণের একমাত্র মানদন্ড সেখানে খেলাধুলা , স্বতঃস্ফুর্ত মুক্ত চিন্তার চর্চা আবান্তরই বটে ।এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি হয়? কেমন সেখানকার পাঠদানের অবস্থা?এসব প্রশ্নের জবাব পেতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ডের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে । দৃষ্টি দিতে হবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিকে।তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে দেখা যাবে শুধু পরীক্ষা আর পরীক্ষা ।শ্রেণী পরীক্ষা ,সাপ্তাহিক পরীক্ষা ,মাসিক পরীক্ষাতো আছেই তার ওপর বছরে তিনটি এবং নামি-দামি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চারটি বড় পরীক্ষা আনুষ্ঠিত হয়।এসব পরীক্ষার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত প্রাইভেট পড়ানোর মেসেজ দেওয়া হয় ।মন্দ ফলাফলের জন্য অভিভাবক ডেকে স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয় ।এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতিটি বিষয়ের জন্য থাকে প্রাইভেট শিক্ষক ।শিক্ষকদের অবস্থা খুবই বেপরোয়া । নিজের কোচিং সেন্টারে না গেলে নম্বর কম দেওয়া , ফেল করানোতো আছেই এর সাথে শারিরীক নির্যাতন পর্যন্ত করার খবর মাঝে মাঝেই পত্র পত্রিকায় দেখা যায় ।এদিক দিয়ে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আরো বেশি বেপরোয়া । বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাইরে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যত নামই থাকুক না কেন ভিতরের অবস্থা হলো সেখানে শেখানোর কোন ব্যবস্থা নেই । সেখানে নানা নামের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে কোন্ শিক্ষার্থীর জন্য কতটা প্রাইভেট থেরাপির প্রয়োজন তা নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয় ।শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়কে বোধগম্য করে তোলার পরিবর্তে সেসব বিষয় অত্যন্ত জটিল এবং দুর্বোধ্য প্রমাণ করা এবং এর জন্য প্রাইভেট থেরাপি অত্যাবশ্যক করে তোলাই যেন শিক্ষকদের প্রধান দায়ীত্ব ।এ কাজ শুধুমাত্র শ্রেণীকক্ষের শিক্ষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা ।প্রাতিষ্টানিকভাবেও এ কাজ করা হয়ে থাকে ।একজন শিক্ষার্থী রীতিমত শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যখন পরীক্ষায় খারাপ ফল করে তখন সে দায় কার ওপর বর্তায়?সাধারন বিচারবোধ যেটা বলে তা হলো সে দায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই সেব্যাপারে যন্তশীল হওয়ার কথা । কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি হয় ?অভিভাবকদের তলব করা হয়।তাঁদের রীতিমত তীরষ্কার করা হয় । উদ্দেশ্য হলো প্রাইভেট থেরাপির জন্য সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হচ্ছেনা কেন ।এ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করিয়ে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়তে সরাসরি বাধ্য করা হয়।আগেকার দিনে বছরে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো ।বিভিন্ন নামের পরীক্ষার কোন বাগাড়ম্বর ছিল না । এখন কত রকমের পরীক্ষা নেওয়া হয় তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে ।এসব প্রতিটি পরীক্ষার সাথে থাকে অর্থের যোগ । পরীক্ষার ফিস তো আছেই তাছাড়া বহুসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ফেল করিয়ে পূনঃ পরীক্ষার নামে বড় অংকের টাকা আদায় করা হয় । বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার আগে টেস্ট পরীক্ষায় আটকে দিয়ে প্রতিটি বিষয়ের জন্য মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয় ।কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এমনও দেখা যায় ফেল করানো শিক্ষিার্থীদের ফরম পূরন করতে দেওয়া হয় লক্ষ টাকা জমা রাখার বিনিময়ে ।যেহেতু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবকিছুই সরাসরি অর্থের সাথে সম্পর্কিত তাই শিক্ষার্থীদের ভালো করার নামে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে থাকে কোন না কোন মতলব ।বহুকাল আগে থেকেই মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পূর্বে প্রায় তিন মাস কোন ক্লাশ রাখা হয় না ।এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের নিজেদের মত করে সীলেবাসের অন্তর্গত পাঠগুলো গুছিয়ে নিতে পারে ।এ ব্যবস্থা প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে ।একে পরীক্ষা প্রস্তুতিমূলক ছুটি বলা হয় ।এখন এ সময়ে মডেল টেস্টের নামে বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক মোটা অংকের টাকা আদায় করাতো হয়ই এর সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের ভালো করার নামে চূড়ান্তভাবে নাজেহালও করা হয় ।এভাবে প্রতিটি অতিরিক্ত ভালো করার পিছনে থাকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার যোগ । কতভাবে কত কায়দায় যে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থ হাতিয়ে নেয় তার নির্দিষ্ট হিসাব মেলানো মুশকিল ।
এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এক একটি কোচিং সেন্টার ।কোচিং সেন্টারের সকল বৈশিষ্ট্যই এসব প্রতিষ্ঠানে বিরাজমান ।শিক্ষকগণ শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রথমেই শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই বলে ভয় দেখান যে,অতীতে তাঁর এ বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি । এসবের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের যা' বুঝাতে চান তা' বুঝলে ভালো তা' না হলে তাদের ওপর নেমে আসে নানা দুর্ভোগ ।এসব কারণে শিক্ষকরা আর শিক্ষার্থীদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র নন।এ এক দুঃখজনক এবং বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ।শিক্ষার এই সংষ্কৃতির মধ্যদিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন শেষ করে বের হচ্ছে তখন তার কাছ থেকে কোন্ ধরনের সংস্কৃতি আশা করা যেতে পারে ?মতলববাজি , ভন্ডামি , কপটতা আর ক্ষুদ্রতার যে শিক্ষা তারা পেয়ে এলো তার প্রতিফলন কি তাদের জীবনে ঘটবে না ?
সরকার শুধুমাত্র পরীক্ষাকেন্দ্রীক ফলাফল নির্ভর শিক্ষানীতি নিয়ে বাগাড়ম্বর করবে এবং এর মহিমাকীর্তন করবে আবার কোচিং বন্ধ করার গালভরা কথা বলবে এ এক চরম বৈপরীত্য ।শিক্ষার সকল অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলে,শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের শিক্ষার্থীদের শেখানোর ঔকান্তিকতা এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চত করা হলে,কোচিং করার জন্য শিক্ষকদের এবং প্রতিষ্ঠানের চাপ না থাকলে,ফলাফলের ওপর কোন কৃত্রিম প্রভাব না ফেলা হলে , মন্দ ফলাফলের কারণ নির্ণয় করে সেসব শিক্ষার্থীদের প্রতি অর্থসংশ্লিষ্ঠতা বহির্ভুতভাবে আন্তরিকতার সাথে যত্নশীল হলে শুধুমাত্র চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে কে টাকা খরচ করে কোচিং করতে যাবে?তারপরেও যদি কেউ যায় তা নিয়ে মাথা ব্যথা হওয়ার কোন কারণ থাকা উচিৎ নয় ।কোচিংমুখি সকল অবস্থা বজায় রেখে কখনোই কোচিং বন্ধ করা যাবে না ।কেউ কাউকে শেখাবে তা সে কতজনকে একসাথে নিয়ে শেখাবে তা নির্ধারণ বা বন্ধ করা কালো আইন ছাড়া কোন সুষ্ঠু আইন দ্বারাই সম্ভব নয় ।হ্যাঁ সরকার বা শিক্ষামন্ত্রনালয় একটি কাজ করতে পারে তা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ কেউ কোন ক্রমেই কোচিং এর সাথে জড়িত থাকতে পারবে না এই মর্মে আইন তৈরী করতে পারে ।সেখানে আবার সেই প্রতিষ্ঠানের নয় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করাতে পারবে এমন গোলমেলে ব্যাপার থাকলে চলবে না ।এ জন্য সরকারি , বেসরকারি প্রতিটি শিক্ষকের উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করতে হবে ।সরকার আর একটি কাজ করতে পারে তা হলো সকল প্রকার কোচিং এর বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিতে পারে ।আসলে তারও কোন প্রয়োজন পড়বে না যদি সরকার শর্টকাট পথে ফলাফল নির্ভর , অতিরিক্ত পরীক্ষা নির্ভর কোচিংমুখী শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি নির্ধারিত মান নিশ্চত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করে ।
সরকার কি সেপথে যেতে পারে?এর জন্য যা' দরকার তা হলো একটি গণতান্ত্রিক সার্বজনীন একমূখী বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং এর প্রয়োজনে একটি শিক্ষানীতি ।একটি সময় পর্যন্ত এদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল তাই । কিন্তু শাসক শ্রেণীর সকল অংশ এবং সরকারগুলো চক্রান্তমূলকভাবে গেৌরবজ্জল সেই ছাত্র আন্দোলনকে স্তব্ধ করে ছাত্র রাজনীতির ওপর কালিমা লেপন করেছে।এখন ছাত্র রাজনীতি মানেই সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি ।ছাত্র আন্দোলনকে নানা প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে স্তব্ধ করে একটি সার্বজনীন একমূখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন সরকার নানা রঙের তামাশা করে যাচ্ছে ।এখানে বহুধাবিভক্ত যে শিক্ষাধারা যেমন ধনীদের জন্য ইংলিশ মিডিয়াম ,কিন্ডারগার্টেন,ক্যাডেট কলেজ চরম দরিদ্রদের জন্য আকার্যকর পশ্চাৎপদ মাদ্রাসা শিক্ষা আর প্রতিনিয়ত প্রান্তিকীকৃত সাধারণ শিক্ষার অবস্থা থেকে একটি গণতান্ত্রিক একমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিকে প্রতারণামূলকভাবে দাবিয়ে রাখার জন্য একমূখী শিক্ষা বলতে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে -বিজ্ঞান, বাণিজ্য এবং কলা এই তিন বিভাগকে একসাথে করে একটি হ-য-ব-র-ল করাকে ।বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা বলতে বুঝনোর চেষ্টা করা হয়েছে সবকিছুর মধ্যে বিশৃঙ্খলভাবে একটুখানি প্রকৃতি বিজ্ঞান ঢুকিয়ে দেওয়াকে ।
বর্তমান সরকার অনেক বাগাড়ম্বর করে বাংলাদেশের মানুষকে একটি শিক্ষানীতি উপহার দিয়েছে ।এ শিক্ষানীতির মধ্যে কতকগুলো পরীক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তন ছাড়া ,প্রাথমিক পর্যায়ে কতকগুলো নতুন পরীক্ষার ব্যবস্থা করে এ পর্যায় থেকেই শিক্ষাকে কোচিংমুখী করা ছাড়া এবং স্তরগুলোকে একটু অন্যভাবে বিন্যস্ত করা ছাড়া আর নতুন কি আছে?এসবের মধ্যদিয়ে শিক্ষা বা শিক্ষার মানের কি হেরফের হতে পারে? মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সরকারের নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেই। সীলেবাসে বাধ্যতামূলক ধর্মশিক্ষা এখনও সেরকমই রয়ে গেছে। বহুধাবিভক্ত শিক্ষাধারাতো আগের মত আছেই উপরন্তু সাধারণ শিক্ষার প্রান্তকিীকরণ আরো গতিপ্রাপ্ত হয়েছে।
বিভিন্ন সরকার হাতে ধরে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রান্তিক করে তলানিতে নিয়ে গেছে ।ব্যবসায়ীক যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রমরমা অবস্থা তার থেকে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি(!)দের বখরা খাওয়া ছাড়া সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন আছে বলে মনে হয় না ।সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সীলেবাসের মধ্যে অনেক ত্রুটি এবং অগণতান্ত্রিক ও অবৈজ্ঞানিক উপাদান আছে , সে অন্য প্রসঙ্গ । কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সে সীলেবাসের বাইরেও নানা প্রকার ব্যবসায়ীক কারণে এবং শিক্ষাকে কোচিংমুখী করার উদ্দেশ্যে আবর্জনাতুল্য একাধিক বই ইচ্ছামত শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে যার ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন নেই ।
এরকম আরো শত অসংগতির মধ্যে শিক্ষা নিজেই যখন অশিক্ষার সাগরে ডুবে যাচ্ছে তখন শিক্ষার মান বৃদ্ধির গল্প বলা যেমন বাগাড়ম্বর তেমনই কোচিং বন্ধ করার জন্য আদালতের রায় আনতে যাওয়া শিক্ষার আর সবকিছু ঠিকঠাক আছে বলে মেনে নেওয়া এবং তা প্রচার করার বদ মতলব ছাড়া আর কিছুই নয় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



