somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন্ত্রীদের বাহবা প্রাপ্তি আর জনগণের ভোগান্তি

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দায়ীত্ব পালনের পরিবর্তে নিজের ‘ভালমানুষী’ প্রদর্শণের জন্য বাড়াবাড়ি করা এবং প্রচারণা চালানোওয়ালাকে কি বলা্ যায় ?বাংলাদেশে মন্ত্রীদের মধ্যে এ ধরণের মন্ত্রীর অভাব না থাকলেও দুইজন মন্ত্রী এদিক দিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ।এর মধ্যে একজন হচ্ছেন যোগাযোগ মন্ত্রী এবং অপরজন শিক্ষামন্ত্রী । এরা সব সময়ই বাহবা নিতে পছন্দ করেন তাতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়লেও তাঁদের কিছু যায় আসে না ।
শিক্ষামন্ত্রী মহাশয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত কোন ক্ষেত্রেই শিক্ষার শিক্ষার অধঃপতন ছাড়া কোন উন্নতি করেন নাই । অথচ তাঁর প্রচারটা খুবই বড় ।কারণ বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে ধোঁকাবাজি করলে ধরার কেউ নেই ।এখানে শিক্ষাবিদ বলে আর কেউ নেই।রং মেখে হাততালি পেয়ে বেড়ানো এবং হাততালি দিয়ে বেড়ানো এবং হাত কচলানো লোকেরা শিক্ষাবিদ নয় । নিজেদেরকে শিক্ষাবিদ বলে দাবি করতে হলে শিক্ষার অবস্থা বুঝতে হবে। শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে হবে ।কেউই তা করছেন না । কেউই কিছুই দেখছেন না ।তাই এখানে কোন শিক্ষাবিদ নেই ।শিক্ষাবিদ থাকলে প্রশ্ন তুলতেন প্রাথমিক পর্যায়ে দুই দুটি পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে ।শিক্ষাবিদ থাকলে প্রশ্ন তুলতেন পাঠ্যক্রম নিয়ে ।শিক্ষাবিদ থাকলে প্রশ্ন তুলতেন পাঠ্যক্রম থেকে ইতিহাস বিলুপ্তি নিয়ে ।শিক্ষাবিদ একজনও থাকলে প্রশ্ন তুলতেন প্রশ্ন কাঠামোতে ‘সৃজনশীলতা’বলতে কি বুঝায় ।কেউ কোন প্রশ্ন তুলছেন না শুধুই হাত কচলিয়ে চলেছেন । আর শিক্ষামন্ত্রী নিজেই নিজেকে বাহবা দিয়ে চলেছেন ।পাঠ্য বইয়ের আমুল পরিবর্তন করতে গিয়ে তিনি পাঠ্য বইয়ের যে হাল করেছেন দেশে একজন শিক্ষাবিদ থাকলেও তিনি তার প্রতিবাদ করতেন ।তাই শিক্ষামন্ত্রীর আত্নপ্রচারণা বাধাহীনভাবে চলছে । এদিক দিয়ে তিনি খুবই সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন । কারণ ভুক্তভুগিদের থেকে তাঁর অবস্থান অনেক দুরে ।এ ভুক্তভুগিরা এমন যে , তাঁদের বুঝবারও ক্ষমতা নেই তাঁদের কি সর্বনাশ হয়ে চলেছে ।শিক্ষামন্ত্রীর বাহবা নেওয়ার পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো তিনি ষাট দিনের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা বিশেষ করে এস.এস.সি ও এইচ .এস. সি’র রেজাল্ট দিচ্ছেন ।বছরের শুরুতে তিনি বই দিচ্ছেন ।এগুলো সবই দায়ীত্বের মধ্যে পড়ে ।অতীতে কে দায়ীত্ব পালন করেছেন আর কে করেননি তার ফিরিস্তি দিলেই দায়ীত্ব পালন বহবায় পরিণত হবার কথা নয় । কিন্তু বাংলাদেশে দায়ীত্ব পালন নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই । শাসকশ্রেণি তা তুলে দিয়েছে ।দায়ীত্ব পালনই যখন বাহবায় পরিণত হয় তখন তা নিয়ে বিপত্তিও হয় ।আর এর জন্য খেসারত দিতে হয় জনগণকে ।যাদেরকে বিনামূল্যে বই দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে আসলে বই তাদের বাপের টাকায়ই দেওয়া হয় অন্য কারো বাপের টাকায় নয় ।কাজেই বিনামূল্যের গল্প শোনানোটা প্রতারণাই বটে ।বিপত্তিটা কোথায়?বিপত্তি হলো ভুলে ভরা বই । বিপত্তি হলো অত্যন্ত নিম্ন মানের কাগজে এবং নিম্ন মানের ছাপা বই ।জনগণের টাকা খরচ করা হচ্ছে অথচ জনগণকে মানসম্মহত বই দেওয়া হচ্ছে না এ জবাবদিহিতা চাওয়ার মত শিক্ষাবিদ নেই ।দায়ীত্ব পালনের পরিবর্তে ষাট দিনে রেজাল্ট দেওয়ার বাহবা নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে ।হাজার হাজার শিক্ষার্থীর রেজাল্টে ভুল থেকে যাচ্ছে ।সেই ভুল অনেকেই ধরতে যেতে পারে না । যারা সেই ভুল ধরতে যাচ্ছে তাদেরকে সময় এবং টাকা উভয়ই গুনতে হচ্ছে ।এই ধরণের বাহবা নেওয়া দায়ীত্ব পালনতো বটেই একজনের সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলে ।
যোগাযোগ মন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছিলেন ঈদের আগের দশ দিন এবং পরের পাঁচ দিন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মচারীর ছুটি বাতিল করার ।এই ঘোষনাতেই বুঝা গিয়েছিল এ কথা হলো নিছক বাহবা নেওয়ার জন্য অসার কথা ।বাংলাদেশে এসব অসার কথার ভিত্তিভুমি আছে ।এখানকার শাসক শ্রেণির জনক আওয়ামীলীগ শুরু থেকেই এর ভিত্তিভুমি তৈরী করে এসেছে এবং এখনও তা করে চলেছে ।এখানকার আওয়ামীনির্মিত শাসকশ্রেণির সংষ্কৃতি হলো ‘কর্তাতো ভালই তিনিতো চানই কিন্তু নিচের গুলোই হলো বদের বদ’।সে জন্যই যোগাযোগ মন্ত্রী এমন ঘোষণা দিতে পারেন ।এর খেসারতও জনগণকে গুণতে হয় ।ঈদে ঘরমুখো মানুষের রাস্তার ভোগান্তি বেড়ে গিয়েছে । রাস্তায় দীর্ঘ লাইন । লাভের মধ্যে যেটা হয়েছে জনগণকে বাড়তি টাকা গুণেও মুখ বন্ধ রাখতে হচ্ছে অথবা মিথ্যা্ কথা বলতে হচ্ছে ।ঠিক যেমন বলতে হয় ঢাকা শহরে অটো রিক্সায় উঠলে ।বাড়তি টাকা গুণেও অটোওয়ালার শিখিয়ে দেওয়া মিথ্যা বলতে হয় । জনগণের এই হলো মন্ত্রীদের বাহবা প্রাপ্তির মূল্য গোনা ।এ ধরণের পরিস্থিতিতে গ্রামের স্পষ্টবাদীরা একটি কথা বলে থাকেন ।মেকি ভদ্রতার জন্য আমি অতটা স্পষ্টবাদী হতে পারলাম না তাই আংশিক বললাম –‘...ও মারলো আবার ... ভাড়াও আদায় করে নিল’ !

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×