somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এক নিরুদ্দেশ পথিক
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

তারল্য, খেলাপি ঋণ, মুদ্রানীতি এবং তিনটি প্রশ্ন

০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১। উদ্বৃত্ত তারল্য

ব্যাংকিং খাতে এখন অলস এবং অকার্যকর টাকার পাহাড় রয়েছে (প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা)। এর পরও অনেক ব্যাংকের নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নগদ টাকার সঙ্কট হওয়ার কারণ কি?

ক। ব্যাংকিং খাতে যে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে তার বেশির ভাগই সরকারের ঋণ আকারে রয়েছে। বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে ব্যাংকগুলো সরকারের বাধ্যতামূলকভাবে ঋণের জোগান দিয়েছে। সরকার তার ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে বন্ড ও বিল নামক কাগুজে মুদ্রা ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে নেয়া ঋণের বেশির ভাগই দীর্ঘ মেয়াদে নিয়েছে। সরকারের দেয়া দীর্ঘ মেয়াদের বন্ড নগদায়ন করার মতো তেমন কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেট নামে আছে। এর ফলে নগদ অর্থের সঙ্কটে পড়া বেশির ভাগ ব্যাংকই সরকারের ঋণের জোগান দিতে গিয়ে বিপদে পড়েছে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান মতে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৩ গুণ। গত ১১ মাসে সঞ্চয়পত্রে সুদ ব্যয় বাদে নিট বিনিয়োগ হয়েছে ১০ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৭৩৫ কোটি টাকা। ব্যাংকের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বেশি হওয়ায় আমানতকারীরা ছুটছে এখন সঞ্চয়পত্রের দিকে। আমানতের সুদ কমে যাওয়ায় আমানতকারীরা তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছে। বেশি লাভের আশায় সরকারের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছে। ফলে ব্যাংকে কমে যাচ্ছে আমানতের পরিমাণ।

মুদ্রা নীতিতে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নেয়া ঋণের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা বলেছে। বার্ষিক হিসাবে বেসরকারি খাতে ঋণ জোগানের কর্মসূচি রয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আর শুধু ডিসেম্বর পর্যন্ত ই ছয় মাসে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ শতাংশ। কিন্তু বিদেশ থেকে বেসরকারি খাত যে ঋণ আনছে, সেটি ধরলে ঋণ কর্মসূচিতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

খ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণ করতে হয় প্রতিদিন। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের কাছ থেকে ১০০ টাকার আমানত সংগ্রহ করলে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে প্রতি দিন ৬ টাকা এবং ১৫ দিন অন্তর সাড়ে ৬ টাকা সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো দিন সিআরআর সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জরিমানা গুনতে হয়। আর এ জরিমানা এড়ানোর জন্যই কোনো কোনো ব্যাংকের নগদ টাকার সঙ্কটে পড়তে দেখা যায়।

গ। চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কারণে ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক আমানত কমে গেছে। কিন্তু ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যয় কমেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষ বেড়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এ পরিস্থিতির জন্য ব্যাংকাররা চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বেশি মাত্রায় ব্যাংক ঋণ নেয়াকে দায়ী করছেন।

উল্লেখ্য, পুঁজি বাজারের উপর্যপুরি লুটপাটের কারনে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়েছেন। সেই সাথে কয়েকটি ব্যাপক বড় ঋণ জালিয়াতির প্রেক্ষাপটে চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমানতকারিদের পুরোপুরি অনাস্থায়, যার কারনে বিনিয়োগকারিরা নিরাপদ আমানতকারি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে, আন প্রোডাক্টিভ খাত যেমন সঞ্চয় পত্রের দিকে ঝুকছেন, সঞ্চয়পত্র এবং সরকারি বন্ডের অতি চাহিদা (১৩ গুন প্রায়) বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বিকাশ কে চরম ভাবে চ্যেলেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেই সাথে ব্যাংক আমানতের সুদ কমিয়ে সঞ্চয় পত্র এবং বন্ডের সুদ বাড়ানো হয়েছে।

ঘ। এক দিকে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণের চাহিদা (দীর্ঘ মেয়াদি) বেড়ে গেছে। কিন্তু সুদ এবং মূল্যস্ফীতির কারণে আমানত বাড়ছে না। কেননা, বিনিয়োগ স্থবিরতার মাঝে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে।


ঙ। সরকারের সাথে চুক্তির মারপ্যাঁচে সরকারকে বাধ্যতামূলক ঋণের জোগান দিতে হয়, কিন্তু বিনিময়ে সরকার ব্যাংকগুলোকে বন্ড নামক কাগুজে মুদ্রা ধরিয়ে দিচ্ছে। এসব বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে তারল্য বলে গণ্য হচ্ছে।

সাধারণত, ট্রেজাারি বিল ও বন্ড দিয়ে আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বাধ্যতামূলক বিধিবদ্ধ তহবিল (এসএলআর) সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু মোট আমানতের বিপরীতে যে পরিমাণ এসএলআর সংরক্ষণ করার কথা ছিল, ব্যাংকগুলোর হাতে তার চেয়েও বেশি পরিমাণ ট্রেজারি বিল ও বন্ড রয়েছে।

এসব বিল ও বন্ড নগদায়ন করতে না পারায় তারা নগদ টাকার সঙ্কটে পড়েছেন।

গত মে মাস শেষে ব্যাংকগুলোর হাতে এ রকম বন্ড রয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে দেখাতে হচ্ছে। এসব কাগুজে তারল্য ব্যাংকগুলোর কোনো কাজে আসছে না, বরং বিনিয়োগকে সঙ্কুচিত করে ফেলছে।

ফলে কথিত উদ্বৃত্ত তারল্য প্রকৃতপক্ষে বাণিজ্যিক ব্যাংক হতে নেয়া ঋণ, সঞ্চয় পত্র এবং সরকারি বন্ডের সর্ব সাকুল্য হিসেব। উদ্বৃত্ত তারল্যের (প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা) প্রায় এক লাখ কোটি টাকাই রয়েছে বিল ও বন্ড আকারে। সত্যিকারে তারল্য ৪০ হাজার কোটি টাকা।

চ। সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণের জন্য বিশেষ করে মাসের শেষ ও মাঝে তার ব্যাংক গ্রাহকদের বড় অঙ্কের কোনো চাহিদা মেটাতে পারছেন না। কারণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর জন্য যে পরিমাণ নগদ টাকা হাতে থাকার কথা তা থাকছে না।

বাধ্য হয়ে অনেক ব্যাংক কলমানি মার্কেটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে মাত্র তিন দিনের জন্য ধার দিচ্ছে। এতে ৭.৫ শতাংশ থেকে ১০.২৫ শতাংশ সুদ গুনতে হচ্ছে।

ছ। গত কয়েক বছর ধরেই বিনিয়োগ মন্দা চলছে। ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংকগুলো লোকসানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নানা পন্থা অবলম্বন করছেন। কেউ বা খেলাপি ঋণ কমাতে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছেন। আবার ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ নবায়ন করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকতো রীতিমতো এ ধরনের নীতিমালাই শিথিল করেছিল, যা গত ৩০ জুনে শেষ হয়েছে। অনেক ব্যাংকই এখন কাগজ নির্ভর হয়ে পড়ছে। কাগজে কলমে ঋণ আদায় হচ্ছে। বাস্তবে ভিন্ন চিত্র। এর ওপর সরকারি ব্যাংক থেকে জালজালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াতো অব্যাহত রয়েছেই। হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারির পর হালে বেসিক ব্যাংক থেকে চার হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধরা পড়েছে।

এই সব কারনে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। শক্ত ভিতের ওপর গড়ে উঠা দেশের ব্যাংকিং খাতের এসব ধকল সহ্য করার সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।


২। আওয়ামীলীগ নেতা ব্যবসায়ীদের কাছে আটকে পড়া এগনেষ্ট টার্ম লোন বা বিশ্বাসী ঋণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর নজরদারি সক্ষমতা

চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ীর কাছে ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকার এলটিআর লোন (এগনেষ্ট টার্ম লোন বা বিশ্বাসী ঋণ) আটকে পড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কী করছে—জানতে চাইলে সুর চৌধুরী বলেন, এলটিআর মেয়াদি ঋণ হয়, নিয়মের মধ্যেই। চট্টগ্রামে বেশ কিছু টাকা আটকে পড়েছে। ব্যাংকগুলো তার বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করছে।

যদি কোনো ব্যাংক তা করতে ব্যর্থ হয় তবে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

গভর্নর বলেছেন ‘আমাদের নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে গুণগতমানের হয় ঋণগুলো। সে জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া (ম্যাকানিজম) তৈরি করতে হবে। যাতে দুর্নীতি না হয়, মানি লন্ডারিং না হয়।’

(ঊল্লেখ্য, এখানে পরবর্তী অর্থ কেলেঙ্কারির প্লট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এর নিশ্চয়তা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রমান দিতে পারে নি, বরং এখনও আইন, নজরদারির এবং সজাগ থাকার কথা বলা হচ্ছে এত গুলো রেকর্ড অর্থ কেলেঙ্কারি হয়ে যাবার পরেও )

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বেলেছেন, আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া বড় বড় বিপর্যয়কে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে অনেকটা অসহায় মনে হয়েছে। এত বৃহৎ বিপর্যয় ব্যাংক খাতে আগে কখনো হয়নি। এই ভঙ্গুর ব্যাংক ব্যবস্থা ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের আরেকটি অন্তরায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে আমি মনে করি। যার কারণে ঋণের সুদ কমছে না। কিন্তু সে বিষয়ে হালকাভাবে কিছু বলা হলেও নতুন কোনো উপলব্ধি ও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।


৩। গতানুগতিক ও সতর্ক মুদ্রানীতি ঘোষণা


গভর্নর ড. আতিউর রহমান মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্রে বলেন, এবারের মুদ্রানীতিতে বড় ধরনের সারপ্রাইজ থাকছে না। মুদ্রানীতির ভঙ্গিটিও হবে বিগত ষান্মাষিকের মুদ্রানীতির মতোই সতর্ক ও বিনিয়োগ-বান্ধব। (?)

তিনি বলেন, “যেসব ব্যাংক ২৫ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে তাদের নমনীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। যেসব ব্যাংকের ২৫ শতাংশের কম বিনিয়োগ রয়েছে তাদের বিনিয়োগে উৎসাহী করা হবে। আর এবারের মুদ্রানীতি বিগত মুদ্রানীতির মতোই বিনিয়োগবান্ধব।”

ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, এবারের মুদ্রানীতিতে এমন কোন নীতি গ্রহণ করা হয়নি যার মাধ্যমে পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া শেয়ারবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯০০ কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন তহবিলের সময়মতই ছাড় করাসহ অন্যান্য সহায়ক নীতি নেয়া হচ্ছে।

আগের মুদ্রানীতির প্রক্ষেপণ মতই খাদ্য বহির্ভূত ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল। মূলত খাদ্য বহির্ভূত ভোক্তা মূল্যস্ফীতির নিম্নগামীতাই গড় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। তাই খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিম্নগামী রাখতে সরবরাহ চ্যানেলগুলো মসৃণ ও কৃষি ঋণের সরবরাহ বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুদ্রানীতির ঘোষণায় আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ যোগানের ঊর্ধ্বসীমা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। আর এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সীমা ধরা হয়েছে ১৪ শতাংশ। অবশ্য বিদেশি বিনিয়োগসহ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ হার ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের ঊর্ধ্বসীমা ১২ দশমিক ৯ শতাংশ আর আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। এবার রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি হার ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ১৬ শতাংশ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ আসবে বিদেশি ঋণ থেকে। অর্থাৎ নতুন মুদ্রানীতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হবে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর (??) আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত বলেন, “বিদেশি ঋণ ডলারে পরিশোধ করতে হয়। যখন সুদ-আসলসহ এই ২.৫% ঋণ শোধ করতে হবে তখন সমস্যা হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে। প্রচুর খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার কমাতে পারছে না (???) জানিয়ে জায়েদ বখত বলেন, “স্থানীয় ঋণের সুদের হার কম হলে আমাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ঋণ নেবে না। কম সুদ হওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ঋণের দিকে ঝুঁকছে। স্থানীয় কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে সুদের হার ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ পর‌্যন্ত পড়ে যায়। সেখানে বিদেশি কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদের হার (লাইবর রেটের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট হার যোগ করে) সর্বোচ্চ ৮ শতাংশের মত পড়ে। ”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪১ কোটি ২৬ লাখ ডলার। ২০১০ সালে ৩০ কোটি ২৭ লাখ; ২০১১ সালে ৯৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। ২০১২ সালে তা বেড়ে ১৫৮ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকে। ২০১৩ সালে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি না করে বিদেশি উৎস থেকে ঋণগ্রহণ মোটেই ভালো বিষয় নয়। দেশে বিনিয়োগ নেই বলেই চলে। ব্যাংকগুলোর আমানত নেয়া কমে গেসে। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে ঋণগ্রহণ খুব একটা ভাল বিষয় নয়। আমাদের ব্যাংকগুলোতে প্রচুর অলস অর্থ (বিনিয়োগ হয় না এমন অর্থ) পড়ে আছে। অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করে এই অর্থ বিনিয়োগে নিয়ে আসাই হবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে উত্তম পথ।”



তিনটি প্রশ্নঃ


১। অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি না করে সঞ্চয় পত্র এবং সরকারী বন্ড ইনভেস্টমেন্ট এর মত আন প্রডাক্টিভ মাধ্যম কে উৎসাহিত করে সরকার কেন বেসরকারি খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে?

২। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এখনও ছয় মাসের মুদ্রা নীতি কেন? আমরা কি আমাদের অর্থনীতি এবং ইন ফ্লো এবং আউট ফ্লো, ফ্লো গুলোর ট্রেন্ড জানি না নাকি বের করতে অক্ষম?

৩। পুঁজি বাজার এর আস্থা ফিরাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায় করে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার কমাতে সরকার কাজ করছে না কেন?




তথ্যসুত্র
মূলত সংকলিত, সাম্প্রতিক ঘোষিত মুদ্রানীতি বিষয়ক অনেকগুলো প্রতিবেদন থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৪:২৭
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×