somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এক নিরুদ্দেশ পথিক
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব,ইইই প্রকৌশলী। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। Sustainable development activist, writer of technology and infrastructural aspects of socio economy.

ন্যাশনাল ইয়থ সার্ভিস সম্পর্কিত ফিডব্যাক পর্যালোচনা

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুখস্ত বিদ্যা নির্ভর বিসিএস প্রথা বাতিল করুন, ন্যাশনাল ইয়থ সার্ভিস চালু করুন

বিস্তারিত দেখুন এই লিংক এ- Click This Link

প্রতিবছর যেখানে হাজার হাজার স্নাতক শিক্ষা শেষে বেরুচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বেশীর ভাগই তো যেনতেন একটি সরকারী চাকুরীর জন্যে বসে আছেন । এর ভার সরকার নিবে?

এই ব্যাপক সংখ্যাক স্নাতককে ২ বছরের জন্য আর্থিক ভাবে এভেইল করতে গেলেই তবে সরকার ও প্রশাসন বুঝবে আসলে তারা কি কি করছে না, তাদের কোন পর্যায়ের এবং সত্যিকারের কি কি সক্ষমতা দরকার। এটা তাদের অন্য অনেক ভালো কাজের ট্রিগার করাবে, যেমন হতে পারে-

১। বেসরকারি খাত কিভাবে বিকশিত এবং লুক্রেটিভ করে, স্নাতক দের বেসরকারি সেক্টরে যেতে মোটিভেট করা। বেসরকারি খাত বিকশিত এবং লুক্রেটিভ করার সকল বাঁধা উন্মুক্ত করা। দেশের রাজনীতি কে সহনশীল করে কল্যানের দিকে নেয়া। মুদ্রানিতি ব্যবসা বান্ধব এবং বিনিয়োগ বান্ধব করা।
২। দুর্নীতি চাঁদাবাজি মধ্যস্বত্ব দালালি কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানো।
৩। রাজনৈতিক বিবেচনায় অহেতুক প্রজেক্ট কমিয়ে বাজেটের উপর চাপ কমানো।
৪। সময় নিয়ন্ত্রিত প্রজেক্ট কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় ব্রিদ্ধির লাগাম টেনে ধরে বাজেটের উপর চাপ কমানো।
৫। নতুন স্নাতক দের কোম্পানি খোলার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়া, আদায়ের স্টিকি কিন্তু লুক্রেটিভ ধাপ রেখে অতি সহজ ঋণ ব্যবস্থাপনা করা।
৬। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিজম কে প্রোমোট করে, স্টুডেন্ট দের আইডিয়া কে প্রোডাক্ট লেভেলে নিতে সাহায্য করা।
৭। শিক্ষার মান বাড়ালে প্রথম দিকে পাস করা গ্রাডুয়েট অনেক কমবে, বছর ৫-১০ পরে আবার ঠিক হবে।
৮। সরকার ও প্রশাসন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে আরো সচেতন এবং স্ট্রিক্ট হবে।
৯। সরকারী চাকরির বয়স সীমা কমিয়ে ইয়ং দের প্রাধান্য দিবে।
১০। রিসার্চ এর ফিল্ড বাড়াবে যাতে ন্যাশনাল সার্ভিসে চাপ কমে।
১১। উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ গামীতাকে এঙ্কারেজ করবে।
১২। প্রতিরক্ষা খাতের লাগাম কিছুটা টেনে ধরা।

ইত্যাদি।

ন্যাশনাল ইয়থ সার্ভিসের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা মানের সমন্বয় করা ( যদিও তা একটি মহাযজ্ঞ )

এটা করতেই হবে। ন্যাশনাল সার্ভিস না করলেও এটা করা উচিত।


এই পুরো সময় (২ বছর ) একটি মানসম্পন্ন কিন্তু ফ্রেশারস স্কেলে একজন গ্রাডুয়েটের বেতন দিতে হবে । এটা আদৌ সম্ভব কী ? আমাদের অর্থনীতি কি এতোটাই সবল ?

২০১৩ র একটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন অডিট অনুসারে দেশে স্নাতক ১ম বর্ষের আসন সংখ্যা-

১,৩১,৯৩২ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় - ৬০.১৮%
৮৭,২৯৭ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় -৩৯.৮২%

মোট ২,১৯,২২৯ জন।

যদি ধরি, মোট শিক্ষার্থীর ৭৫% নিয়মিত পাশ করবেন (উচ্চাভিলাষী)।তাহলে দাঁড়ায় প্রতি বছর পাস করে বের হবেন ১,৬৪,৪২২ জন স্নাতক।

৮,০০০ টাকা করে ১,৬৪,৪২২*৮,০০০=১৩১,৫৩৭৪০০০ টাকা মাসিক। বাৎসরিক ১৫৭৮,৪৫১২০০০ টাকা।

ম্যাক্সিমাম ১৫৮০ কোটি টাকা, পাস করা সকল গ্রাডুয়েট দের জন্য।
এই টাকার ভার বহনে আমাদের বাজেট পুরোপুরি সক্ষম।

এই হিসেব যথেষ্ট অতিরঞ্জিত, কারন বর্তমানে মাত্র ৩,৫০০ - ৪,০০০ ক্যাডার এবং নন ক্যাডার পিএসসির হাত ধরে সরকারি জবে আসছেন। শিক্ষক, অনান্য প্রথম শ্রেণীর নিয়োগ এবং স্পেশল বি সি এস মিলে মোট বাৎসরিক সরকারি নিয়োগ মোট নিয়োগের অনূর্ধ্ব ৫%। এটা আসলে আমাদের বেসরকারি খাতের সক্ষমতা এবং বিশালতা নির্দেশ করে, মানে বলতে গেলে সবাইকেই এবজরব করছে প্রাইভেট সেক্টর। উপরন্তু, প্রথমেই বলা হয়েছে বেসরকারি খাতে জব করতে চাইলে একজন স্নাতককে ন্যাশনাল সার্ভিসে আসতে হবে না। তাছাড়া ক্যারিয়ার সচেতন স্নাতক হ্যান্ডসাম স্যালারি ছেড়ে ন্যাশনাল সার্ভিসে নাও আসতে পারেন, এটাই স্বাভাবিক। মোট কথা, মোট পাশ করা স্নাতকদের একটু উল্লেখযোগ্য অংশ ন্যাশনাল সার্ভিসে আসবেন না। সেক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয় আসলে এই হিসেব এর অনেক কমই হবে।


“ন্যাশনাল সার্ভিস এর যে কোন ক্যাডার চাইলে বেসরকারি জব এ যেতে পারবেন।“ এটা কি হয়? সরকার খামোখা কেন এদের জন্যে গাঁটের পয়সা খরচ করবেন ?


রাস্ট্র সকল নাগরিকের। তার উপর এই পাশ করা স্নাতক রাষ্ট্রকে সার্ভিস দিয়েই বেতন নিচ্ছেন। তাছাড়া বেসরকারি খাতে স্কিল সাপ্লাই করাও সরকারের কাজের অংশ। এতে আসলে সরকারের উপর ব্যাপক নিয়োগ দানের বাধ্য বাধকতা কমাবে, কারন এরই মধ্যে রিসোর্স ডেভেল্প করেছে।


বিসিএস দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের চেহারা –সূরত, বেশ-ভূষা, কথা-বর্তা , চলন -বলন মোটেও দেশের কর্ণধার হওয়ার মাপকাঠিতে ধারে কাছেও নেই ।

বেশভূষা দেখে, রেফারেন্স নিয়ে, স্মার্টনেস দেখে চাকরি দেবার দিন শেষ করার সময় হয়েছে। দেখতে গ্রাম্য কিংবা খ্যাত হলেও প্রোডাক্টিভ, ইন্নোভেটিভ, ক্রিটিয়েটিভ বা সতিক্যারের মেধাবী হলে রিক্রুট করতেই হবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে বেশ ভুষা দেখার সময় থাকবে না।


যেখানে মেধা, মনন, শিক্ষার সাথে সাথে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যাপারটিও মূখ্য যোগ্যতার একটি হতে হবে ।

সোশ্যাল ভ্যালূ এবং এথিকস, ডাইভারসিফাইড কালচারাল এডাপ্টিবিলিটি এবং এক্সেপ্টিবিলিটি স্কুল এডুকেশনে ঢুকাতে হবে।

ভিন্ন একটা প্ল্যান আছে এই বিষয়ে।

নির্দিষ্ট পরিমান ভূমি নাই এইধরনের কৃষক, সম্পূর্ণ ভূমি হীন কৃষক, বস্তি বাসী, রিক্সা অয়ালা, ভাসমান শ্রমিক, ভুমি হীন উপজাতি ইত্যাদি এবং বিশেষ ভাবে গার্মেন্টস পরিবারের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা উপকরন দেয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। ফ্রি প্রাথমিক, ফ্রি মাধ্যমিক, ফ্রি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা, সেই সাথে ফ্রি শিক্ষা উপকরনের বন্দোবস্ত করতে হবে। শিক্ষা উপকরন হিসেবে বই, নির্দিষ্ট সংখ্যক খাতা-কলম-পেন্সিল, বছরে একটি স্কুল ব্যাগ , একটি স্কুল ইউনিফর্ম এবং একজোড়া জুতা প্রদানকে সুনির্দিষ্ট করতে হবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর মধ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থী কে একটি জ্যামিতি বক্স ফ্রি দেয়া যেতে পারে। এটি ক্লাস সিক্স এ উঠলেই ফ্রি বই বিতরনের সময় দেয়া যেতে পারে। ফ্রি শিক্ষা উপকরণ শিক্ষার্থী দের বাড়তি অনুপ্রেরণা দিবে, শিক্ষার প্রতি মটিভেশন আনবে।

এন্ট্রান্স ফেসিলিটি লুক্রেটিভ করে বেশি থেকে বেশি পরিবারকে শিক্ষায় আওতায় এনে, এথিক্যাল এবং কালচারাল ভ্যালু এড করতে হবে। দেশাত্ববোধ বাড়বে।



অবহেলিত পেশায় (গার্মেন্টস, বিক্সা চালক, বুয়া, ভাসমান শ্রমিক) একের বেশি জেনারেশন কাজ করলে তারা স্থায়ী ভাবে শোষিত শ্রেণী হিসেবে আত্বপ্রকাশ করে দেশের অর্থনৈতিক সাম্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা নষ্ট করার কারন হবে। তাই রাষ্ট্রকে এই অবহেলিত গ্রুপ কে উন্নত জীবন মানের দিকে লুফিয়ে আনতে হবে।





সর্বশেষ এডিট : ১২ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×