এক যুগ ধরে ঢাকা - চট্রগ্রাম চার লেইন (মাত্র!) এর কাজ চলছে। বাড়ি যাবার রাস্তাটি এখনও যানজট মুক্ত হয়নি।
একটি দেশের ব্যস্ততম এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক (!) ২০১৫ তেও চার লেইন এ পরিনত হতে পারেনি, এই লজ্জা নাগরিক হিসেবে আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাও নিছক চার লেইন, সার্ভিস লেইন নাই, এক্সিট এন্ট্রির বন্দোবস্ত নাই, নাই গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকা শক্তি "হাঁট বাজার" গুলোর জন্য প্রভিশন। নেই রোড সাইড বাস স্ট্যান্ড এর প্রভিশন। নেই স্লো মুভিং লেইন, গ্রাম থেকে গ্রামের সংযোগ কারি রাস্তায় নেই পায়ে হাঁটার পথ কিংবা সাইক্লিং লেইন। নিছকই ২+২ চার লেইন। তাও হয়ে উঠলো না।
সর্বশেষ ২ বার বাসে গ্রামের বাড়ি যাবার সময় আট ঘন্টার মত সময় লেগেছে, দুরুত্ব মাত্র ৯২ কিমি! প্রাইমারি স্কুলে থাকতে এই রাস্তায় ২ টি ফেরিঘাট ছিল (মেঘনা, গোমতি-মেঘনা), সেই সময়েও অতি নিন্ম মানের বাসে ৫-৬ ঘন্টার মত সময় লাগতো।
তাও আশা করি কাজ টা শেষ হোক, তাও আশা করি এই কাজ শেষ হলে, নেতৃত্বের কেউ ভাববে সার্ভিস লেইন এবং স্লো মুভিং লেইন সহ ৬ বা ৮ লেইনের কাজ এর কথা।
প্রায় এক যুগ ধরে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়া নিয়ে পরিকল্পনা বিভাগে কথা হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দূর্নীতির হিসেব নিকেশ বাদ দিয়েও আশায় ছিলাম এই কাজ দ্রুত শুরু হবে, অবশেষে আজ হয়েছে, পরিকল্পনা নেয়ার প্রায় বার-তের বছর পর।
স্বাধীনতার ৪৪ বছর এর মাথায় দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের স্থপতির গ্রামের বাড়ি যাবার রাস্তায় একটি সেতুর কাজ শুরু হচ্ছে, এই দুর্বিত্তায়িত বিলম্ব আর এই লজ্জা আর কাউকে তাড়িয়ে না বেড়ালেও, নাগরিক হিসেবে আমাকে বেড়ায়। কারণ এই একটি সেতু দেশের জিডিপিতে ১% এর অধিক ভূমিকা রাখতে পারে।
আমরা যারা দেশের নাগরিকের আর্থ-সামাজিক মুক্তি নিয়ে ভাবি, আমরা আশা করি চার লেইনের মত এক যুগ যাতে লেগে না যায় এই সেতুর উদ্ভোদনে। আগামী ৪-৫টি অর্থ বছরেই পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্ত হবে, এই আশায় বুক বাঁধি!
পদ্মা সেতু, তোমার ভিজিবিলিটির অপেক্ষায়!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





