
আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করি আমরা মজার স্কুল সম্মন্ধে কম বেশি জানি, তাদের কাজের পদ্ধতিগত বিষয়ে কারো কারো ভিন্ন মত থাকলেও আমরা সবাই জানি তারা শিশুপাচারকারী নন। তারা দূর্দান্ত ভাল কাজ করছে, তারা পথশিশুদের কল্যানে দারুন সৃজনশীল কিছু কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বেশ অনেকদিন ধরে।

কিন্তু কোন এক ঠুনকো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় জেল হাজত কোর্ট কাচারি মিলিয়ে বেশ হয়রানির শিকার হচ্ছে মজার স্কুলের নিবেদিত প্রান সমাজ কর্মি আরিফ, জাকিয়ারা।

যতটুকু আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছি আমার বিশ্বাস তারা খুব তাড়াতাড়ি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেল থেকে মুক্ত হয়ে দ্বিগুণ উতসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আরো পপরিপাটিবভাবে পথশিশুদের কল্যানে কাজে ঝাঁপিয়ে পরবে।
অনেকেই মজার স্কুলের কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এতে প্রাথমিক পর্যায়ে মিডিয়ার অবিবেচক ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
যাই হোক, অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে তাদের সমাজ সেবার নিবন্ধন আছে, তবে শেল্টার হোম পরিচালনা এবং নিজেদের হেফাজতে শিশু রাখার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া তারা পুরোপুরি অনুস্মরণ করেনি, তা ঠিক, যা তারা বুঝতে পারেনি অভিজ্ঞতার অভাবে - তার জন্য তাদেরকে মানবপাচারের মত এত্ত বড় অভিযোগে অভিযুক্ত খুব অন্যায় হয়েছে। মনে রাখতে হবে তারা সকলেই তরুন এবং ছাত্র যারা মূলত স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। তারা তথাকথিত এনজিওজীবিদের মত বিদেশী বা সরকারি কিংবা কোন প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান নিয়ে প্রকল্প ভিত্তিক কাজ করছে না যেখানে হাজার হাজার টাকা প্রশাসন এবং আইনগত জটিলতা রক্ষার পেছনে খরছ হয়ে যায়। তারা নিজের পকেট খরছ থেকে জমিয়ে আর বন্ধু, স্বেচ্ছাসবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ছোট ছোট সহযোগীতা নিয়ে সমাজ কল্যানে কাজ করছিল। কিভাবে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন / মজার ইশকুলের তরুন সমাজ কর্মিরা কারো কারো চোখে হঠাত মানবপাচারকারী হয়ে গেল বিস্তারিত জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন - Click This Link
আপাদত খুব দু:শ্চিন্তার কিছু নেই, সময় একটু লাগবে তবে আরিফ জাকারিয়ারা আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আশাকরি বের হয়ে আসবে জেল থেকে, তাদের জন্য দোয়া আর শুভ কামনার। আইনি প্রক্রিয়া চলতে দিন, তাদের জন্য যদি আরো কিছু করতে চান তাহলে যোগাযোগ করুন তাদের পরিবার, সংগঠন ও আইনজীবির সাথে এবং পরামর্শ সাপেক্ষে যেখানে পারেন সাহায্য করুন। আরিফ জাকারিয়াদের কেইসের নিয়মিত আপডেট পেতে এই ইভেন্ট চোখ রাখতে পারেন - Click This Link

এবার আসুন কাজের কথায় -
আমরা, আপনারা, যারা যে পরিসরেই পথশিশুদের নিয়ে হোক বা অন্য যেকোন মানবিক সামাজিক বিষয়ে যত ভাল কাজই করিনা কেন - আইনগত প্রক্রিয়া বুঝে এবং মেনেই এগুতে হবে। তাহলে কাজের প্রতিও সম্মান করা হবে, সম্মান হবে আইনের প্রতি আর সেটায় নিরাপদ এবং এভাবেই কাজ বেশি ফলপ্রসু হয়।
পথশিশু নিয়ে কাজের কথায় বলি:
১. রাস্তায় রাস্তায় শিশুদের কাছে গিয়ে পড়ানো, কাপড় দেয়া, খাবার দেয়া খুব সহজ বিষয় কিন্তু একটা অন্যের শিশুকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে বা তুলে এনে তাকে নিজের কোন প্রতিষ্টানের নিয়ন্ত্রনে কোন হোমে নিয়ে আনতে হলে আইনি প্রক্রিয়া আছে।
২. রাস্তা থেকে কোন শিশুকে আনতে হলে থানায় জানাতে হবে।
৩. নিজের বাসায় বা কোন শেল্টার হোমে রাখতে হলে সে হোম সরকারি অনুমোদিত হতে হবে।
৪. শেল্টারে রাখা প্রত্যকটি শিশুর বৃত্তান্ত স্থানিয় থানায় জমা দিতে হবে এবং শিশুদের অবস্থান পরিবর্তনে থানায় আপডেট করতে হবে।
৫. শিশুদের রাখার পরিবেশ এবং তাদের সেবা প্রদান এবং তাদের সাথে আচার ব্যাবহারেরও কিছু স্টান্ডার্ড নিতিমালা আছে, সেসবের দিকেও নজর রাখতে হবে।
সম্প্রতি Street Children Activist Network - SCAN Bangladesh নামে একটা প্লাটফর্মে অনেকগুল ছোট-বড় স্থানিয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংঘটনের সাথে পথশিশু নিয়ে কাজ করে এমন কিছু নিবেদিত প্রান সমাজ কর্মিরা একত্রিত হয়েছে। যারা পথ শিশু নিয়ে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনভাবে কাজ করে যান আর SCAN এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চাইলে এই ফেসবুক গ্রুপে যেতে পারেন - Click This Link


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



