somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মজার ইশকুল, পথশিশু, সমাজ কর্ম, মানবপাচার, - আইনি প্রক্রিয়া, নেটওয়ার্ক ও নীতিমালা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পথশিশুদের কল্যানে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মজার স্কুলের সহকর্মিদের অতিসত্বর মুক্তি দাবি করছি। ওরা শিশু পাচারকারী নয়, ওরা সোস্যাল ওয়ার্কার।


আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের নিয়ে কাজ করি আমরা মজার স্কুল সম্মন্ধে কম বেশি জানি, তাদের কাজের পদ্ধতিগত বিষয়ে কারো কারো ভিন্ন মত থাকলেও আমরা সবাই জানি তারা শিশুপাচারকারী নন। তারা দূর্দান্ত ভাল কাজ করছে, তারা পথশিশুদের কল্যানে দারুন সৃজনশীল কিছু কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বেশ অনেকদিন ধরে।


কিন্তু কোন এক ঠুনকো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় জেল হাজত কোর্ট কাচারি মিলিয়ে বেশ হয়রানির শিকার হচ্ছে মজার স্কুলের নিবেদিত প্রান সমাজ কর্মি আরিফ, জাকিয়ারা।


যতটুকু আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছি আমার বিশ্বাস তারা খুব তাড়াতাড়ি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেল থেকে মুক্ত হয়ে দ্বিগুণ উতসাহ উদ্দীপনা নিয়ে আরো পপরিপাটিবভাবে পথশিশুদের কল্যানে কাজে ঝাঁপিয়ে পরবে।

অনেকেই মজার স্কুলের কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এতে প্রাথমিক পর্যায়ে মিডিয়ার অবিবেচক ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
যাই হোক, অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে তাদের সমাজ সেবার নিবন্ধন আছে, তবে শেল্টার হোম পরিচালনা এবং নিজেদের হেফাজতে শিশু রাখার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া তারা পুরোপুরি অনুস্মরণ করেনি, তা ঠিক, যা তারা বুঝতে পারেনি অভিজ্ঞতার অভাবে - তার জন্য তাদেরকে মানবপাচারের মত এত্ত বড় অভিযোগে অভিযুক্ত খুব অন্যায় হয়েছে। মনে রাখতে হবে তারা সকলেই তরুন এবং ছাত্র যারা মূলত স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। তারা তথাকথিত এনজিওজীবিদের মত বিদেশী বা সরকারি কিংবা কোন প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান নিয়ে প্রকল্প ভিত্তিক কাজ করছে না যেখানে হাজার হাজার টাকা প্রশাসন এবং আইনগত জটিলতা রক্ষার পেছনে খরছ হয়ে যায়। তারা নিজের পকেট খরছ থেকে জমিয়ে আর বন্ধু, স্বেচ্ছাসবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের ছোট ছোট সহযোগীতা নিয়ে সমাজ কল্যানে কাজ করছিল। কিভাবে অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন / মজার ইশকুলের তরুন সমাজ কর্মিরা কারো কারো চোখে হঠাত মানবপাচারকারী হয়ে গেল বিস্তারিত জানতে এই প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন - Click This Link

আপাদত খুব দু:শ্চিন্তার কিছু নেই, সময় একটু লাগবে তবে আরিফ জাকারিয়ারা আইনি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আশাকরি বের হয়ে আসবে জেল থেকে, তাদের জন্য দোয়া আর শুভ কামনার। আইনি প্রক্রিয়া চলতে দিন, তাদের জন্য যদি আরো কিছু করতে চান তাহলে যোগাযোগ করুন তাদের পরিবার, সংগঠন ও আইনজীবির সাথে এবং পরামর্শ সাপেক্ষে যেখানে পারেন সাহায্য করুন। আরিফ জাকারিয়াদের কেইসের নিয়মিত আপডেট পেতে এই ইভেন্ট চোখ রাখতে পারেন - Click This Link


এবার আসুন কাজের কথায় -
আমরা, আপনারা, যারা যে পরিসরেই পথশিশুদের নিয়ে হোক বা অন্য যেকোন মানবিক সামাজিক বিষয়ে যত ভাল কাজই করিনা কেন - আইনগত প্রক্রিয়া বুঝে এবং মেনেই এগুতে হবে। তাহলে কাজের প্রতিও সম্মান করা হবে, সম্মান হবে আইনের প্রতি আর সেটায় নিরাপদ এবং এভাবেই কাজ বেশি ফলপ্রসু হয়।

পথশিশু নিয়ে কাজের কথায় বলি:
১. রাস্তায় রাস্তায় শিশুদের কাছে গিয়ে পড়ানো, কাপড় দেয়া, খাবার দেয়া খুব সহজ বিষয় কিন্তু একটা অন্যের শিশুকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে বা তুলে এনে তাকে নিজের কোন প্রতিষ্টানের নিয়ন্ত্রনে কোন হোমে নিয়ে আনতে হলে আইনি প্রক্রিয়া আছে।
২. রাস্তা থেকে কোন শিশুকে আনতে হলে থানায় জানাতে হবে।
৩. নিজের বাসায় বা কোন শেল্টার হোমে রাখতে হলে সে হোম সরকারি অনুমোদিত হতে হবে।
৪. শেল্টারে রাখা প্রত্যকটি শিশুর বৃত্তান্ত স্থানিয় থানায় জমা দিতে হবে এবং শিশুদের অবস্থান পরিবর্তনে থানায় আপডেট করতে হবে।
৫. শিশুদের রাখার পরিবেশ এবং তাদের সেবা প্রদান এবং তাদের সাথে আচার ব্যাবহারেরও কিছু স্টান্ডার্ড নিতিমালা আছে, সেসবের দিকেও নজর রাখতে হবে।

সম্প্রতি Street Children Activist Network - SCAN Bangladesh নামে একটা প্লাটফর্মে অনেকগুল ছোট-বড় স্থানিয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংঘটনের সাথে পথশিশু নিয়ে কাজ করে এমন কিছু নিবেদিত প্রান সমাজ কর্মিরা একত্রিত হয়েছে। যারা পথ শিশু নিয়ে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনভাবে কাজ করে যান আর SCAN এর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চাইলে এই ফেসবুক গ্রুপে যেতে পারেন - Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×