somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এম ফজলুল করিম
মানুষের ভিতরে মানুষ

মজলুম জননেতা স্বাধিনতার স্বপ্নদ্রষ্টা কাফের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মাওলানা ভাসানী এক বিশাল সমুদ্রের নাম, যতই পড়ছি তাকে নিয়ে ততই বাড়ছে জ্ঞান পিপাসা।


১৯৭১ এর মুক্তি যুদ্ধের সময় মাওলানাকে যদি ভারত সরকার গৃহববন্দি করে না রাখত সে দেশে - তাহলে হয়ত তিনি আসাম সহ পশ্চিম বাংলার ভাল একটা অংশকে মুক্তিযুদ্ধে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের ভিতরে ঢুকাতেন। বাংলাদেশের সীমানা ও আয়তন হতে পারতো আরো বড়, ভারত হত অস্থির।

১৯৪৭ এও বিষয়টি সেরকম ছিল, ভাসানীকে তখনতো এক্কেবারে কারাবন্দি করে রেখেছিল ভারত, তিনি মুক্ত থাকলে সিলেটের সাথে পাকিস্তানেই আসাম সহ টান দিতেন পশ্চিম বাংলার বড় একটা অংশ।

এবার আসুন ভারত কেন বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে স্বাধিনতার জন্য সানন্দে সহযোগীতা করেছিল? অনেকে বলে থাকে পাকিস্তানকে ভাঙ্গনের জন্য, এটা ভারতের ষড়যন্ত্র। বিষয়টা তার চেয়েও গুরুতর - তা হল, পূর্ব পাকিস্তানের আর পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার দন্ধের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশ সৃষ্টি না হতো তাহলে হয়ত কোন এক সময় পূর্ব বাংলা আর পশ্চিম বাংলা একাট্টা হয়ে আলাদা রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে যেত - তাতে পাকিস্তানের সাথে ভারতও ভাঙতো। সে ভাঙনকে অগ্রিম ঠেকিয়ে দিল ভারত বাংলাদেশকে অনতিবিলম্বে পাকিস্তান থেকে স্বাধিনতা পাওয়ার জন্য সহ অগ্রনী ভূমিকা রেখে। ভারতকে মাঝখানে রেখে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে এক থাকার কোন বাস্তব সম্মত কারন ছিলনা, আগে পরে আমাদের স্বাধিনতা আসতোই, পাকিস্তানের ভাঙন আর বাংলাদেশের স্বাধিনতা ছিল অপরিহার্য। মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের জালিম সরকারকে ওয়ালাইকুম সালাম বলে স্বাধিনতার ঘন্টা হাজিয়ে দিয়েছিল ১৯৫৭ এ কাগমারি সম্মেলনেই।

শুধু ভারত নয়, সমগ্র পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাকে ভয় পেতো, পাকিস্তানি শাসক গোষ্টিতো তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লেগেই থাকত সারাক্ষন - তাকে কাফের পর্যন্ত ডেকেছে তারা, মুক্তি যুদ্ধের সময় তার বাড়িতে পাক হানাদাররা তাকে খুঁজতে এসে জানতে চেয়েছিলেন "কাফের মাওলানা কাহা হে?" বলে।

তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের ‘ওয়ালাকুমুসসালাম’ বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন। ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধিন করো - ৭০ এর নির্বাচন বয়কট করে মাঠে ঘাটে রাজপথে এই শ্লোগান চালু রেখেছিলেন মাওলানা ভাসানী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু ছিলেন মাওলানা ভাসানী। শোষিত-বঞ্চিত ও নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রামী মহাপুরুষ ছিলেন মাওলানা ভাসানী।

মওলানা ভাসানী বাংলার মজলুম জননেতা। তিনি তাঁর সারাটা জীবন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ব্যয় করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের জীবনে কখনো কোথাও মাথানত করেননি। তিনি এমন একজন মহান মানুষ যাকে জানলে একই সাথে জানা যাবে বাংলাদেশের উদয়, বেড়ে ওঠার ইতিহাস এবং উপমহাদেশের জনগণের লড়াই সংগ্রাম ও নির্যাতীত মানুষের ইতিহাস।

তিনি একদিকে যেমন ছিলেন মাঠে ঘাটে দু:খি মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা খাটি সোস্যালিস্ট, তেমনি ছিল নিয়মিত ইবাদত বন্দেগী করা হক্কানি পীর। যিনি তার মুরিদদের বায়াত দিতেন এই বলে যে: "এক আল্লাহর ইবাদত করব, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ব"

আজ ১৭ই নভেম্বর গন-মানুষের এই খাটি রাজনিতিবীদ মজলুম জননেতা বাংলাদেশের স্বাধিনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এ দিনে গোটা জাতিকে শোক সাগরে ভাসিয়ে উপমহাদেশের এ রাজনৈতিক সূর্য অস্ত গিয়েছিল।

মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর আদর্শ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে জীবিত থাকুক চিরকাল। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে বুঝা যাবে না, মাওলানা ভাসানী আমাদের স্বাধিনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলার প্রতিটি তরুন সমাজ কর্মি আর রাজনিতিবীদেরা যেন মাওলানা ভাসানীকে জানার চেষ্টা করে আর তার আদর্শ লালন করে দু:খি মানুষের কল্যানে কাজ করে - সেই প্রত্যাশা।





মওলানা ভাসানীকে জানতে নীচের লিঙ্কগুলো থেকে পড়ে নিতে পারেন দারুন দারুন কিছু লেখাঃ
https://en.wikipedia.org/wiki/Abdul_Hamid_Khan_Bhashani
http://chintaa.com/…/campaigndetai…/showAerticle/4/46/bangla
http://www.amardeshonline.com/pag…/details/2015/…/17/311288…
http://chintaa.com/index.php/blog/showAerticle/310

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১১
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×