somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃদ্ধ বয়সে কে দেখবে আমাকে?

১০ ই মে, ২০১৪ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্নটি সকলের মনেই আসবে, যখন সময় হবে। কারন সরকারী কোন মাধ্যম নেই আপনাকে আমাকে দেখার সেই সময়ে যখন আমি, আপনি হয়তো হয়ে যাব অচল।


বৃদ্ধ বয়সে যখন আপনি, আমি কাজ করতে পারব না, তখন মসজিদ ও সিনিয়র সিটিজেন (বাংলাদেশের) বলবেন। ছেলে থাকলে এটি ছেলের বা ছেলের পরিবারের দায়িত্ব(আমাকে বা আপনাকে বৃদ্ধ বয়সে অচল অবস্থায় দেখাশুনা)।

মুসলিম সমাজে এটি এসছে ধর্মগ্রন্থ ও বিভিন্ন হাদিসের বয়ান থেকে। যখন ইসলামে এটি প্রবর্তিত হয়, তখন সরকার প্রথায় আয়কর বলে কোন কথা ছিল না।
ছিল না কোন ভ্যাট।
বাংলাদেশে এখন সরকার আয়কর নিয়ে থাকেন। এবং প্রতিটি নাগরিক কিন্তু সরকারকে কোন না কেন ভাবে ভ্যাটের মাধ্যমে সরকার নামক যন্ত্রটিকে কর দিয়ে যাচ্ছেন।

সকল নাগরিক যখন কোন না কোন ভাবে সরকার কে কর দেন, তখন সরকারের এটি পবিত্র দায়িত্ব (যদি তার সন্তান সন্ততিরা বাবা - মায়ের দেখাশুনা না করতে পারেন) সেই বৃদ্ধ নাগরিকে সম্পূর্ণ দেখভাল করা।
বাংলাদেশে সরকার তার এই পবিত্র দায়িত্বটি পালন করছেন না। যা করছেন তা একেবারেই নগন্য এবং লোক দেখানো।

মনে রাখতে হবে একজন ৬৫বয়সের বৃদ্ধ, যিনি এখন আর কর্মক্ষম নন, তিনি তার জীবনে নানা ভাবে দেশ কে সেবা করেছেন। হোক সে ব্যবসা বা চাকুরী (শুধু সামরিক বাহিনীই দেশ সেবা করেন না, একজন রিকসা চালক ও দেশ সেবা করছেন, কর দিচ্ছেন, পরোক্ষভাবে)।


একটি ব্লগে উপরোক্ত মন্তব্য করতে গিয়ে চিন্তা করলাম আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকেই এ বিষয়ে লিখা শুরু করি।

এ বিষয়ে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। শুধু মাত্র বললে হবে না এটা ওর বা তার দায়িত্ব। সরকারকে বাধ্য করতে হবে কিছু কিছু সামাজিক প্রথা বা ব্যবস্থা অতি শীঘ্রই প্রবর্তন করতে।

পতৃকায় লিখা দেয়া হলে, প্রকাশ করতে সম্পাদক সাহেবের অতি পরিচিত হতে হয়, না হলে সাংবাদিক সাহেব আপনার পরিচিত হতে হয়।
অধিকাংশ প্রগতিশীল সাংবাদিকরা হয়ে থাকেন বয়সে তরুন ও মেধাবী।
বয়সে তরুন ও মেধাবী হলে যেই দেশেই থাকেন না কেন ঐ মেধাবী তরুন বা তরুনীটি ঐ দেশের সম্পদ। এই কারনেই যুক্তরাষ্ট্র মেধাবী তরুন বা তরুনীদেরকে নানা ভাবে নিজের দেশে টেনে নিয়ে যায়।
মেধাবী তরুন বা তরুনী সবসময়ই নতুন কিছু করতে আগ্রহী বা নতুন চ্যলেঞ্জ নিতে সবসময় উৎসাহী। যার কারনেই প্রতিটি অগ্রসরমান দেশে নিত্য নতুন জিনিষ উদ্ভব হচ্ছে এবং বাজারে তা আসছে।

নানা কারনেই হোক বা ব্যস্ততার কারনেই হোক মেধাবী তরুন বা তরুনীদের কে বৃদ্ধ বয়সে তাদের কি হবে, কি ভাবে বৃদ্ধ বয়সে তাদের জীবন যাপন করতে হবে, তা নিয়ে সিরিয়াস কোন চিন্তা করতে বা ভাবতে দেখি বলে মনে হয় না।
এর কারন এদেরকে তো ঐ পরিবেশেই রাখান হয় না, চিন্তাকরবে কোত্থেকে।

তার ওপর রয়েছে ধর্মীয় অনুশাষন।
আমি ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে এটি কিছু জানি, তা মসজিদের বয়ান থেকে এবং আমার মুরুব্বীদের কাছ থেকে।

আমার নিজের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে। সুতরাং আমার মার বয়স কত হতে পারে, অনুমান সহজেই করতে পারেন। তিনি অধিকাংশ সময়ই শয্যাসায়ী এবং তিনি চান সবসময় তার কাছে নিকটজনের কেউ না কেউ থাকুক। বার্ধক্যজনিত কারনে তার রয়েছে ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরডিজ্ম, স্মৃতিশক্তি ক্রমশঃ লোপের দিকে
ইত্যাদি।
ইত্যাদি লক্ষন বহু সত্তুরোর্ধ বৃদ্ধের রয়েছে, আমি নিশ্চিত।
জীবিকার তাগিদে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও বৃদ্ধ মা - বাবার নিকট থাকা সম্ভব নয়।

ধর্মীয় অনুশাষন ও আমাদের সংষ্কৃতির কারনে প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়রা শহরের পরিবেশে খুব একটা এগিয়ে আসবেন না, আমি নিশ্চিত (কারন আমার প্রতিবেশীর সাথে আমার এখনও পরিচয় হয়ে ওঠেনিঃ হায়রে শহুরে জীবন)

এ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়মাবলী, পদ্ধতি ও এ বিষয়ে চলমান ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান থাকা উচিত। কোথা থেকে একজন নিবন্ধিত নার্স এর সেবা আমি বাসয় করতে পারব, তা এখনও ঠাউরে উঠতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা ক্যনাডা তে বসবাস করলে এ নিয়ে আমাকে এত বেগ পেতে হোত না।

প্রতি বছর সরকার শুধু ভ্যাট ও আয়কর থেকেই বহু অর্থ উপার্জন করে থাকেন।

সরকার কি ভাবে এটি আয়োজন করবেন বা প্রতিষ্ঠা করবেন তার উদাহরন খুবই সহজ।
প্রতি বছর সরকার শুধু ভ্যাট ও আয়কর থেকে যে অর্থ উপার্জন করে থাকেন,
1. তার ১০% এই খাতের লোকবল, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন ও বৃদ্ধ(৬৫বয়সের উর্ধে) ভাতার মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে সরকারের অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।
2. বৃদ্ধ ভাতার পরিমান সঠিক সময়ে তার নিকট পরিশোধের নিশ্চিতকরন করতে হবে।বৃদ্ধ যখন তার ভাতার নিকট পাবেন, সমাজ তথা সন্তানগনও তাঁকে সন্মানে সংগে দেখবেন।
3. বয়সের সাথে সাথে চিকিৎসাটাও জরুরী হয়ে পরে।
4. সরকার বৃদ্ধ(৬৫বয়সের উর্ধে)দের জন্য সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করতে হবে।
5. আশ্রমে সরকারী খরচে ব্যবস্থা করতে হবে যদি বৃদ্ধে(৬৫বয়সের উর্ধে)র সন্তান সন্ততিরা তা করতে অপারগ হন বা পালন করতে সক্ষম না হন।

ধর্মীয় অনুশাষনের কথা শুনিয়ে সরকার তার পবিত্র দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলামের ধর্মীয় অনুশাষনের সময় সরকার থেকে এমন উঁচু হারে কর বা ভ্যাট আদায় করা হোত না।

মানবাধিকারের সহজ সমিকরন হোলঃ সরকার যদি আয়কর নিয়ে থাকেন, তা হলে ঐ ব্যক্তির যখন আয় থাকবে না, সরকার তার আয়ের ব্যবস্থা করবেন।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×