somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৫ই জানুয়ারীর ২০১৫ এর যাতায়ত

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শীতের সময় কামলা স্থলে(অনেকে "কর্ম স্থল" ও আখ্যায়িত করতে পারেন) যাবার সময় কিছুটা হেটে গিয়ে বাস ধরি উত্তরা ৪ নং সেক্টরের অলিখিত বাস স্টপ থেকে।
ওখানে দাঁড়ালে কাকলী যাবার একটি বাস এ উঠে কাকলী তে নেমে যাই, বাকী পথটা কিছুটা হেঁটে কিছুটা রিক্সায় করে "কামলা স্থল" মহাখালীতে পদধূলি ঝাড়তে পারি। শীতের সময়টা প্রায়ই এটা করে থাকি। ফেরার পথে কামলা স্থল কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত চার চাকার যান ব্যবহার করত ফিরে আসি।

আজ ৪ নং সেক্টরের অলিখিত বাস স্টপ এ সকাল নটায় এসে দেখি কাঙ্খিত বাসটি চলছে না, গতকাল থেকে সরকার দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন শহরের নিরাপত্তার জন্য শহরের জনগনের নিরাপত্তার জন্য ঢাকায় প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই খবর শুনে গতকাল আমি কিছুটা নিশ্চিত ছিলাম যে, আজকে আরও সহজে "কামলা স্থলে" যেতে পারব। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবদুল্লাপুর থেকে যে বাস এর রুট শুরু ও শেষ মিরপুরের কোন এক নম্বরে, সেই বাস কেমন করে "দূরপাল্লা" হয়ে গেল, আমার বোধগম্য হোল না।

দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে বুঝলাম ওটার জন্য এখানে অপেক্ষা করা বৃথা।
"প্ল্যান বি"
সব পরিকল্পনার একটি বিকল্প প্ল্যান থাকে।
বাংলাদেশের তথা ঢাকা শহরের সকল "কামলা কর্মীর" ও "প্ল্যান বি", "প্ল্যান সি",
"প্ল্যান ডি" থেকে শুরু করে
"প্ল্যান যেড"
ও রাখতে হয়।

প্ল্যান বি অনুসারে রিক্সা করে এয়ারপোর্টের মোড় পর্যন্ত যাবার জন্য রিক্সা দড়াদড়ি করা শুরু করি। সুযোগ বুঝে কেউ ৩০(তিরিশ) টাকার নিচে যাবে না(সারাদিন ভাড়া না হলেও)।

হাটা দিলাম, শীতের সকাল, কিছুটা হাটাই যায়। জসীমউদ্দিনের মোড়ে ২০(বিশ টাকায়) "রিক্সাওয়লা ভাই" রাজি হওয়াতে সেটার সদ ব্যবহার করলাম। এয়ারপোর্ট মোড় এসে দেখলাম, যাতায়ত ব্যবস্থা আরও শোচনীয়। ঝুলে গেলে যাওয়া যেতে পারে (আমার সে বয়স নেই তথা বাদুর ঝুলার)।

অগ্যতা "প্ল্যান সিঃ"
গত বছর সাফল্যজনক ভাবে এটি বাস্তবায়িত করা গেছিল, এবার এই প্ল্যান সি বাস্তবায়ন তো দূরের কথা শুরুই করা যাচ্ছে না। কারন এয়ারপোর্ট মোড়ের পূব দিকের ভেতরের রাস্তায় যে সকল "ইলেকটৃক ট্রাইক" চলতো, তার একটাও নেই। এটি যেত খিলক্ষেত পর্যন্ত; ওখান থেকে মেঠো পথে কুড়িল হয়ে ইউনািটেড হাসপাতালের ভেতরের রাস্তা দিয়ে, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির ভেতরের রাস্তা দিয়ে নির্ভিগ্নে কামলা স্থলে যাওয়া যেত। আজ নির্ঘাত তা হচ্ছে না।

আইডিয়া এবং "প্ল্যান ডি"
শুনেছি এয়ারপোর্ট স্টেশনের ট্রেন এ করে লোক জন বনানী ও ঢাকা মতিঝিল যায়।
গেলাম এয়ারপোর্ট স্টেশনে, ঢাকা গামী ট্রেনের টিকেট কোথা থেকে কিনব তার কোন নির্দেশনা নেই টিকেট কাউন্টারে, না আছে রেল কর্তৃপক্ষের কোন সাহায্য কারী কোন লোক । আছে শুধু দূরপাল্লা গামী ট্রেনের টিকেট কাউন্টার। না থাকলে আর কি করা, বিনা টিকেটেই ভ্রমন করতে হবে।
কিন্তু ঢাকাগামী ট্রেনতো পূব দিকের প্ল্যটফর্ম থেকে ছাড়বে, অগ্যতা ওভার বৃজ দিয়ে(আমি আবার এই নিয়ম মেনে চলার পক্ষ পাতি) ওপারে তথা পূবপারের প্ল্যটফর্মে। এখানে দেখলাম ৫'x৫' x৭' কক্ষে ঢাকা গামী টিকেট বিকৃ করছে(জনগন ঠেকে শিখবে, সরকারের দ্বায়িত্ব শুধু ট্রেন চালানো!!)
কিছু পুলিশ অলসভাবে বসে সেল ফোনে ব্যস্ত থাকার বৃথা চেষ্টা করতে দেখলাম, তাদের ইন-চার্জ স্মার্টফোন নিয়ে একটু বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখলাম।

টিকেট বিক্রেতা জিজ্ঞেস করলাম, বনানীতে থামে এমন কোন ট্রেন এখন আছে কি না। বলল ১২ঃ৩০ মিনিটে একটা থাকতে পারে!
সামনে দিয়ে পরপর দুটো লোকাল ট্রেন যেতে দেখলাম, জিজ্ঞেস করলাম,
-- এ গুলো কোথায় যাবে?
-- এঘুলো ঢাকায় (মানে কমলাপুর)
-- রাস্তায় মহাখালী, ফার্মগেট থামবে?
-- মহাখালী, ফার্মগেট কি স্টেশন আছে, যে থামবে, (টিকেট বিক্রেতার বিরক্তি কন্ঠে উত্তর, অথচ চেন টানলেই থামানো যায়, বা নগরের ভেতরে চলাচলকারী ট্রেনের জন্য সাধারনতঃ আধা কিমি পরপর স্টপ থাকে, তা করা যেত।)

"প্ল্যন ই"
না সড়ক পথেই "কামলা স্থলে" যেতে হবে। আবারও এয়ারপোর্ট রাস্তার মোড়, এবার হঠাৎ করেই "লেগুনার" বাপকে(টয়োটা পিক আপ এর মনে হোল) পেয়ে গেলাম। যাবে ফার্মগেট হয়ে শাহবাগ। চার মহিলা যাত্রী সহ ঠাসাঠাসি করে উঠে গেলাম। আজকাল বাস্তবতার নিরিখে মহিলা যাত্রীরা এই ঠাসাঠাসি পরিবেশ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন, মনে হোল। গ্রামের রাস্তায় সিএনজি শেয়ার করার সময়ও একই পরিবেশ। টিকেটের পিচ্চিটা কিন্তু মাঝ বয়েসি ছিল, ছবির ন্যয় নয়।

রাত নটায়, ফেরার পথে চার চাকার লিফ্ট পাওয়াতে বেগ পেতে হয় নি আমার, কিন্তু পথে প্রচুর অসহায় যাতৃদের যান ববাহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।
বাসের সংখ্যা ছিল নগন্য। জনগন ছোট এক টন ই ট্রাককে যাতৃবাহী ট্রাক হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।
এবং রাস্তায় যান বাহনের সংখ্যাও ছিল কম।
আজ বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানস্থ কর্মস্থলের গেটে পুলিশ তালা লাগিয়ে দিয়েছিল বিকেল বেলায়। কার "উর্বর" মস্তিস্কের ভাবনা এটা, বোঝা গেল না।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানুষের মধ্যে এমন কেউ কী আছেন, যাঁরা AI-এর কাছে নিজেদের জ্ঞান, লেখার দক্ষতা কিংবা সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর ভয় পাচ্ছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪




এআইকে বলে ছিলাম- তুমি বলতে গেলে একটা গেদা বাচ্চার মত। এর মধ্যে অনেক মানুষ তোমাকে হিংসা করে। বিষয়টা কি?

উত্তরে এআই বলল- হা হা! আপনার কথাটা শুনে হাসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুজুরের কি শরিয়াহ আইনে বিচার হবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১২


মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর জন্য খারাপ লাগছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ এবং এ নিয়ে লাইভ করার অভিযোগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×