
বাংলাদেশের ঈশ্বরদি তে দেশের প্রথম বানিজ্যিক পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে চলেছে।
খুবই আনন্দের বিষয়।
পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র "বেস লোড" এর জন্য ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ এই কেন্দ্রটি সর্বদা চলবে।
কিন্তু পারমানবিক চুল্লির নিরাপদ ব্যবস্থা অত্যন্ত লাগসই ও কার্যকরি হতে হয়, না হলে বাংলাদেশের ন্যয় জনবহুল দেশ স্মরনকালের শত বছরের বিপদে পড়তে পারেন।
উন্নত দেশ রাশিয়া এইসব বিষয় নিশ্চয়ই নিশ্চিত করে কাজটি করবেন।
পারমানবিক বর্জ্য ও একটি বিশাল বিষয়, একটি নষ্ট হতে কয়েকশত বছর থেকে কয়েক হাজার বছর লেগে যায়, নির্ভর করে কোন মৌলিক পরমানু এবং কি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা ভাল বলতে পারবেন।
আমি শুধু জাপানের ফুকুশিমায় সংঘটিত পারমানবিক দূঃর্ঘটনা ও এর পরবর্তী অবস্থার কথা গুলো উল্লেখ করার চেষ্টা করব।
জাপানের ফুকুশিমা দুর্যোগটি ১৯৮৬ সালে চারনোবিল দুর্যোগের চেয়ে কম কিছু নয় এবং পারমানবিক দূর্ঘটনায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দুর্যোগ অভিহিত করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক বিপর্যয় বলা হলেও, ফুকুশিমার দুর্ঘটনায়, ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা চেরনোবিল এর তুলনায় প্রায় নাই বললেই চলে।
কিন্তু ফুকুশিমায় বিকিরণ এর কারণে, ৩০ কিমি রৈখিক বৃত্ত এলকায় বিকিরণ ও নিরাপত্তা অনুযায়ী, আগামি প্রায় ১৩০-৬০০ বছর পর্যন্ত কোন লোকের বসবাস যোগ্য হবে না। ছবি বা ওপরের ম্যাপটি দেখুন।
এ ধারনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টের থেকে এসেছে। কারন সেখানে গর্ভপাতের, মৃত বা দুর্ঘটনার পর জন্ম শিশুর শারীরিক ও মানসিক রোগ বৃদ্ধি হবে।
খোদ জাপান সরকারই ফুকুশিমা পারমানবিক চুল্লির ৩০ কিমি বৃত্ত এলাকা থেকে দূঃর্ঘটনা র পর সকল জনবসতি সরিয়ে ফেলেছেন। আগামি ১০০ ~ ৩০০ বছর পর্যন্ত বিকিরন মাত্রা স্বাস্থ সম্মত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে সেখানে বাস করতে দেয়া হবে না।
যদি গৃন পীস ইন্টারন্যশানাল এর সাইটে যান, তাদের মতে ভয়াবহতা আরও অধিক।
ফুকুশিমা বিপর্যয়
ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় আমাদের আবার দেখিয়েছে যে পারমাণবিক চুল্লি মৌলিকভাবে বিপজ্জনক। এই প্রযুক্তি শুধু পরিবেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে না, জনগোষ্ঠী, জাতীয় অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, এলাকা; কয়েকশত বছরের জন্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে ফেলে। বিশ্বের ৪৩৬ টি পারমাণবিক চুল্লির কোনটিই মানুষের ত্রুটি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মুক্ত বলে ধারনা করা যায়না। অনেক গুরুতর দুর্যোগ হতে পারে, লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা পারমাণবিক চুল্লির কাছাকাছি বাস করে, তাদের জীবন ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকে।
প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রতলদেশের চেয়ে উচ্চতর পর্যন্ত ফুকুশিমা নদী বরাবর বিকিরণ প্রয়া ২০০ গুন অধিক- গৃনপিস
প্রেস রিলিজ - জুলাই ২১, ২০১৬
টোকিও, ২১ জুলাই ২০১৬ - ফুকুশিমা উপকূলে সমুদ্রতলদেশের মধ্যে তেজস্ক্রিয় দূষণ, উপরে প্রাক ২০১১ সাল থেকে মাত্রা নদী দূষণ সমুদ্রের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি রেকর্ডকৃত।
সিএনএন এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছেঃ-
সিএনএন এর ২০১৬ সালের প্রতিবেদনটি বেশ বড়। শুধু লিংকটি পড়ার জন্য নিচে দেয়া হোল।
ফুকুশিমা - পাঁচ বছর পর

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



