somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিলিং মিশন দায় কার?

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন আগের ঘটনা পূর্বাচল থেকে গুলিবিদ্ধ তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ! পরিচয় মিলেছে হতভাগ্য তিন যুবকের। তবে কারা, কী কারণে তাদের হত্যা করলো, জানা যায়নি। পুলিশ কোনো ক্লু পাচ্ছে না। কেমন অদ্ভুদ কথা তাই না?
পরের কথায় আসি, ক্লু নিয়ে সামনে এলেন নিহতদের পরিবার। ডিবির জ্যাকেট পরা ছয়-সাত জন তাদের তুলে নিয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের ডিবি বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ফেরিঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে এসব তথ্য জেনেছেন।

পূর্বাচলে তাদেরই লাশ পাওয়া গেছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এমন ঘটনা কিন্তু নতুন নয় বেশ পুরনো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কেন মানুষকে তুলে নিবে, কেনই বা হত্যা করবে?

পুরনো কিছু প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন কাজ করবে এটা তো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা হতে পারে না। তাহলে ডিবি পরিচয়ে কারা মানুষকে তুলে নিচ্ছে, হত্যা করছে? সাধারণ মানুষের মনে এখন ‘আতঙ্ক’ কাজ করছে।
আমরা তো পুরনো ঘটনাগুলো মনে রাখতে পারি না। এমনকি বিগত এক মাসের কথাও ভুলে যাই বেমালুম! ‘ডিবি’ লিখে যদি একটু গুগলে সার্চ দেন আর কয়েকটি স্টেপ মনোযোগ নিয়ে পড়েন তবে অসংখ্য সংবাদের সন্ধান পাবেন। যেমন- ‘ডিবি পরিচয়ে এক নারীকে তুলে নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি’, চট্টগ্রামে ৮ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা’, ‘ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার’, এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারঃডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা। ব্যাপক খবর পাওয়া যাবে। এইগুলি কিন্তু পত্রপত্রিকাতে আসা খবর।

এখন কথা হচ্ছে, সংবাদগুলো সত্য নাকি মিথ্যে? ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যে বিশেষ কোনো মহল, এসব অপকর্ম করছে কি না? উত্তরে কী আসবে? সন্ধান করা ডিবিরই দায়িত্ব। অসত্য হলে তা দেশের মানুষকে জানানো দরকার। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় সংবাদগুলো মিথ্যে নয়। ডিবি এই পর্যন্ত মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা করেনি। কোনো মহল এসব করে থাকলে, তাদের সন্ধান- ধরাও ডিবিরই দায়িত্ব।

একেবারে করছে না, তা বলা যাবে না। বেশ কিছু ‘ভুয়া ডিবি’ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ‘ভুয়া ডিবি’ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবও।
রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা পুলিশের ভাবমূর্তি জনমনে গতিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তুলে নেওয়া বা অপহরণের একটি অভিযোগ আসার পরে, কখনো বলা হয়েছে ‘আমরা করিনি’। কখনো কোনো কিছু না বলে চুপ থাকা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে টেনে হেঁচড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছিল ডিবির বিরুদ্ধে। নানা শঙ্কা চললো। তারপর ডিবির পক্ষ থেকে বলা হলো, তুলে আনা হয়নি- তথ্য জানার জন্যে তাদের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল।

কক্সবাজারে গতবছর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে টাকাসহ আটক হয় ৭ ডিবি পুলিশ সদস্য। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে।
১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল সভাপতিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো। দুই দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতারা আত্মগোপনে ছিলেন না। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিবি তথ্য জানার জন্যে তাদের ডাকা যেতে পারতো।

যদি ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর ডিবির বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো কেনো? এসব প্রশ্নের উত্তর যখন থাকে না, তখন সামনে যে সংবাদ আসে সবই বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে যায়।

মনে আছে সেই সেভেন মার্ডারের কথা? ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর জামাতার কুকর্মের কথা? কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যার কনট্রাক। নারায়ণগঞ্জে ৭ অপহরণ হত্যা র‍্যাব কর্তৃক সংঘটিত, এই সত্য জানার পর মানুষের কাছে কোনো কিছুই যেন আর অবিশ্বাস্য মনে হয় না। ব্যবস্থা মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘প্রত্যাহার’ এবং কিছুদিন পর আবার পদায়ন!

ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে ডিবি- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহৃত হওয়ার পর যারা ফিরে এসেছেন, কারা তাদের অপহরণ করেছিল, তা অনুসন্ধান করতে দেখা যায়নি।

দিন কয়েক আগে হজ ফিরৎ বাবাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন এক শিবির নেতা।

১২ জন শিক্ষার্থীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল ৫ সেপ্টেম্বর। ডিবি তাদের আদালতে হাজির করেছে ৫ দিন পর ১০ সেপ্টেম্বর। ৫ সেপ্টেম্বর যে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা ডিবি স্বীকার না করে বলেছে ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করেছে।

ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া মানুষের লাশ পাওয়া যায় সংবাদে, মানুষের মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয় রাষ্ট্রীয় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সম্পর্কে? মানুষের মনোভাব কেমন হয়, তা জানাটা কি অতি জরুরি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৪২


ছবিঃ আমার তোলা।

মন মেজাজ ভালো নেই।
তাই ব্লগে কম আসি। কম লিখি। যদিও বেশ কিছু লেখা মাথায় জমে আছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্লগে আসলে ঝামেলা হয়ে যাবে। দেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ভবঘুরে ইকবাল হোসেন জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫



গত বুধবার ভোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। ব্যস আর যায় কোথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ও আমার পৃথিবী......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

আমি ও আমার পৃথিবী......

আজও খুব ভোরে উঠেছি প্রতিদিনের মতো। আকাশে তখনও আলগোছে লেগে রয়েছে রাত্রির মিহি প্রলেপ। আমার চেনা পাখিরা জেগে ওঠেনি তখনও। মনটা কেমন যেন একটু বিস্বাদে ভরে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

লিখেছেন শায়মা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×