somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে সকল মঙ্গল থেকে বঞ্চিত!

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় নম্রতার, বিনয়ের, কৃপার। এই ব্যাপারে প্রচুর নির্দেশ আছে। যেমন মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ কৃপাময়। তিনি সমস্ত বিষয়ে নম্রতা ও কৃপা পছন্দ করেন' (১)। তিনি বলেন, 'যে নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে সকল মঙ্গল থেকে বঞ্চিত' (২)। এছাড়াও বলেন, 'আমি কি তোমাদের এমন লোকের কথা বলে দেব না, যে জাহান্নামের জন্য অথবা জাহান্নাম যার জন্য হারাম হবে? প্রত্যেক জনপ্রিয়, সরল, বিনম্র ও অকুটিল লোকের জন্য জাহান্নাম হারাম' (৩)। আরো অনেক আছে, যেমন বলা হয়েছে আল্লাহ নম্রতার উপর যা দেন তা কঠোরতা বা এ ব্যাতীত অন্য কিছুর উপর প্রদান করেন না। নম্রতা যে জিনিসেই থাকে তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলে, আর যাতে থাকেনা সেটা সৌন্দর্যহীন হয়ে পড়ে।

যাইহোক, এই নম্রতা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই দরকার এবং সবার সাথেই দরকার। পরিবারের লোক হোক বা স্ত্রী সন্তান অথবা সহকর্মী, বস কিংবা নিজের অধীনস্থ কেউ। এমনকি রিক্সাওয়ালা, ফকির কিংবা শত্রুই হোক! আর কাউকে দাওয়াহ দেওয়া বা ইসলাহ করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিশীম। এই নম্রতা এত গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা কুর'আনের একটা ঘটনা থেকেও উপলব্ধি করতে পারি। এই ঘটনায় আমরা শিক্ষা পায় কিভাবে ফিরাউনের মতো জালিম শাসক, যেকিনা নিজেকেই ভগবান বলে প্রচার করত! যার ব্যাপারে মুশা/মোজেস (আ.) -এর সময় থেকে আলোচনা হয়ে আসছে এবং কিয়ামাত পর্যন্ত তার নিকৃষ্টতার আলোচনা হবে; সেই অত্যাচারী ব্যক্তির সাথেও নবী মুশা এবং হারুন (আ.)-কে মহান আল্লাহ নম্রতার সাথে কথা বলতে বলেছেন! আল্লাহ বলেন, 'তোমরা দু'জন ফেরাউনের নিকট যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে; হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে' (৪)।

এব্যাপারে আরো একটি চমৎকার শিক্ষনীয় ঘটনা শুনুন। যেটা আমার খুব প্রিয়। বাদশা মামূনের নিকট একবার এক আলেম বক্তব্য দিতে গিয়ে বাদশাকে খুব কঠোর ভাষায় ওয়ায নসিহত করতে লাগলেন। তখন বাদশা মামূন সেই ওয়াযকারীর উদ্দেশ্যে বললেন, 'হে অমুক! নম্র ভাষায় কথা বলুন। আল্লাহ তা'আলা আপনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি (মুশা এবং হারুন) -কে আমার চেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ (ফেরাউন) এর নিকট পাঠিয়ে তাঁদেরকে নম্রভাবে কথা বলতে আদেশ দিয়েছিলেন'।

১. বুখারী/৬৯২৭
২. মুসলিম/৬৭৬৫; আবু দাউদ/৪৮০৯
৩. তিরমীযি/২৪৮৮; সহীহুল জামে/২৬০৯
৪. সুরা ত্ব-হা/৪৩-৪৪
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×