somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিকিৎসার জন্য ভারত (চেন্নাই বা ভেলোর) যেতে চান?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভেলোর যাওয়ার আগে ঠিক এই শিরোনামে আমি গুগল করেছিলাম, কিছু না পেয়ে সেদিনই ঠিক করেছিলাম এসে লিখব। অনেকদিন ধরে লিখবো বলে ভাবছি, কিন্তু সময় করে লেখা হয়ে ওঠে না। আমি ভেলোর গেছিলাম ২০১৬ সালের শেষ দিকে মায়ের চিকিৎসার জন্য। যেহেতু ভারতে যাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, সেজন্য বেশ সুবিধা হয়েছিল।

ভিসা পাওয়ার আগেই আমরা কলকাতা টু চেন্নাই বিমান টিকেট করেছিলাম। একমাস আগে টিকেট কাটার কারণে ভাড়াটা খুব বেশি পড়নি। দুজনে ১১০০০ বাংলাদেশি টাকা। আপনার চাইলে ট্রেনেও যেতে পারেন। ১০-১৫ দিন আগে টিকেট কাটলে চেন্নাই এক্সপ্রেস বা করমন্ডল এক্সপ্রেস এ দুজনে নন এসি ২০০০ টাকার মতো আর এসি ৫০০০ টাকার মতো পড়বে তবে হ্যা, টিকেট কিন্তু অবশ্যই কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে কাটতে হবে।

তো যাই হোক ফ্লাইটের নিদিষ্ট তারিখের আগের দিন বেনাপোল দিয়ে ভারত ঢুকে পেট্রাপোল থেকে অটোতে ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে গেলাম বনগা স্টেশন। সম্ভবত ৩০ রুপি করে টিকেট করলাম। ঘন্টা তিনেক পর দমদম স্টেশনে নেমে পড়লাম। যারা ট্রেনে টিকেট করবেন তারা হাওড়া বা শিয়ালদাহ স্টেশনে নামবেন। পাশে একটা হোটেলে থেকে সময়মতো ট্রেন ধরবেন। আমরা দমদমে হোটেল টাইটানে ছিলাম, একরাত ১০০০ রুপি।

বিকাল ৫ টায় ফ্লাইট ছিলো আমরা ১২ টায় হোটেলে চেক আউট করে দুপুরে খেয়ে হেটেই এয়ারপোটে গেছিলাম, ওখান থেকে এয়ারপোট ১ কিলোমিটার মত হবে। ঘন্টা দুয়েকের মত সময় লাগে আকাশপথে। সাতটার দিকে আমরা চেন্নাই এয়ারপেোটে নামি। কেউ কেউ চেন্নাইয়েই যায় চিকিৎসা করাতে যেমন অ্যাপোলো হাসপাতাল, শংকর নেত্রালয় এম মত বিখ্যাত হাসপাতাল চেন্নাই শহরেই, একটা অটো ধরে এয়ারপোট থেকে খুব সহজে এসব হাসপাতালে যাওয়া যায়, চেন্নাইয়ে সাধারনত তামিল ভাষা চলে, এজন্য একটু বিড়ম্বনা পোহাগে হতে পারে।

আমরা যেহেতু ভেলোর যাব, নতুন জায়গা আবার অল্প খরচে যেতে হবে তাই আমরা ট্রেনে গেছিলাম, এয়ারপোট থেকে অটোতে চেন্নাই সেন্ট্রাল জংশন, সেখান থেকে কাডপাটি স্টেশনের টিকেট কাটতে হবে। কাডপাটি স্টেশনে পৌছায়তে সময় লাগবে ঘন্টা তিনেক। সেখান খেকে বাসে করে ভেলোর, ৩০ মিনিটের পথ।
আবার চেন্নাই কয়েমবেডু বাসস্টপ থেকে সরাসরি ভেলোর যাওয়া যায়। এতে খরচ ও সময় দুটোই বেশি লাগে।

আমরা রাত ১২ ‍টার দিকে ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে পৌছায়। হাসপাতালের আশে পাশে শুধু আবাসিক হোটেল আর হোটেল। সামর্থ অনুযায়ী যে কোনো দামের হোটেলে থাকতে পারবেন। তিন বছর আগের কথা, আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম, ভাড়া ছিল একদিন ২০০ রুপি।

পরদিন খুব ভোরে আমরা ভারতের বাইরের রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক একটা ডেস্ক আছে, সেখানে গেলাম। ছোট ডাক্তাররা প্রাথমিক সমস্যাগুলো শুনে কোন ডিপার্টমেন্টে যেতে হবে তা ঠিক করে দেয় সাথে একজন ডাক্তারের এপোয়েনমেন্ট, কপাল ভালো থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যাবেন। আমাদের আগেই এপোয়েনমেন্ট করা ছিল। তাই সমস্যা হয়নি। ও আরেকটা কাজ করা লাগে, হোটেল থেকে একটা ফরম পুরন করে ভেলোর পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক, নইলে বাইরের রোগী ডাক্তাররা দেখে না।

পরেরদিন আমাদের দুইটা ডিপার্টমেন্টে অ্যাপয়নমেন্ট ছিল, খুব ভোরে গিয়ে প্রথমটা কাভার করলেও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২য়টিতে ডাক্তার দেখাতে রাত ৮টা বেজে গিয়েছিল। ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ এর ডাক্তাররা যত রাতই হোক ঐ দিনের সব রোগী দেখে তবেই চেম্বার ছাড়েন, এটা একটা সুবিধা, তবে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এখানে যাওয়া মানে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা লাগে।

আমরা ছিলাম ১৫ দিন এর মধ্যে এক রবিবারে আমি ভেলোর ফোর্ট, নারায়নের স্বর্ণমন্দির দেখতে গেছিলাম, আরেকদিন পাহাড়ে উঠেছিলাম। কাজ শেষ হলে আমরা ট্রেনে করে ফিরেছিলাম। টিকেট তাৎক্ষনিক পাওয়া যায় না, পরে তৎকাল নামে একটা সিস্টেম আছে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য, যে টিকেটগুলো অন্যান্য যাত্রী ক্যানসিল করে প্রতিদিন সকালে সেগুলো ইন্ডিয়ান রেলওয়ে অনলাইন নিলামে তোলে একেই বলে তৎকাল, আমারা চেন্নাই এক্সপ্রেসে তৎকাল (টিকেট নিলাম) টিকেট কাটলাম। ৭৮৫ রুপির টিকেট কাটলাম ২২০০ রুপি দিয়ে।

ভোর ৫টায় ট্রেন ছিলো চেন্নাই সেন্ট্রাল জংশন থেকে। রাত ৩ টায় ভেলোর থেকে সিএনজিতে করে চলে এলাম চেন্নাই সেন্ট্রালে। যথাসময়ে ট্রেন ছাড়লো, সম্ভবত ৩৬ ঘন্টা পর হাওড়া স্টেশনে নামলাম আমরা মা-ছেলে।

চেন্নাইয়ে চিকিৎসার পর মা বেশ ভাল আছে, এর মধ্যে আমি বেশ অসুস্থ হয়ে এবছরের প্রথমদিকে গেছিলাম এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, হায়দ্রাবাদ এ। সেটা নিয়ে লিখবো আরেকদিন।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২১
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ ও আগামী

লিখেছেন আবু সিদ, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১৫

অন্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করো না, মানুষ !
অন্যের হাতের শিল্প হয়ো না।
অন্যের চোখে বিশ্ব দেখ না,
অন্যের সুর-নৃত্যে আর দুলো না।
নিজেকে খুঁজে নাও তুমি!
বুঝে নাও নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি সত্যিই দেখি, নাকি যা বিশ্বাস করি কেবল সেটাই দেখি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমলা বেগম ঈদের সকালে গোরুর মাংস রান্না করতে বসেছিলেন। গতবছর কোরবানির ঈদে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে আনা মাংস, মাসের পর মাস পাশের বাড়ির ফ্রিজে থাকা, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বিশ্ব এবং এর মাঝেই আমাদেরকে একটু আনন্দ নিশ্চিত করতে হবে

লিখেছেন শোভন শামস, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯








ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহ অতিক্রম করছে। যুদ্ধের তীব্রতা না কমে বরং পারস্পরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×