somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমেরই ছোটগল্প

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শনিবারের ঘটনাটা স্নেহাকে ব্যাপক ভাবে নাড়া দিয়েছে। সে ছোট বেলা থেকে কখনোই কারো কাছে এতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয় নি। রাইফ তাকে বলেছে - সে নাকি ফেইক!!! শুধু বললেও একটা কথা ছিল, রীতিমতো ফেইসবুক থেকে আনফ্রেন্ড ও করে দিলো ! তার মানে এতদিনের যে ফেইসবুক আলাপনি , তার কোনো গুরুত্ব নেই !

ফেইসবুক বন্ধু হোক /এমনি বন্ধু হোক কিংবা অন্য কিছু , রাইফকে তার কখনোই এতটা খারাপ লাগে নি, বরং অন্যান্য ফেইসবুক বন্ধুদের থেকে একটু আলাদা ই মনে হয়েছে। রাগ, দু:খ , অভিমান সবকিছু মিলিয়েই এক ধরণের মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে স্নেহার মনে। নিজের আনমনেই রাইফের সাথে হয়ে যাওয়া আগের চ্যাট হিস্ট্রি ঘেটে চলছে স্নেহা। কি কিউট ছিল আলাপনগুলো ! চ্যাট হিস্ট্রি দেখতে দেখতেই হটাৎ চোখে পড়লো - রাইফ তার এক বন্ধুর কথা স্নেহাকে বলেছে যে কিনা স্নেহার খুব কাছাকাছি ই থাকে /কাজ করে। আনমনেই স্নেহার মনে একটা জেদ চেপে বসলো। এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার পর আর বসে থাকা যায় না।
........................................

রবিবার সকালে রেডি হয়ে স্নেহা বাসা থেকে বের হলো। বড় বাজার এলাকায় এসে আর বি ব্যাংক এর সিঁড়ির সামনে এসে একটু যেন থমকে দাঁড়ালো। একটু ভেবে উপরে উঠে গেলো সে।

স্নেহা : আচ্ছা এ অফিসে হাসান সাহেব কে ?
দারোয়ান : জি মেডাম। ..ওই যে উনি হাসান স্যার।

হাসান তার ডেস্কে ভীষণ ব্যস্ত। এর মাঝেই স্নেহা তার সামনে গিয়ে বললো -
স্নেহা : হাসান ভাই। ...
হাসান : (একটু অবাক হয়ে ) জ্বি বলেন। ....
স্নেহা : ভাইয়া - আপনার সাথে একটু কথা ছিল। একটু সময় হবে ?
হাসান : আচ্ছা। আপনি ওই সোফায় বসুন , আমি হাতের কাজ টা সেরে আসছি। ৫ মিনিট।

একটু পর ,......
হাসান : সরি আপনাকে বসিয়ে রাখলাম। আপনাকে তো ঠিক ,......
স্নেহা : আপনি আমাকে চিনবেন না। কাছেই থাকি আমি। আপনার বন্ধু রাইফের কাছে এই টা একটু পৌঁছে দিবেন প্লিজ। আর আপনার বন্ধু কে বলবেন - স্নেহা এসেছিলো।

এটা বলেই স্নেহা হাসানের হাতে একটা নীল খাম তুলে দিলো আর দ্রুত বের হয়ে গেলো।

ঘটনার আকস্মিকতায় হাসান কিছুটা থ: হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মনে মনে চিন্তা করলো - শালার রাইফ , তোর পেটে কয়টা ভাত আছে সেই খবর ও আমার জানা, আর এই সুন্দরী তোকে প্রেম পত্র দেয় -!!! আমি জানি না !!!

সাথে সাথেই হাসান ফোন দিলো রাইফকে।

রাইফ : হ্যালো। ..
হাসান : কি রে ??? ডুইব্বা ডুইব্বা জল কায়ালছস?
রাইফ : কি ? বুঝলাম না। ডিটেইল বল।
হাসান : তোর একটা প্রেম পত্র আছে আমার হাতে।
রাইফ : প্রেম পত্র ! কি কস উল্টা পাল্টা ?
হাসান : শোন , আমি একটু বিজি, স্নেহা নামের এক সুন্দরী মেয়ে আসছিলো আমার ব্যাংক এ। একটা চিঠি দিয়ে বললো তোকে দিতে। আমি একটু পর ই কুরিয়ার করে দিচ্ছি তোকে। পরে কথা বলবো। রাখি।

মাথাটা কেমন যেন ঝিম ঝিম করে উঠলো রাইফের। বুকের ভেতর ও একটু যেন ধ্বক করে উঠলো। এত সাহসিকতাপূর্ণ কাজ স্নেহা করে বসবে তা সে চিন্তাই করেনি।

সেদিন চাইলেই রাইফ স্নেহার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি , চিঠির জন্যে ছিল তার অসহনীয় অপেক্ষা। পরদিন সকালেই কুরিয়ারে হাতে চিঠি পেলো রাইফ। চিঠিটা খুলতেই একটা সাদা কাগজে লিখা - " আমি ফেইক নই জনাব , আমি ই রিয়েল স্নেহা। আপনি এখন চাইলে আপনার বন্ধুকে আমার ছবি দেখিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন আমি ই সেই মেয়ে টি কিনা। ও আরেকটি বিষয় - আমি কিন্তু আমার ফেসবুকে আইডি অফ করে দিয়েছি। যেখানে এত সন্দেহ , সেখানে আমি না থাকাটাই স্বাভাবিক নয় কি ?

বি: দ্র: আমি যতদিন ফেইসবুক আইডি না খুলছি, আমাকে খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করবেন না। অপেক্ষা করতে হবে। এটাই আপনার শাস্তি। হু :"

রাইফের হাত কাঁপছে , এ ছিল এক মিশ্র অনুভূতি যেখানে মেশানো ছিল - আনন্দ, কোনো কিছু হারিয়ে পুনরায় ফিরে পাওয়ার তৃপ্তি, অদ্ভুত এক শিহরণ !
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:২০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×