অন্যান্য দিনের মত দীর্ঘ জ্যামের পরে ফেরীতে বাস উঠলো। সাড়ে নটায় ঘাটে পৌঁছায় বাস, ফেরী ছাড়ে দুইটায়। আমি ল্যাপটপ থেকে মোবাইলে চার্জ দিয়ে নিচ্ছি। হালকা বাতাস হচ্ছে। এরই মধ্যে নিচ থেকে কেউ একজন চেঁচিয়ে উঠলো, কেউ ফেরীর পাশে যাবেন না, বাসে বসে আল্লাহ আল্লাহ করেন। আমি কিছুটা বিরক্ত হলাম। আল্লাহর নাম করা ভালো কাজ হলেও এই মুহূর্তে এরকম পরামর্শ মনের উপর চাপ দেয়। কিন্তু পরমূহূর্তে ফেরী খানা প্রচন্ড রূপে দুলে উঠলো। সেকি দুলুনি। বাসের হেলপার ছেলেগুলো দ্রুত তৎপরতায় বাসের ছাদের রডের সাথে দড়ি বেঁধে একটার সাথে আরেকটা শৃংখলিত করে ফেললো। সব বাসের আলো নিভিয়ে দিলো। যাতে কেউ কারো ভীতিকর মুখ দেখতে না পায়। ব্যাখ্যাটা আমি নিজে দাঁড় করিয়ে নিলাম। পুরো বাস স্তব্ধ। কেউ কেউ অনুচ্চ স্বরে দ্বরুদ পড়ছে। ফেরীর সার্চ লাইটের আলোয় একবার দেখলাম কি উঁচু উঁচু ঢেউ। ঢেউ গুলো বাসের ছাদের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। এই সময়ে নানী ফোন দিলেন, কতদূর পৌঁছাইছো। বুকের মধ্যে মোচড়াচ্ছিলো। গলা শান্ত রেখে বললাম, এই তো নদী পার হচ্ছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই পার হয়ে যাবো। ফেরীর লোকজন সব একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো, ফিরে চলো। কিন্তু আধুনিক যুগে মান্ধ্রাতা আমলের প্রযুক্তিতে চলা ফেরী মাঝ নদীতে দিক হারিয়ে খাবি খেতে লাগলো। ভোর পাঁচটার দিকে মাওয়া ঘাটে ফেরী ফিরে এলো। জীবনের আড়াই ঘন্টার এক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত কাটালাম। মৃত্যু খুব কাছ থেকে চলে গেলো। আলো ফোঁটার পরে অন্য একটি বড় ফেরীতে করে আমাদের বাসগুলো পার করে দেয়া হলো। বাড়িতে পৌঁছালাম বেলা এগারোটায়। খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি ফেসবুক মেসেঞ্জারে আমার এক ছোট ভাই মেসেজ দিয়েছে, ভাই সাবধানে বাড়ী পৌছাইছেন এই জন্য আল্লাহকে শুকরিয়া জানাই। আজ দুপুরে মাওয়ায় লঞ্চ ডুবেছে। আমি তড়িৎ প্রথম আলোর অনলাইনের সংস্করনে ঢুকলাম। এখনও পর্যন্ত কয়েকজনের প্রাণহানীর খবর ছেপেছে। লোকগুলোর জন্য মায়া হচ্ছে। পথযাত্রী লোকগুলো গন্তব্যের জন্য পথে বেরিয়েছিলো। এভাবে নেই হয়ে যাওয়ার দেশে যাওয়ার কথা কে ভেবেছিলো! আমিও কি গতরাতে ভাবতে পারছিলাম। সারা শরীর গুলোচ্ছিলো। তবুও ভরসা রেখেছিলাম, আল্লাহ বাঁচাবেন। আবুল হোসেনেরা যদি শাস্তি পেত তবে আমরা আরো একটু আগে হলে পদ্মা সেতুর দেখা পেতাম। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিম্নচাপচলাকালীন সময় একদিন মাওয়ার একরম একটি লঞ্চে করে নদী পার করা উচিত।
আলোচিত ব্লগ
কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।
মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
পরিস্থিতি কি জটিল?

আজকের ডায়েরী- ২০৩

খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা
সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।