somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্ধ

১৬ ই মে, ২০১৫ রাত ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় রানা,
নিশ্চয়ই ভাল আছ। তুমি তো আবার ভালোদের দলে ! তোমার মত পাগল আমি একটাও দেখি নি এ জন্মে । পরের জন্মে দেখবো কিনা কে জানে । তাই চিন্তা করছি তোমাকে সাথে করে একদিন চন্দ্রিমা উদ্যান এ ঘুরতে যাব। কিন্তু আমি এখনো সিদ্ধান্তে পৌছুতে পারছি না তার কারন, তুমি তো আবার সভ্য কোন স্থানে যাও না....!


এতটুকু পড়ে চিঠিটার গন্ধ শুকলো রানা । এটা তার ছোটবেলার অভ্যাস । এমন কোন কিছু নেই যেটার গন্ধ সে শুকে না । হাতের কাছে যা পায় তার গন্ধ ই সে নেয় !

আজ সকালে তার ঘুম ভাঙলো পোস্টম্যানের ডাকাডাকিতে । বিছানা থেকে উঠে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললো । মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে তোলার আগেই পোস্টম্যান হাসি হাসি মুখে বলে উঠলো "স্যার,একটা স্পেশাল চিঠি ! "
-স্পেশাল তুমি বুঝলে কিভাবে?
-স্যার, আমি বুঝি! সকাল সকাল যেসব চিঠি আসে তা স্পেশাল ই হয় ।
-ও

কি জানি, হবে হয়তো... চিঠি পেয়ে দরজা লাগাতে লাগাতে চিঠি টা নাকের সামনে নিয়ে আসতেই বুঝতে পারলো এটা 'রাহি'র চিঠি । কিন্তু এত সকালে রাহি কেন চিঠি পাঠাবে??

চিঠিটা অর্ধেক পড়তে পড়তে ই তার ঘুম চলে আসলো । যদিও ঘুমুতে পারলো না মশার কামড়ে । সারারাত এরা কামড়ে কামড়ে রানার বা হাত টা ফুলিয়ে ফেলেছে । এদের কয়েকটা কে সে রাতেই না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে । আরও কয়েকটা ভাগ্যের গুনে বেঁচে থাকলেও রানার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এদের কপালে আজ দুঃখ আছে । কিন্তু তাতে বাধ সাধলো পোলাও এর গন্ধ । তার মনে পড়লো আজ তো শুক্রবার । মেসে আজ পোলাও দিবস হবে । সে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেলো....।

বিকেলে চন্দ্রিমা উদ্যানে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো রাহি র । রাহি আসছে । মুখে হাসি ফুটে উঠলো রানা র ।
তাকিয়ে থাকল । চোখের পাতা যেন পড়ছেই না তার । ঠোটে গাড় করে লিপস্টিক, চোখে মোটা করে কাজল,মোটা পাড়ের হালকা নীল শাড়িতে রাহি কে বেহেশতি হূর পরী দের মত লাগছে । সে ভেবে পাচ্ছে না এতটা সুন্দর করে এরা কিভাবে সাজে ।
রাহি দেখছে রানা তার দিকে হাবলার মত তাকিয়ে আছে। ছেলেটা তাকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু তাদের সম্পর্কের ৩ বছর চলছে অথচ সে একবার ও তাকে 'ভালোবাসি' কথাটা বলে নি। রাহি জোর করলে তবেই বলে ।
-আমার দিকে তাকায়া আছ কেন??
-কেন তাকায়া থাকা কি গুনাহ নাকি???
-আরে আজব তো আমি বলছি নাকি গুনাহ হবে??? তুমি এত বেশি বুঝো কেন?? তুমি সবসময় ই বেশি বুঝো !

রানা বুঝতে পারলো আর থামানো যাবে না রাহি কে । একবার শুরু করলে তার রাগ এত সহজে কমে না। সে চিন্তা করতে শুরু করলো কিভাবে তা কমানো যায় ।
-'তুমি আজকে নিশ্চয়ই স্ট্রবেরি ফ্লেভারের লিপস্টিক দিয়েছ?? 'রানার মুখে চাপা হাসি ।
-'হুম,তুমি কিভাবে জানলে??' রাহি বিস্মিত ।
-তুমি যখন সাজছিলে তখন আমি তোমার পাশে ছিলাম।তোমাকে অনেক ভালোবাসি তো তাই সবসময় তোমার পাশে থাকি কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে পাও না।
-এই তুমি মিথ্যা বলবা না । আমি একদম মিথ্যা পছন্দ করি না ।
-'তুমি নিশ্চয়ই সিনেমা পছন্দ করো???' রানা মুচকি হাসছে ।
- তুমি দেখাবা সিনেমা??? তুমি তো কিপটা । তুমি দেখাবা সিনেমা???

রানা উত্তর না দিয়ে হাটা শুরু করলো । রানা জানে রাহি তাকে পেছনে ডাকবে । রানা সাড়া না দিলে পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরে বাচ্চা দের মত কাদতে শুরু করবে । রাহির কান্না দেখতে খুব মজা পায় রানা । রানার মতে, মেয়েদের আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায় মেয়েরা যখন ঘুমে থাকে আর কাঁদতে থাকে । রানা তাই সেই মুহুর্তের অপেক্ষায় আছে ।
এসব ভাবতে ভাবতে রানা অনেক দুর চলে এসেছে । কিন্তু রাহি আসছে না কেনো । রানা পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলো আশেপাশে রাহির নামগন্ধও নেই । যেখানে রাহি দাড়িয়ে ছিলো তার থেকে কিছু সামনে একটা জটলা দেখা যাচ্ছে । রানা দেখতে গেলো সমস্যা কি । জটলা সরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই রানার মাথা পুরোপুরি ফাকা হয়ে গেলো । রাহি মাটিতে শুয়ে আছে। মাথায় রক্ত, হাতে অনেকটা ছিলে গেছে । রাহি রানার কাছে আসছিলো কিন্তু হঠাৎ একটা ট্রাক এসে সব উলোটপালট করে দিলো । রানা কি করবে বুঝতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে সে এখনই পড়ে যাবে মাথা ঘুরিয়ে ।




৫ ঘন্টা পর :
ডাক্তার : এখন কেমন লাগছে আপনার??
রানা :ভাল । আচ্ছা আমার পাশে একটা মেয়ে পড়ে ছিলো । সে কোথায়??
ডাক্তার - ও আপনার কি হয়?
রানা - বান্ধবী । ও কোথায় প্লিজ বলবেন??
ডাক্তার -অবশ্যই বলবো ! আপনি একটু রেস্ট নিন । আপনি এখন ভালো নেই । পুরোপুরি সুস্থ হোন আপনাকে আমি তার কাছে নিয়ে যাব ।
রানা ঘুমানোর চেষ্টা করলো । স্বপ্নে সে রাহির লিপস্টিকের গন্ধ পাচ্ছে । সে বলছে 'তোমাকে খুব ভালো দেখাচ্ছে ।' এটা নিশ্চয়ই স্ট্রবেরি ফ্লেভার??'
রাহি কোনো কথা বলছে না শুধু দুরে সরে যাচ্ছে আর তাকে হাত দিয়ে কাছে ডাকছে ।
এই পর্যায়ে রানার ঘুম ভেঙে গেল । সে গলায় হাত দিয়ে দেখলো সে প্রচুর ঘেমে গিয়েছে । এখন কিছুটা সুস্থ বোধ করছে । ডাক্তার দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন ।
-আপনি এখন কেমন বোধ করছেন?
-ভালো ।
চলুন আপনাকে আপনার বান্ধবির কাছে নিয়ে যাই ।

-স্যার, ও কোন কেবিনে??
-আসুন, ভেতরে আসুন । দেখুন তো ও ই কি আপনার বান্ধবী ? আমরা খুব দুঃখিত । আসলে উনি তখনই মারা গিয়েছেন । একটা ট্রাক উনাকে প্রচন্ড ধাক্কা দেয় আর উনি মারা যান । আমরা দুঃখিত খবরটা আগে না দেয়ার জন্যে। কিন্তু এতে আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারতো তাই দেয়া হয় নি খবরটা... ।
ডাক্তারের কোনো কথাই কানে ঢুকছে না রানার । সে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো । চুপচাপ হেটে যাচ্ছে সে । কোথায় যাচ্ছে সে নিজেও জানে না... । নাকে আসছে কড়া লিপস্টিকের গন্ধ .....!



কয়েক দিন পর :
-রানা,এই রানা ।
ঘুম ভেঙে গেলো রানার । সে স্পষ্ট শুনেছে রাহি তাকে ডাকছে । কিন্তু না, রাহি তো নেই...! তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো ।
ঘড়িতে দেখলো রাত ৩টা বেজে ৩২ মিনিট । সিগারেট ধরিয়ে বারান্দায় চলে গেলো। হঠাৎ করে তার মনে হলো তার কাধে যেনো কেউ হাত দিয়েছে । সে মাথা ঘুরিয়ে দেখবে কি না ভাবছে । ঠান্ডা হাত । বারান্দার আবহাওয়াও হঠাৎ করে মনে হচ্ছে বরফ শীতল হয়ে গিয়েছে । হাতটা খুব কোমল ।
সে আরও বুঝতে পারছে, তার নাকে স্ট্রবেরীর গন্ধ আসছে ।
সিগারেটের আগুন পড়ে গেলো । এবার সে শুনতে পাচ্ছে কে যেনো তার মগজের ভেতরে কথা বলছে ।
"রানা, এই রানা । তুমি সবসময় এত মিথ্যা বল কেন ?
তুমি নাকি গন্ধ শুকেই সবকিছু বলতে পারো । বলোতো আমি কে?

রানার মনে হচ্ছে সে যেনো তলিয়ে যাচ্ছে । তার শরীর ঠান্ডা হতে শুরু করলো ।
"এখনো বলতে পারলে না? "
রানা গন্ধ শুকার চেষ্টা করলো । সে পারছে না । রানার কান্না আসছে । সে পারছে না কেনো? তার তো কখনও এমন হয় না । হঠাৎ মনে হলো সে স্ট্রবেরির গন্ধ পাচ্ছে ।
রানা বলে উঠলো -রাহি??????????
দুর থেকে রাহি হাসছে । রানার খুব ভালো লাগছে .....! কিন্তু হাসিটা মিলিয়ে যাচ্ছে কেনো.....?




পরেরদিন :
আজকের তাজা খবর ! আজকের তাজা খবর !
"ছাদ থেকে পড়ে একটা ছেলের মৃত্যু.... "
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৫ রাত ২:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×