somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে.... ভ্যালেন্টাইন ডে স্পেশাল ( কাল্পনিক শেষ পর্ব) --১

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
২০৩১ সালের ১৩ এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারী ( ২২ বছর পরের ঘটনা ) :
বারান্দায় তোয়ালেটা তুলতে গিয়ে অনুরাধা শুনল ফোন বাজছে , ধরবে এসে তার আগে মেয়ে তনিমা কর্ডলেসটা দিল এগিয়ে ; বলল , অমি চাচ্চু ফোন করেছে , ধর । ঘরে ঢুকে বারান্দার দরজা লাগিয়ে দিল , বিছানায় বসে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে অমিতাভ বলল , বারান্দায় গেলে সন্ধ্যায় , ঠান্ডা না ! বুঝল তনিমার কাছ থেকে শুনেছে সে ।
অমি জানতে চাইল ,শরীর কেমন , কাল যেতে পারবে কিনা ওদের বাড়িতে । এও জানাল , ওর বউ শিপ্রা খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অনুরা কাল যাবে বলে , রাতে খাবে একসাথে ; বড় কৈ মাছ যোগাড় করেছে , আরো কিকি সব ।
অনু বলল , না গেলে তো আমার আরো খারাপ লাগবে , তুমি চিরকাল কেবল শরীরের কষ্ট বোঝ , মনের কষ্ট বুঝি কিছু না !
অমি : ওষুধ খাচ্ছো ঠিকমত ,অবহেলা করো না যেন ।
অনু : শোন ,আমার স্বামী মোহন ঔষধ দিয়ে , পথ্য দিয়ে , যত্ন দিয়ে আমার আয়ু রেখাটাকে টেনে কেবল লম্বা করছে আর করছে ।
অমি হাসলো সেই হাসি যা শুনলে অনুর ভিতরে এই বয়সেও ভাল লাগায় মন ভরে যায় কানায় কানায় । সন্ধ্যার আযান শোনা যায় , কাল দেখা হবে বলে ফোন রেখে দেয় ।

পরদিন সকালে আলমারী খুলে হালকা বেগুনী জামদানী শাড়ি , সাথের ব্লাউজ বের করে রাখে বিছানায় , ছোট রুবীর কানের ফুল জোড়া দেখে রাখে হাতে কাছে ; টিপ পরতে ইচ্ছে করছিল ,কেমন লজ্জা লজ্জা লাগে তাই সরিয়ে রাখে ।
আজ শুক্রবার , বাসায় সব চলছে ঢিলে ঢালা ভাবে । দুপুরে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই শিশুসুলভ চপলতা টের পায় ভিতরে ভিতরে , মনের কি বয়স বাড়ে না !
আজ অমিতাভ শিপ্রা ডেকেছে ওদের । ওদের মেয়ে বুশরা দেশে এসেছে , সেই উপলক্ষে ; তবে বুশরা নিজেই সেদিন ব্যস্ত থাকবে অনত্র জানিয়ে দিয়েছে ।
মোহন ঘুমিয়ে পড়েছে , অনু উঠে ঢাকনাসহ মগটা নেড়েচেড়ে দেখে , সিরামিকের মগে বাঁশপাতার ছবি , খুঁজে খুঁজে কিনেছে অমির জন্য -সোনালী বর্ডার দেয়া । নিজ হাতে রান্না করা সবজী বাটির ঢাকনা সরিয়ে দেখে , অমির পছন্দের ডিস। ভাবে , প্রবাসের পাট চুকিয়ে দেশে এসেছে ,তা না হলে আর নিজে রান্না করা সবজী খাওয়ানো হত না ;
মোহনকে ঘুম থেকে তুলে দেয় , দুজনে তৈরী হয়ে নেয় । তনিমা তার বর আর মেয়েকে নিয়ে রাতে একসাথে হবে সেখানে , সন্ধ্যায় কোথায় পার্টি আছে ওদের ; তবু তনিমা মায়ের পাশে থাকে । সে লক্ষ্য করেছে অমি চাচ্চুর ব্যাপারে কেমন যেন শিশুসুলভ উচ্ছলতা আম্মুকে ঘিরে ধরে । বুশরাও বলছিল একদিন , জান তনু আপু আম্মু বলে আব্বুর নাকি বেস্ট ফ্রেন্ড অনু আন্টি , হি লাইকস হার , কেয়ারস হার এ্যা লট !
হালকা বেগুনী লিপস্টিকটা সেই এগিয়ে দেয় মাকে , আম্মুকে সাজলে এত মিষ্টি লাগে ; অমি চাচ্চুকে দেখলে মায়ের চেহারায় অপূর্ব আলো খেলা করে !
বিকেলে পৌছে গেল অমির বাড়িতে , ওরা অপেক্ষায় ছিল ; বাড়ির সামনে প্রশস্ত বাগান , ঘাসে ঢাকা লন । শিপ্রার রুচী আর অমির অর্থের সদ্ব্যবহার হয়েছে পুরোপুরি । শিপ্রা প্রায় দৌড়ে এল , অমিকে দেখা গেল বারান্দায় এসে দাড়িয়েছে , মনে হল কতদূর , কতদূরে দাড়িয়ে আছে মুগ্ধচোখে -চোখেরও কি বয়স বাড়েনা !
শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা শেষ করলো । কাঁচঘেরা বারান্দায় বসলো ওরা ।
মোহন আগেই খাবারের মেন্যুর বিষয়ে শিপ্রাকে পরামর্শ দিয়ে রেখেছিল , চায়ের টেবিলেও তাদের দুজনের যৌথচিন্তার বহি:প্রকাশ -- ফলের সালাদ , টকদই আর বিস্কিট দিয়ে সারলো , সাথে আদা চা । সবজী বাটি আর অমির জন্য আনা মগ দেখে অমি এমন ভাবে হাসলো যেন অপরাধ করে ফেলেছে অনু । বলল , সিরামিক মগ ,পড়ে ভেঙ্গে গেলে তখন কষ্ট লাগবে যে ! কেন আনো এসব !
অনু : সামান্য মগের জন্য ভাবছো , কত দামি জিনিস ভেঙ্গে গেল ,তার জন্য আক্ষেপ হয়নি ! সব দরদ মগে ঢালছো !
মোহন : অনু ভাল তসবিহ গাঁথে , শক্ত সুতোয় , বলেছিলাম অমির জন্য গেঁথে দাও , ভাল হোত ।
শিপ্রা : অনু আপা তসবিহ গেঁথে আনলে তো তসবিহ পড়ার উদ্দেশ্য সাধন হবে না ,অন্য সাধনা হত ! তবে যদি আনো আপা হীরে বা মুক্তো দানা গেঁথে এনো ।
শিপ্রা এমনই বলে , সবাই হেসে দিল ।
মাগরেবের নামাজ পড়ে আবার বারান্দায় বসলো ওরা । মোহন আর অমি কি সব নিয়ে আলোচনা করছে ; শিপ্রা অনুকে নিয়ে রান্না ঘরে গেল ,করলা ভাজি ,ধনেপাতা দিয়ে কৈ মাছ , মুগ ডাল , অল্প মসলায় মুরগী ভুনা , সর্ষে ইলিশ , মোহনের জন্য ছুরি শুটকির স্পেশাল ডিস --দেখেই বোঝা যাচ্ছিল সুস্বাদু হবে । একফাকে শিপ্রা একটা গাঢ় বেগুনী রঙের টিপ পরিয়ে দিল অনুকে , তনিমার কাছে শুনেছে টিপ পরা তার মায়ের খুব পছন্দ !
বারান্দায় ফিরে আবার কি কাজে উঠে গেল শিপ্রা , মোহন টিভিতে খবর দেখতে গেল , মনে হল ওরা ইচ্ছে করে ওদের একা করে দিয়ে গেল । একদিন শিপ্রা বলেছিল কথায় কথায় মোহনকে , অমি আর অনু অনেকের মধ্যে বেশ চেনা হয়ে থাকে ,স্বাভাবিক থাকে ; ওদের একা করে দিলে দুজনে কেমন অচেনা হয়ে যায় , কি যেন খুঁজতে থাকে , খুঁজে মনে হয় পায় না , তাই মনে হয় ।
নিশ্চুপ , নীরব কিছুক্ষন , তারপরে অমি বলে , হার্টের অসুটার কি খবর তোমার ?
অনু : তুমিই তো দূর্বল করে দিয়েছো হার্ট , ভিতরে ঢুকে কল কব্জা সব নাড়িয়ে চাড়িয়ে ফেলেছো , আবার ভুল হাতে জুড়েছো , ধরে বসে আছো সেখানে , বেরও তো হচ্ছো না ।
অমি : বের হব কিভাবে ? তুমি বন্দী করে রেখেছো আর আমার ইচ্ছেও নেই । তোমার হার্ট তো তবু আছে যেমন তেমন , আমারটা যে একজন ভেঙ্গে চুরে , রক্তাক্ত করে একেবারে নাই করে ফেলেছে !
অনু : আহা ! কে সে ? হার্ট নেই তো বেঁচে আছো কিভাবে ?
অমি : আরেকজনের হার্টের মধ্যে বসে আছি যে , তার ধুক ধুকানিতে বেঁচে আছি , আমার প্রানভ্রমর তার কাছে ; তুমি চেন না তাকে ? কপালে বেগুনী টিপ পরে বসে আছে আমার সামনে ।
অবাক হয়ে যায় অনু ; বলে , অমি তুমি এতসব আবেগমাখা কথা বলতে পারো !
অমি : তুমি কবি , তোমার ছোঁয়ায় শিখেছি ।
অনু: তুমি তো কবির কবিতা , পড়ি তোমাকে , অর্ধেক বুঝি , অর্ধেক বুঝিনা ।

চলবে ..

পরের পর্ব -- ২ : Click This Link
ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা: রানা


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:৩১
৫৩টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×