
বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা হচ্ছে - সজীব ওয়াজেদ জয় কি সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছেন?
পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হচ্ছে সিলিকন ভ্যালি।এই সিলিকন ভ্যালি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। পৃথিবীর বিখ্যাত এক হাজার তালিকাভুক্ত কোম্পানি এই সিলিকন ভ্যালির সাথে জড়িত।এই সিলিকন ভ্যালিতে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, মাইক্রোপ্রসেসর, মাইক্রোকম্পিউটার প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিল। ফেসবুক, গুগল, ইয়াহু, সিসকো,অ্যাপল,অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, নেটফ্লিক্স, ইনটেল,এনভিডিয়ার মতো কোম্পানি এই সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করে।এই সিলিকন ভ্যালিতে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি আইটি ফার্ম যুক্ত আছে। বিশ্বের নামিদামি ব্যাক্তি ও কোম্পানির সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সিলিকন ভ্যালিতে নিজেকে যুক্ত করা নিয়ে একদল মানুষের যদি জ্বলে, তবে জ্বলতে দিন।২০১৪ সালে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সিলিকন ভ্যালি থেকে যে ৮০০ কোটি টাকা অনুদান এসেছিল তার পেছনের পুরোটাই অবদান হচ্ছে জয়ের।এর মধ্যে শতকোটি টাকা ব্যায়ে বুয়েটে ন্যানোল্যাব প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে স্নাতক ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।এই দেশের একশ্রেণীর রাম ছাগলদের এতে খুব জ্বলে, জ্বলতে দিন।বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করেছেন, পরীক্ষার রেজাল্ট দেখছেন, ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনে বিল পরিশোধ করছেন, স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন, ৯৯৯ এ কল দিয়ে জরুরি পরিষেবা নিচ্ছেন, এসব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত সজীব ওয়াজেদ জয়ের অন্যতম অবদান। আমাদের আজকের যে ডিজিটাল বাংলাদেশ তা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সৃষ্টি। বাংলাদেশে আইটি পার্ক খুলে মানুষের কর্মসংস্থান করা এবং ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জে পর্যন্ত ওয়াই - ফাই পৌঁছে দেওয়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের অন্যতম অবদান।লেখাপড়া করেছেন বলেই তিনি দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছেন।তারেক জিয়ার মত অর্ধশিক্ষিত হলে তো ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করে লন্ডনে বসে বসে টাকার বান্ডিল গুণতেন। সজীব ওয়াজেদ জয় ও তারেক জিয়ার মধ্যে শিক্ষার পার্থক্য এইখানেই।
সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক ' গ্লোবাল ইয়াং লীডার ' মনোনীত হন। এছাড়াও আইসিটি খাতে অবদানের জন্য তিনি গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এর উদ্যোগে ' আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট ' পুরস্কার অর্জন করেন। তাছাড়াও ২০২১ সালে এশিয়ার ২৪ টি দেশের কাছ থেকে ' ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ড্রাস্ট্রি অর্গানাইজেশন থেকে ( অ্যাসিসিও) পুরস্কার লাভ করেন। মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাও এই পুরস্কার পেয়েছেন।কাজ না করে টাকা দিয়ে যদি অ্যাসিসিও পুরস্কার অর্জন করা যায় তাহলে মাহাথির ও থাকসিন সিনাওয়াত্রা দু'জনেই টাকা দিয়ে এই পুরস্কার অর্জন করেছেন নিশ্চয়ই!
গুগল আবিষ্কার হওয়ার পূর্বে সিলিকন ভ্যালিতে জয় সার্চ ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন । হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডেভির নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? জেমস বন্ডের ' লাইসেন্স টু কিল ' মুভিতে ফ্রাঞ্জ সানচেজের অভিনয়ের কথা মনে আছে? শুধু তাই নয় , ১৩০ টি হলিউড মুভিতে অভিনয় করার পাশাপাশি রবার্ট ডেভি একজন গায়কও বটে। জনপ্রিয় গায়ক বব ডিলানের সাথে রবার্ট ডেভি গান গেয়েছেন।এমন বিখ্যাত একজন মানুষ সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাতে ' আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ' তুলে দিয়েছেন এটা যাদের বিশ্বাস হয়না তাঁরা উপরের ছবিটি দেখুন। জয়ের পাশে যাকে দাঁড়ানো দেখছেন তিনিই হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডেডি।এছাড়াও আমরা সজীব ওয়াজেদ জয়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে দেখেছি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে জয়কে একান্ত আলাপচারিতায় দেখেছেন। এতকিছুর পরও জয়ের যোগ্যতা ও সক্ষমতা নিয়ে আপনাদের মনে এত সন্দেহের একমাত্র কারণ হচ্ছে , সে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র।' বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র না হয়ে যদি সে বাংলাদেশের রহিম ও করিম হয়ে এসব পুরস্কার পেত তবে তাকে নিশ্চয়ই মাথায় তুলে নাচতেন।
দেশে বিপিও খাতে বর্তমানে ১০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হচ্ছে; ৫০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে , বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ৬ লক্ষের উপরে মানুষ আইসিটি খাতে কাজ করছে।আপনি স্বীকার করুন আর না করুন , এর পেছনে রয়েছে জয়ের মহাপরিকল্পনা।দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস তাই জয়কে ' দ্য প্রিসায়েন্স ড্রিমার ' উল্লেখ করে প্রবন্ধ ছেপেছে। তারেক জিয়া ও জিন্দা অলিকে নিয়ে ছাপায় না কেন বলতে পারেন? অথবা তারেক মনোয়ার, এন্টারটির্ক মুফতি অথবা আহাজারিকে নিয়ে কেন লিখেনা বলতে পারেন?
এইবার মুল প্রসঙ্গে আসি।গত কয়েক বছর আগে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং নিউটনের দুই মিনিট আগে আপেল পড়া সুত্রের আবিষ্কার নিয়ে খুব হাসাহাসি চলছে দেশে। মানুষের মগজে পাকিস্তানী পাঠার ব্রেইন হলে যা হয় । সজীব ওয়াজেদ জয়ের সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপ কোম্পানির নাম ছিল Mvion Inc.যেটার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছিল প্রায় আট মিলিয়ন ডলার, এবং এই কারণে স্বয়ং গুগলের বিগ টেন্ট একটিভেট সামিট, নয়াদিল্লি ২০১৩ তে তিনি একজন 'কি' স্পীকার হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।( সুত্র : এনডিটিভি, লিঙ্ক : http://good.gl/e8V98R) .
গুগল তার নিজের ডোমেইন গুগল ডট কম কিনে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৭ সালের ১৫ ই সেপ্টেম্বর এবং গুগল নামের কোম্পানিটি গঠিত হয় ১৯৯৮ সালের ৪ ঠা সেপ্টেম্বর।জয় তাঁর কোম্পানি Mvion Inc প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯৮ সালে।২০০০ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর ওয়্যারলেস ডিভাইস ডাটা সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে ইনফরমেশন উইক একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।২০১২ সালে ইন্ডিয়া টুডে’তে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিচিতিতে তার এই সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
" Sajeeb wazed joy has a Bachelor's degree with a triple major in Physics, Mathematics and Computer Science from Bangalore University, a Bachelor's degree in Computer Science Engineering from the University of Texas and a Master of public Administration degree from the Harvard Kennedy School. " যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়ায় , ওদের কয়জনের এমন কয়টা ডিগ্রি আছে কখনও এই প্রশ্নটি করেছেন? লন্ডন,আমেরিকা গিয়ে থালা বাসন ধোয়া আর জয়ের তিনটা ডিগ্রি যে এক বিষয় নয় তা এই আহম্মকদের কে বুঝাবে?
যারা জীবনে অন্যর সমালোচনা ও ভেড়ার লোম ছেড়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি আজকাল তারাও সজীব ওয়াজেদ জয়ের সমালোচনা করে দেখিয়েছে।লকহিড কর্পোরেশন এর মতো সজীব ওয়াজেদ জয়ের Mvion Inc সিলিকন ভ্যালির একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। যেভাবে গুগল, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট সিলিকন ভ্যালিতে যুক্ত হয়েছে সেভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোম্পানিও সিলিকন ভ্যালিতে যুক্ত হয়েছে।এই সিলিকন ভ্যালি হচ্ছে দুনিয়ার সেরা সেরা মেধাবী ও উদ্ভাবনী মানুষদের জায়গা।এই প্রযুক্তির স্বর্গে বিল গেটস , ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের নামের পাশে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর নাম লেখাতে পেরেছেন এটাই বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের গর্ব।
সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে যে বিশ্ব জয় করা যায় তার প্রমাণ স্বরূপ সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক ' ইয়াং গ্লোবাল লীডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড ' নির্বাচিত হন। এইবারও নিশ্চয়ই বলবেন , ২০০৭ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল তাই সজীব ওয়াজেদ জয় এই পুরস্কার পেয়েছেন?
আহম্মকদের কথায় কিছুই আসে যায় না বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের। তিনি কথায় নয় , কাজে বিশ্বাসী। এজন্য তিনি ' প্রিসায়েন্স ড্রিমার ' আর আরেকজন ' মিঃ টেন পার্সেন্ট ' ওরফে ' খাম্বা চোর ' এটাই সত্য।।
আলো আসবেই
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

