
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে শেষ কথা বলে যে কিছু নেই, মার্কিন রাজনীতি ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তার এক বড় প্রমাণ। ২০০৮ সালে যে ব্যক্তিকে মার্কিন প্রশাসন দুর্নীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছিল, সেই তারেক রহমানই আজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে পাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে সরাসরি সাক্ষাতের আমন্ত্রণ। বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি এবং বিপুল পরিমাণ মার্কিন পণ্য আমদানির বিনিময়ে এই কূটনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের চিঠি ও হোয়াইট হাউসে বৈঠকের ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক অভূতপূর্ব বাণিজ্য চুক্তির খবর প্রকাশ করেন। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজস্ব প্যাডে লেখা একটি চিঠি পৌঁছায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।
চিঠিতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের নতুন বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত মূল্য দেন। বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে তিনি লেখেন, "বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না" এবং এই কেনাকাটার কথা তিনি মনে রাখবেন। চিঠির শেষে ট্রাম্প খুব শীঘ্রই তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের তীব্র আশা প্রকাশ করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সফরের সময়ই ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে দুই নেতার এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
২৫টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত: তীব্র বিতর্ক ও অর্থসংকট
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে দুই দফায় ২৫টি বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
• এপ্রিলের চুক্তি: ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মাথায়, গত এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমানের বহর বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রথম দফায় ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা আসে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
• আগস্টের নতুন প্রতিশ্রুতি: আগস্টের শেষে সার্জিও গোরের ঘোষণার পর জানা যায়, বাংলাদেশ আরও ১১টি বোয়িং কিনতে রাজি হয়েছে।
একদিকে যখন দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর তেল-গ্যাস কেনার অর্থসংকট নিয়ে গুঞ্জন চলছে, প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সরকারি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে এবং কলকারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়ছে—ঠিক সেই মুহূর্তে এত বিশাল অঙ্কের কেনাকাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন। সার্জিও গোর প্রকাশ্যে মার্কিন অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের ব্যবসা চাঙ্গা করায় ট্রাম্পের দূরদর্শিতার প্রশংসা করলেও, অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশের এই নতিস্বীকারকে অনেকেই মার্কিন চাপের ফল বলে মনে করছেন।
মরিয়ার্টির তারবার্তা থেকে কূটনৈতিক সাফল্য: একটি পেছনের গল্প
কেন এত তড়িঘড়ি করে এবং আর্থিক সংকট সত্ত্বেও এত বড় সামরিক ও বাণিজ্যিক চুক্তি করতে হলো—তার পেছনে রয়েছে কূটনৈতিক ও ব্যক্তিগত নানা হিসাব-নিকাশ।
২০০৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি ওয়াশিংটনে পাঠানো এক গোপন তারবার্তায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দুর্নীতি, ক্লেপ্টোক্রেসি (লুটপাটতন্ত্র) এবং মার্কিন উন্নয়ন নীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছিলেন। 'প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশন ৭৭৫০'-এর অধীনে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ চিরতরে নিষিদ্ধ করার জোর সুপারিশ করেছিলেন তিনি। সেই থেকে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানের যাওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানদের নিউইয়র্ক সফরের সুযোগ থাকলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের অপ্রত্যাশিত নীতির কারণে তারেক রহমানের মনে সংশয় ছিল। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ওয়াশিংটন থেকে বাণিজ্য চুক্তি বজায় রাখার বিষয়ে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তাকে উপেক্ষা করা নতুন সরকারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ফলে, কোনো বাধা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই জাতিসংঘ সফর নিশ্চিত করা এবং হোয়াইট হাউসের দরজা উন্মুক্ত করার অন্যতম কৌশল হিসেবে এই বিশাল বোয়িং ডিল কার্যকর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমীকরণ ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা
এই চুক্তির মাধ্যমে তারেক রহমান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের ভাবমূর্তি কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারলেন, তা নিয়ে আলোচনা থাকবে। তবে কূটনীতির এই সম্পর্কের স্থায়ীত্ব কতটুকু, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ সময় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সমর্থন আদায় করতে সমর্থ হননি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশের বাংলাদেশে বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান আর্থিক ও জ্বালানি পরিস্থিতির সমাধান কীভাবে হয় এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা চাপের মুখে ট্রাম্পের এই "উষ্ণ বন্ধুত্ব" কত দিন বজায় থাকে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত, বোয়িং কেনার বিনিময়ে দেশ ধ্বংস করতে কতটা সফলতা অর্জন করে সেটাই দেখার বিষয়।
ক্ষমত দখল করার জন্য স্বয়ং শয়তানের সাথেও হাত মেলাতে চান। তারেক রহমান তার বক্তব্য প্রমাণ করে দিয়েছেন ।এখন দেখার বিষয় এই ক্ষমতা দখল টিকিয়ে রাখার জন্য আর কি কি করেন! দেশের শিশুদের মৃত্যু , একের পর এক মবের মাধ্যমে হত্যা। পরিবার সমূলে হত্যা এখন নিত্য দিনের ঘটনা।রেকর্ড পরিমাণ ধর্ষণ কোনো কিছুর প্রতি সরকারের প্রকৃত এড্ড্রেস করার সদিচ্ছা আছে বলে মনে হচ্ছে না ।আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতন কে জায়েজ হিসেবে দেখছে বর্তমান সরকার । ঠিক বিগত অবৈধ ইউসুফ সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে । শুধু একটা কথাই বলবো। ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার সচিত্র প্রমাণ সহ । হাজার হাজার প্রত্যক্ষদর্শি স্বক্ষি থাকছে। যা ভবিষ্যতে বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে । এবং প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিচার করবে ।
এবং বাস্তব সত্য হলো ইহাই তাহাদের প্ল্যান থেকে প্লেন। উই আর ওয়াচিং এভরিথিং ফর দ্য ফিউচার ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

