মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই খাবার কম পড়ায় কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষসহ অন্তত পাঁচটি কক্ষের জানালা ও কাচ ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষ গতকাল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০০ জনের জন্য খাবারের আয়োজন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজু আহমেদসহ ৪০-৫০ জন নেতা-কর্মী ক্যাম্পাসে যান। কিন্তু তাঁদের কয়েকজনের খাবার কম পড়ে। এ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের বাগিবতণ্ডা হয়। এর পরপরই ছাত্রলীগের নেতা রাজুসহ আরও ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষসহ কলেজ কার্যালয়, ছাত্রী বিশ্রামাগার ও কলেজ মিলনায়তনের অন্তত পাঁচটি জানালা ও কাচ ভাঙচুর করেন। পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজ থেকে বেরিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইন্তাজ উদ্দিন বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাসহ তিন শতাধিক লোকের জন্য খিচুড়ি রান্না করা হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের অতিরিক্ত নেতা-কর্মী আসায় খাবারের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজের জানালা ও কাচ ভাঙচুর করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের নেতা রাজু আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা খাবার খেতে গিয়ে দেখেন খাবার নেই। বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের অপমান করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কলেজে ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



