somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক যৌনকর্মীর তওবা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হজরত মাওলানা তারিক জামিল বলেন, কয়েক বছর আগে একটি জামাত গিয়েছিলো আমেরিকায়। ওই জামাতের ভারতের হায়দ্রাবাদের জনাব আমিরুদ্দিন সাহেবও ছিলেন। একবার তারা গাশতে গেলেন। সেখানে জনৈক আরবমুসলমানের একটি নাইটক্লাব ছিলো যেখানে সবসময় মদ আর নাচ-গানের রমরমা আসর চলতো। সেই ক্লাবেই গাশতের জন্য যাওয়া হলো। ক্লাবে উপস্থিত অনেক আরবমুসলমান তখন মদের নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলো। স্টেজে একটি মেয়ে উলঙ্গ হয়ে নৃত্য করছিলো আর তার পাশে একযুবক ড্রাম বাজাচ্ছিলো। তাদের সবাইকে আখেরাতের কথা বলতে শুরু করলে মেয়েটি পেছনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু সবাই ছিলো নেশাগ্রস্থ তাই কথা বুঝার মতো চেতনা কারো মধ্যেই ছিলো না। তখন মেয়েটি এগিয়ে এসে বললো, আপনারা যা বলতে চাচ্ছেন তা এদের কারো মাথায় ঢুকবে না। আমাকে বলুন, আমি কিছু কিছু বুঝতে পারছি। তাবলিগের সাথীরা তখন মাথা নিচু করে দাওয়াত দেয়া শুরু করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ইসলামগ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে গেলো। যেব্যক্তি ড্রামবাদক ছিলো সে ছিলো এই মেয়েটির স্বামী। তারা উভয়ে মুসলমান হয়ে গেলো। সাথীরা বললেন, বেটি! তুমি কাপড় পরে নাও। মেয়েটি ভদ্রকাপড় পরে এলো। তিন-চারদিন জামাতটি ওইএলাকায় ছিলো। এই ক’দিন তারা স্বামী-স্ত্রী নিয়মিত সেখানে হাজির হয়ে ইসলামের জরুরি বিষয়াদি শিখতে আরম্ভ করলো। জামাত রওনা হওয়ার সময় তাদেরকে ফোন নম্বর দিয়ে বললো কখনো প্রয়োজন পড়লে এই নম্বরে ফোন করে তোমার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে নিও।
দুই তিন মাস পরে আমিরুদ্দিন সাহেবের কাছে একটি মেয়ের ফোন এলো। ফোন করে সে বললো, আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি সেই গায়িকা। তারপর সে বললো, আপনাদের কারণে আল্লাহপাক আমাদের জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দিয়েছেন। আপনাদের দাওয়াতে আমরা মুসলমান হলাম। মুসলমান হওয়ার আগে আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রতিরাতে ৫০০ ডলার উপার্জন করতাম। মুসলমান হওয়ার পরে যখন জানতে পারলাম, মহিলাদের এভাবে আয়-রোজগারে করা ঠিক নয় তখন আমি স্বামীকে বললাম, এখন থেকে রোজগারের দায়িত্ব তোমার একার। আমার স্বামী ড্রাম বাজানো ছাড়া আর কোনো কাজ করতে জানে না। তাই সে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা শুরু করলো। এতে প্রতিদিন তার ৪০ ডলার উপার্জন হতো। আর আমেরিকার মতো দেশে ৫০০ ডলার থেকে ৪০ ডলার উপার্জনে নেমে আসা আত্মহত্যার শামিল। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের গাড়ি-বাড়ি সব বিক্রি করে দিলাম। এখন ছোটো একটা ফ্ল্যাট আছে যেখানে আমরা দুজন বসবাস করছি। আপনার বলেছিলেন, মুসলমান হওয়ার পরে আত্মীয়-স্বজনকেও দাওয়াত দেয়ার জন্য। তাই নিজস্ব গাড়ি না থাকায় আমরা বাসে চড়ে তাদের কাছে যাই তাদের দাওয়াত দেয়ার জন্য। আজকেও আমি যাচ্ছিলাম বাসে চড়ে। সিট না পাওয়ায় ওপরের রড ধরে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় জামার আস্তিন গুটিয়ে গিয়ে আমার হাতের কিছুটা অংশ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এজন্য কি আমাকে জাহান্নামে যেতে হবে? এই প্রশ্ন করে সে কাঁদতে লাগলো। আমিরুদ্দিন সাহেব তাকে অভয় দিয়ে বললেন, এটা যেহেতু অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
তাবলীগ নিয়ে বলবার মতো অনেক কথা অনেকেই বলবেন, আমি জানি। বলবার মতো অনেক অবশ্য আছেও। তারপরও এখানে যে ঘটনাটি পরিবেশিত হলো সেটার কার্যকারিতা অস্বীকার করার মতো নয়। যারা নামাজ পড়তো না তারা তো নামাজ পড়ছে, কিছুটা হলেও ইমান পাচ্ছে। সেইটাই বা কম কিসে? আমি একা হলে তো সেটাও পারতাম না।
আমি সবচে অবাক হয়েছি এই মহিলার কান্নার বিষয়টি নিয়ে। শুধু এতোটুকু পর্দাহীনতার কারণে সে অঝোর নয়নে কাঁদছে! অথচ আমাদের অনেক আলেম-ওলামার পরিবারের মেয়েরাও এমন করে না। কে যেনো কবে বলেছিলো, আগামী ৫০ বছর পর হয়তো আমেরিকা আর ইউরোপই হবে ইসলামের বড়ো সহায়কশক্তি। হতেও পারে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×