যদি আপনার হাতে একটি ছুরি দিয়ে বলা হয় আপনার সামনে থাকা ব্যাক্তিকে আঘাত করুন । আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ না হলে সহজেই আমার কথা ইগনর করবেন, কারণ এতে ব্যক্তিটি আঘাত পাবে বা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু আপনাকে যদি নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে এটা করতে বলা হয় তখন হয়ত আপিনি একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নিবেন। এটিই হচ্ছে পুঁজিবাদ ! না আজকে আমরা পুজিবাদ নিয়ে আলোচনা করব না। তবে আজকের আলোচনার সাথে পুঁজিবাদ সরাসরি কানেক্টেড । আজকের আলোচনার বিষয় ড্রাগস তথা মাদক। দেশে প্রতিবছর এই মাদক নিয়ে হৈচৈ হয় বা হৈচৈ তৈরি করা হয়। অথচ সারা বছর মাদক বিরধী সমাবেশ, পোস্টারিং, ওয়াল রাইটিং সহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হয়। কিন্তু দিন শেষে ঠিক কতটুকু লাভ হচ্ছে ?
২০০৯ সাল থেকে শুধু ইয়াবা ৪০ হাজার গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল। এরপর আর তা লাখের নিচে নামেনি। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠে এত মাদকবিরোধি অভিযানে ফায়দা কি হচ্ছে ? আসুন খুঁজে বের করা যাক!
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মাদকদ্রব্যের ভিতর মদের বৈধ্যতা রয়েছে। আচ্ছা এর কি কারণ? আমরা সবাই জানি মাদক মানবজাতির জন্য হুমকি, তবুও কিভাবে কোন একটি মাদকদ্রব্যের বৈধতা দিতে পারে দেশের প্রশাসন? নাকি মদে কোন ক্ষতিকর দিক নেই? উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ১৫-৪৯ বয়সি প্রতি ১০ টি মৃত্যুর একটি হয় মদের কারণে। বিশ্বজুড়ে এই বয়সী মানুষ মৃত্যুর প্রধাণ কারনই এই মদ। এছাড়াও মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও ট্যিসুতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। মদে অভ্যস্ত মানুষ সহিংস হয়। ৬.৮ শতাংশ পুরুষ ও ২.২ শতাংশ নারীর অপিরণত বয়েসে মৃত্যুর কারণও এই মদ!
এছাড়া বাংলাদেশের দিকে তাকালে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার তথ্য মতে মদ্যপানের কারণে লিভার সিরোসিসে আক্রন্ত হয়ে দেশে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়াও মদ্যপানের পর ড্রাইভিং -এর সময় সরক দূর্ঘটনায় মারা গেছে ১ হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে মদের কারণেই প্রতিবছর ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। মানবতার জন্য এত ক্ষতিকর একটি পণ্য কিভাবে বৈধ্য হতে পারে?
খুব সহজ উত্তর হচ্ছে- পুজিবাদী বাবাস্থা! মানবজাতির জন্য কোনটা ক্ষতির এটা পুজিবাদে দেখার মত কোন বিষয় না। এই মুহুর্তে পৃথীবির কয়েকটি দেশ বাদে প্রায় সবগুলো দেশেই ওয়েস্টার্ন আইডোলজি বা পুজিবাদে বিশ্বাসী বা পুজিবাদের উপর ভিত্তি করে চলছে। কখনও ভেবেছেন বুড়ি গঙ্গার নদী দুষনে এত আলোচনার পরও আশপাশের কল কারখানার বৈজ্য কেন বন্ধ করা যায় নি? কেন মাদকাসক্তকে গ্রেফতার করলেও তার অবৈধ লাইসেন্সে যারা তাকে মদ দিল তার খোজ করা হলো না?
আধুনিক বিশ্বজুড়ে একের পর এক বন উজাড় হচ্ছে কেন, কেন নদী ভরাট হচ্ছে, এত আধুনিকতার সত্ত্বেও কেন পৃথিবী দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে? কারণ পুঁজিবাদের আধিপত্য। যেখানে নেই কোন জবাবদিহিতা। শাসনকার্য পরিচালনায় প্রশাসনকে জনগনের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হলেও প্রশাসনকে গোলাম ভাবা পুঁজিপতিরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুঁজিপতিরা চায় পরিমনিদের গালি দিয়ে আপনি ক্ষান্ত হয়ে যান। আর আপনিও ঠিক তাই করছেন। আমাদের মূল হেতু খোঁজ করা দরকার তা আমরা বুঝতে চাই না। আর আমাদের এই দুর্বলতার সুযোগে সমাজ বাবস্থার রাজত্ব করছে সমাজের সংখ্যালঘু লাটসাহেবরা।
বিশ্বাস করুণ আপনি একজন নিষ্ঠাবান যুবক হতে পারেন,আপনি দেশপ্রমিক হতে পারেন, আপনি খাঁটি ধার্মিক হতে পারেন কিন্তু একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার এই স্লোগানটা শুধুই স্লোগান থেকে যাবে। পৃথীবি যতই উন্নত হোক অপরাধ চলতে থাকবে, আর মনুষ্যত্বও হ্রাস পেতে থাকবে, যতদিন আপনি অতিবিলাসীদের শোষণে আছেন!
শুধু অপরাধীরাই কি দোষী? যেই পদ্ধতি বা বাবস্থা একজন মানুষকে দোষী বানায় আপনি তাকে বা তাদের কী বলবেন?
অনেকগুলো চিন্তার পাহার আর প্রশ্ন রেখে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। কখনও হতাশ হবে না। চোর-পুলিশ চোর-পুলিশ খেলা থেকে এই বিশ্ব একদিন মুক্তি পাবে, প্রতিষ্ঠা হবে প্রকৃত ন্যায়বিচার।
সাথেই থাকুন আমরা আলচনা করব নিয়মিত।
এটি ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/68bR9BLmm3E
- গাজি সাকিব ফেসবুক


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২১ ভোর ৫:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


