somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মদ বৈধ হওয়ার আসল রহস্য কি ?

১৪ ই আগস্ট, ২০২১ ভোর ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি আপনার হাতে একটি ছুরি দিয়ে বলা হয় আপনার সামনে থাকা ব্যাক্তিকে আঘাত করুন । আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ না হলে সহজেই আমার কথা ইগনর করবেন, কারণ এতে ব্যক্তিটি আঘাত পাবে বা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কিন্তু আপনাকে যদি নগদ ১০ লাখ টাকা দিয়ে এটা করতে বলা হয় তখন হয়ত আপিনি একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নিবেন। এটিই হচ্ছে পুঁজিবাদ ! না আজকে আমরা পুজিবাদ নিয়ে আলোচনা করব না। তবে আজকের আলোচনার সাথে পুঁজিবাদ সরাসরি কানেক্টেড । আজকের আলোচনার বিষয় ড্রাগস তথা মাদক। দেশে প্রতিবছর এই মাদক নিয়ে হৈচৈ হয় বা হৈচৈ তৈরি করা হয়। অথচ সারা বছর মাদক বিরধী সমাবেশ, পোস্টারিং, ওয়াল রাইটিং সহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হয়। কিন্তু দিন শেষে ঠিক কতটুকু লাভ হচ্ছে ?
২০০৯ সাল থেকে শুধু ইয়াবা ৪০ হাজার গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল। এরপর আর তা লাখের নিচে নামেনি। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠে এত মাদকবিরোধি অভিযানে ফায়দা কি হচ্ছে ? আসুন খুঁজে বের করা যাক!
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মাদকদ্রব্যের ভিতর মদের বৈধ্যতা রয়েছে। আচ্ছা এর কি কারণ? আমরা সবাই জানি মাদক মানবজাতির জন্য হুমকি, তবুও কিভাবে কোন একটি মাদকদ্রব্যের বৈধতা দিতে পারে দেশের প্রশাসন? নাকি মদে কোন ক্ষতিকর দিক নেই? উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ১৫-৪৯ বয়সি প্রতি ১০ টি মৃত্যুর একটি হয় মদের কারণে। বিশ্বজুড়ে এই বয়সী মানুষ মৃত্যুর প্রধাণ কারনই এই মদ। এছাড়াও মদ্যপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও ট্যিসুতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। মদে অভ্যস্ত মানুষ সহিংস হয়। ৬.৮ শতাংশ পুরুষ ও ২.২ শতাংশ নারীর অপিরণত বয়েসে মৃত্যুর কারণও এই মদ!
এছাড়া বাংলাদেশের দিকে তাকালে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার তথ্য মতে মদ্যপানের কারণে লিভার সিরোসিসে আক্রন্ত হয়ে দেশে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়াও মদ্যপানের পর ড্রাইভিং -এর সময় সরক দূর্ঘটনায় মারা গেছে ১ হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে মদের কারণেই প্রতিবছর ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। মানবতার জন্য এত ক্ষতিকর একটি পণ্য কিভাবে বৈধ্য হতে পারে?
খুব সহজ উত্তর হচ্ছে- পুজিবাদী বাবাস্থা! মানবজাতির জন্য কোনটা ক্ষতির এটা পুজিবাদে দেখার মত কোন বিষয় না। এই মুহুর্তে পৃথীবির কয়েকটি দেশ বাদে প্রায় সবগুলো দেশেই ওয়েস্টার্ন আইডোলজি বা পুজিবাদে বিশ্বাসী বা পুজিবাদের উপর ভিত্তি করে চলছে। কখনও ভেবেছেন বুড়ি গঙ্গার নদী দুষনে এত আলোচনার পরও আশপাশের কল কারখানার বৈজ্য কেন বন্ধ করা যায় নি? কেন মাদকাসক্তকে গ্রেফতার করলেও তার অবৈধ লাইসেন্সে যারা তাকে মদ দিল তার খোজ করা হলো না?
আধুনিক বিশ্বজুড়ে একের পর এক বন উজাড় হচ্ছে কেন, কেন নদী ভরাট হচ্ছে, এত আধুনিকতার সত্ত্বেও কেন পৃথিবী দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে? কারণ পুঁজিবাদের আধিপত্য। যেখানে নেই কোন জবাবদিহিতা। শাসনকার্য পরিচালনায় প্রশাসনকে জনগনের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হলেও প্রশাসনকে গোলাম ভাবা পুঁজিপতিরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। পুঁজিপতিরা চায় পরিমনিদের গালি দিয়ে আপনি ক্ষান্ত হয়ে যান। আর আপনিও ঠিক তাই করছেন। আমাদের মূল হেতু খোঁজ করা দরকার তা আমরা বুঝতে চাই না। আর আমাদের এই দুর্বলতার সুযোগে সমাজ বাবস্থার রাজত্ব করছে সমাজের সংখ্যালঘু লাটসাহেবরা।
বিশ্বাস করুণ আপনি একজন নিষ্ঠাবান যুবক হতে পারেন,আপনি দেশপ্রমিক হতে পারেন, আপনি খাঁটি ধার্মিক হতে পারেন কিন্তু একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার এই স্লোগানটা শুধুই স্লোগান থেকে যাবে। পৃথীবি যতই উন্নত হোক অপরাধ চলতে থাকবে, আর মনুষ্যত্বও হ্রাস পেতে থাকবে, যতদিন আপনি অতিবিলাসীদের শোষণে আছেন!
শুধু অপরাধীরাই কি দোষী? যেই পদ্ধতি বা বাবস্থা একজন মানুষকে দোষী বানায় আপনি তাকে বা তাদের কী বলবেন?
অনেকগুলো চিন্তার পাহার আর প্রশ্ন রেখে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। কখনও হতাশ হবে না। চোর-পুলিশ চোর-পুলিশ খেলা থেকে এই বিশ্ব একদিন মুক্তি পাবে, প্রতিষ্ঠা হবে প্রকৃত ন্যায়বিচার।
সাথেই থাকুন আমরা আলচনা করব নিয়মিত।
এটি ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/68bR9BLmm3E
- গাজি সাকিব ফেসবুক

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২১ ভোর ৫:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মীয় শাসনের ব্যর্থতা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১১

ধর্মীয় শাসনের ব্যর্থতা।
----------------------
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, সেখানে ধর্ম কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস নয় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি। কিন্তু চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে:
ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×