somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের বিখ্যাত নকশালবাড়ি জানেন? মাওবাদী বিপ্লবের এই আতুরঘরের প্রেক্ষাপটে লেখা এই রম্য রচনা পড়ুন। গ্যারান্টি দিচ্ছি..ভালো লাগবে।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাস্তা থেকে গরু ধরে আনা হয়েছে, বিফ উৎসবের জন্য। চাপাতি হাতে এক উৎফুল্ল কমরেড গান ধরেছে, "ওরা আমাদের ভয় পায়...রবসন"। গরুটা সত্যিই ভয় পাচ্ছে। বুঝে উঠতে পারছে না নিজের অপরাধ! কই, গত কয়েকদিনের মধ্যে তো সে কোনো বাগানে ঢোকেনি! কারও শখের গাছ নষ্ট করেনি, শুধু রাস্তার ধারে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছিল। এদিকে ক্যামেরা নিয়ে হাজির মিডিয়া। বুদ্ধিজীবীরা কলম পেতে দিয়েছে রাস্তায়, যাতে জবাই করা গরুর রক্তে তাদের কলম ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। এমন সময় এক কমরেড চাপাতিওয়ালা কমরেডকে জিজ্ঞেস করল, এটা কাদের গরু জানো? প্রত্যুত্তরে সে জানায়, এ বিপ্লব সবার বিপ্লব, এ যে গনবিপ্লব। এই বিপ্লব মানুষের বিপ্লব। তাই গরুটা হল পাবলিক প্রোপার্টি, যা নিজের আত্মবলিদান দেবে প্রলেতারিয়েতের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। মানুষের জন্য সস্তা প্রোটিন যোগার করতেই এই গরু চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এখানে তৈরী হবে শহীদ বেদী। এক সাংবাদিক তখন জিজ্ঞেস করল, গরুটার দোষ কি? কমরেড উত্তর দিল, নকশাল আন্দোলনের হুজুগে যারা আত্মবলিদান দিয়েছিল তারা কি জানত তাদের দোষ কি? সেই সাংবাদিক বলল, সে তো তারা জেনেই আন্দোলনে নেমেছিল, কিন্তু এই গরুটা কি নিজেই আত্মবলিদান দিতে চায়? "চুপ করে থাক বুর্জোয়ার দালাল", গর্জে উঠল সেই কমরেড। নকশাল আন্দোলনের কি জানিস তুই? কেউ নিজে থেকে আত্মবলিদান দেয়নি। পার্টি মগজ ধোলাই করতে পেরেছিল বলেই তারা শহীদ হতে পেরেছে। সবার ওপরে পার্টি সত্য তাহার ওপরে নাই। এখানে ব্যক্তি কিছুই না, সব কিছুই এক মহান পরিবর্তনের জন্য।
এতো কথার কচকচানিতে বুদ্ধিজীবীরা অস্থির হয়ে বলল, আর কত দেরী কমরেড? খিদে পেয়েছে যে! সাথে সাথে ধ্বনি উঠল, "ইনকিলাব জিন্দাবাদ, মাংস দে, মাংস দে, মাংস দে"!
গরুটা কেঁদেছিল, শেষ মুহুর্তে। সে আত্মবলিদান দিতে চায়নি। সে চায়নি শহীদ হতে। শেষ সময়ে সে দেখেছিল, রাস্তাটা লাল হয়ে যেতে। মনে পড়েছিল তার পূর্ব জন্মের কথা, সাইবেরিয়ার বধ্যভূমিতে যেমন সন্তান পেটে নিয়েই মরতে হয়েছিল, এবারো তাকে মরতে হলো। মনে পড়েছিল তার নকশাল আন্দোলনের কথা, মনে পড়েছিল সেই রক্ত ঝরানো দিনগুলোর গল্প, যা প্রলেতারিয়েতদের অধিকার দিতে তৈরী করেছিল বুর্জোয়া কমিউনিস্ট পার্টি। তার মনে আছে, পার্টির নেতার ক্ষণিক সুখের জন্য তার গর্ভে প্রোথিত বীজটিকে নিয়েই তার আত্মহত্যার গল্প। বার বার জন্ম নিয়েও সে মা হতে পারল না, এই দুঃখ নিয়েই সে বিদায় নিল নিজের রক্ত গায়ে মেখে।
এমন সময় হরিপদ এলো, বলল, একি করলেন বাবুরা! আমার ছয় মাসের গর্ভবতী গরুটাকে এভাবে মেরে ফেললেন! এই গরীবের শেষ সম্বলটা নষ্ট করে দিলেন!
উত্তরে কমরেড বলল, এই বিপ্লব তোমাদেরই বিপ্লব। এই সামান্য উৎসর্গ করে দুঃখ করা তোমার শোভা পায় না কমরেড। তাছাড়া মাংসের ভাগ তো পাবেই।
বুদ্ধিজীবীরা একসাথে বলে উঠল, "সাথে মদ থাকবে তো?"
ইনকিলাব জিন্দাবাদ! লাল সেলাম!
কৃতজ্ঞতা: rahul naskar ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:০০
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয়

লিখেছেন এমএলজি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪০

= ড. ইরফান আল-হোসাইনীর রহস্যজনক মৃত্যু - জীবনের চেয়ে কোনো সম্পর্ক বড় নয় =

বিশ্বখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া (NVIDIA)-তে কর্মরত, বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তরুণ বিজ্ঞানী ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলসার আসর

লিখেছেন নিচু তলাৱ উকিল, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

রঙ্গিন শহররের বুকে তাম্বু টাঙিয়ে বসিয়েছি জলসার আসর।
ধর্মীয় বয়ানের ফাঁকে;
গলির মাথায় বেজে উঠছে উলুধ্বনি।
এদিকে তুমি আর আমি ডুবে আছি কলকির ধোঁয়ায়।
নোনতা ঘামের ব্যবচ্ছেদে পুটিমাছের বুক চিরে মেখে দিয়েছি পাঁচ প্রহরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হয় না দেখা আর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


কতদিন হলো, হয় না দেখা
রঙধনু মেলা, শীত কাটে না
আর ঐশ্বর্য উষ্ণ বেলা
চঞ্চলতায় টিপুটিপু খেলা;
বিস্মৃতির পাতায় ডুবে যাচ্ছে
চাঁদ না দেখার আর্তনাদ,
ভেঙ্গে পরেছে অমোঘ
অপেক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ঘুণ ধরেছে
নুনে পরেছে সময়ের ছলনা
মুখ ফিরেছে বাতাসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×