somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দু পুরানের আলোকে ডারউইনবাদ !! নাস্তিকেরা এবার কি যুক্তি দেবেন ??

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মা, তুমি কি জানো মানুষের দেহের আকৃতি ক্রমশ কমে আসছে। মানুষের দেহ ছোট হয়ে আসছে। আগে নাকি মানুষের শরীর ছিল বড়। টিপু সুলতানের তরোয়াল দেখেছি মা, কি বিশাল। কি তার ওজন। সেটা আজকাল একটা মানুষের পক্ষে তোলাই সম্ভব নয়, যুদ্ধ তো কোন ছাড়।

মা , এক মনে করাইসুটি ছাড়াচ্ছেন। মাঝে মাঝে ছেলের দিকে তাকাচ্ছেন।

ছেলে বললো, মা জানো ডারউইন বলে একজন বিজ্ঞানী আছেন। উনি আমার প্রেরণা। উনি ই প্রথম ইভলুশন এর কথা বলেন। উনি বলেন, survival of the fitest. যে লড়াইতে জিতবে সেই পৃথিবীতে অস্তিত্ত্ব রক্ষা করতে পারবে। না হলে ম্যামথ, বা ডাইনোসর এর মত পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে, বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

মা, জানো আমি ডি এন এ নিয়ে রিসার্চ করবো। আমি আমেরিকায় যাবো। আমাকে লোকে বলবে আমি একজন জেনেটিক বিজ্ঞানী। ডারউইন এর ইভলুশন নিয়ে আরো রিসার্চ করবো।

ও মা, তুমি ডারউইনের নাম শুনেছ ??

মা বললো, হা আমি জানি ডারউইনের কথা। কিন্তু তুই কি জানিস বিষ্ণুর দশ অবতারের কথা??

ছেলে, মাথা নাড়লো। বললো সে নাম শোনেনি। ইংরেজি পড়াশোনায় সিলেবাস এ তো এসব নেই।

মা বললেন, বেশ তাহলে শোনো যেটা তুইও জানিস না, ডারউইন সাহেব ও জানেন না। মন দিয়ে শোন।

বিষ্ণুর প্রথম অবতার হলো মৎস অবতার। অর্থাৎ মাছ। আমরা বিজ্ঞান থেকে জানি জীবন শুরু হয়েছিল জলে। ঠিক কিনা।

ছেলে এবার অবাক চোখে তাকালো মায়ের দিকে। মা বলে চললো।

এরপর কুর্ম অবতার। অর্থাৎ জীবন জল থেকে উঠে এলো ডাঙায়। উভচর বা amphibians। কচ্ছপ। ইভলুশন হলো সমুদ্র থেকে ডাঙায়।

এরপর বরাহ অবতার। অর্থাৎ বন্য জন্তু, জানোয়ার। বরাহ হলো বিশাল দেহি শুকর। তাদের বুদ্ধির কোনো বিকাশ নেই। ধরা যেতেই পারে ম্যামথ বা ডাইনোসর এর কথা এখানে বলা হয়েছে।

চার নম্বর অবতার হলো নৃসংহ অবতার। যিনি আসলে প্রথম মানুষ। যার আকৃতি মানুষের মতো হলেও ব্যাবহার একটু জন্তুর মতো। মানুষের প্রথম প্রকাশ। তখনো মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটেনি। ওরা ছিল হিংস্র। অসামাজিক।

পঞ্চম হলো বামন অবতার। তখন এক শ্রেণীর মানুষের বুদ্ধির বিকাশ ঘটেছে। তারা অন্য শ্রেণীর মানুষ যারা হিংস্র তাদের থেকে খর্বকায়। অর্থাৎ বামন। অসভ্য মানুষ হলো homo erectus। আর ছোট্ট দেহি বুদ্ধিমান মানুষ হলো homo sepience। ক্রমশ homo sepience যুদ্ধে জিতল। এবং পৃথিবী দখল করলো।

ষষ্ঠ অবতার হলো পরশুরাম। এই মানুষের হাতে ছিল কুঠার। অর্থাৎ যে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করতে শুরু করে। গুহাতেও বসবাসের ব্যাবস্থা করে। রাগী। এবং এখনো অসামাজিক।

সপ্তম অবতার হলো রাম। প্রথম বুদ্ধি এবং বিবেচনা করতে পারে এরকম এক মানুষ। ইনি হলেন সামাজিক। রাজ তন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলো। আইন, কানুন এর জন্ম হলো। জন্ম হলো সমাজের ও। তৈরি হল মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক।

অষ্টম অবতার হলেন বলরাম। যিনি আসলে চাষ, আবাদ করলেন। কৃষি কার্য শুরু হলো মানুষের সার্থে।

নবম হলেন শ্রী কৃষ্ণ। রাজনীতি, কূটনীতি র প্রবর্তন হলো। সৃস্টি হলো ধর্মের। ধর্ম সামাজিক মানুষকে দেখালো কি ভাবে বেঁচে থাকতে হয়।

শেষ অবতার হলেন কল্কি। তিনি এখনো আসেন নি। তিনি হবেন জেনেটিক্যালি অনেক অনেক উন্নত এক মানুষ। তার আসাটাই আর একটা ইভলুশনের দরকার। কর্কট রোগের অতিরিক্ত কোষ বিভাজন ই নাকি তার প্রারম্ভ। অর্থাৎ সেই জেনেটিক ইভলুশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

মা, এ তো আশ্চর্য মা। ছেলে বলে উঠলো। আমি তো ভাবতেই পারছিনা যে ডারউইনের অনেক আগেই হিন্দু পুরানে এসব লেখা আছে।

মা বললেন, হা আছে।আসলে হিন্দু রা ভাবতে জানে, আবিষ্কার ও করতে জানে। কিন্তু তাকে বিজ্ঞানের ভাষায় লিখতে জানে না। তারা এই সব আবিষ্কার কে পুরানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাই পুরাণ সঠিক ভাবে পড়তে পারলে দেখা যাবে হিন্দুরা যা বহুকাল আগে ভেবে ফেলেছে, তা বিদেশিরা আজ ভাবতে শুরু করেছে.........
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:০৭
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩২



বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

রেডিওর ক্র্যাকল শব্দ ভেদ করে ভেসে আসা "আমার সোনার বাংলা", কিংবা কোনো বর্ষার সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের "কারার ঐ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিউস vs মুসা (আ.)

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



গ্রিক পুরাণে (Greek Mythology) কোনো একজন ঈশ্বর ছিল না , বরং অসংখ্য দেবদেবী ছিল। তবে জিউস (Zeus) হলেন গ্রিক পুরাণের প্রধান দেবতা , সমস্ত দেবদেবীর রাজা আকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাক স্পর্শ (এটাকে সুর করে গান করার ইচ্ছে আছে)

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

কুয়াশার ভেতর ফিরে আসি চেনা সেই শহরের পথে,
বিবর্ণ আলো ঘুমিয়ে থাকে পুরোনো কোনো জানালাতে।
একটা নাম আজও কেন নিঃশব্দে ডাকে......
ধুলো জমা সেই পথটাতে পায়ের শব্দ থেমে যায়,
দেয়ালজুড়ে মুছে যাওয়া কত স্মৃতিরেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি রাজধানী ঢাকাকে মেরে ফেলছি ?

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×