somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার মৃত্যু

৩১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত বাড়তে বাড়তে কখন যে একটার ঘরে চলে গেছে খেয়াল করি নি। খেয়াল করলাম মোবাইলে মেসেজ দেখতে গিয়ে। যে নাম্বারটা থেকে আমার জন্য মেসেজ এসেছে আমি সেই নাম্বারটা চিনি না। এক সময় এমন অচেনা নাম্বার থেকে মেসেজ আসলে উতলা হয়ে যেতাম৷ ফোন করে শুনতে ইচ্ছা করত ওপারে কোন নারীর সুন্দর মিহি গলা। তখন কি করে যেন নিশ্চিত হয়ে যেতাম। নিশ্চিত কথাটা মনে পরতে মনে হলো নিশ্চয়তার বিশ্বাস যদি কেটে গিয়ে গলাটা কোন ছেলের গলা হত ভীষন ভাবে রেগে যেতাম। আজকাল আর কোন কিছুতেই তেমন একটা রাগ ওঠে না। এমনকি জানতেও ইচ্ছা করেনা মেসেজের উৎস। বরং নিয়মিত মেসেজ আসলে ভালো লাগে। কেন জানিনা মনটা আবার খারাপ হয়ে যায় যখন মনে হয় সময়ের সাথে সাথে এখন আর কেউ অচেনা কাউকে মেসেজ করেনা।

হঠাৎ আবার মনে হচ্ছে এসব কি সব পাগলের মতো লিখছি। এর থেকে ভালো চুপচাপ শুয়ে থাকতাম৷ অনেকে আছে যারা চুপচাপ শুয়ে থাকতে পারেনা। আমি পারি। ঘন্টার পর ঘন্টা এমন কি সমস্ত রাত এটা ভেবেই কাটিয়ে দিতে পারি, আমি ফুটপাতে শুয়ে থাকা কোন ভিক্ষুক। সারাদিন ভিক্ষা করে এখন শুয়ে আছি একটা রাস্তায়। এই রাস্তাটা আমার। মাথার উপর আকাশটাও। আমি এর ভাগ কাউকে দেব না। নিজেকে ভিখারী ভাবতে ভালোলাগছে। কেন লাগছে তা হয়ত জানি না, আবার এমনটাও হতে পারে জানি কিন্তু বলব না। বলব না বলব না করতে গিয়ে একটু দূরে শুয়ে থাকা আর এক ভিখারী কে ডাকলাম। ওর নাম কি রাখা যায় একটু ভেবে নেই। জবা। না জবা নামটা পুরানো হয়ে গেছে। এমন একটা নাম রাখতে হবে যে নামটা আগে কোনদিন পৃথিবীর মানুষ রাখেনি। কি রাখা যায়, কি রাখা যায় চিন্তা করতে করতে মাথায় এলো ভোরের সকাল। বাহঃ। চমৎকার নাম। এই নামটাকে রাখা যায়। একটু গলা খাকরানি দিয়ে বললাম, শুনছিস। ও কোন উত্তর দিলো না। বোধহয় ঘুমাচ্ছে। কিন্তু ঘুমালে তো চলবে না। আমাকে এখন কথা বলতে হবে। তাই উঠে পরলাম নিজের রাজকীয় বিছানা থেকে। পকেটে বিড়ি আছে। ঝোলার ভেতর দেশলাই। কিন্তু তাতে কাঠি নেই৷ ধ্যাৎ। এই রাত্রে আর আগুনের জন্য বিজ্ঞাপন দিতে ভালোলাগছে না। তারথেকে ভালো ওকে ডাকি।
-এই শুনছিস..?
কথাটা বললাম ওর মাথায় হাত বুলিয়ে।
-হ্যাঁ বল।
-ঘুমাচ্ছিস.?
-আ মরন। শালা ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে জানতে চাইছিস ঘুমাচ্ছে কিনা.? তোর মরন হয় না।
-না। কি করলে মরা যায় বলত?
-বিষ খা।
-ইঁদূর মারা.?
-খেতে পারিস। তবে ওতে বোধহয় মানুষ মরে না, বরং মোটা হয়। তুই খেতে পারিস, মোটা হবি।
কথাটা বলতে বলতে ও আমার কোলে মাথা রাখে। আমি কপালে একটা চুমু দেব কিনা ভাবতে থাকি। ভাবতে গিয়ে মনে পরে আমি তো ওর একটা নাম রেখেছি।
-এই শোন।
-বল।
-আমি না তোর একটা নাম রেখেছি।
-কি নাম.?
-ভোরের সকাল।
কথাটা শেষ হতেই হো হো করে হাসতে থাকে ও। আমি চুপ করে থাকি। ইচ্ছা করে আমার আকাশটা থেকে ওকে একটা তারা উপহার দেই। দিতে পারিনা। কেন দেব.? আমি তো প্রতিজ্ঞা করেছি আমার আকাশটাকে আমি ভাঙতে দেবনা। থাক। তার থেকে বরং ওর হাসি দেখি।
মিনিট পাঁচেক হয়ে গেছে বোধহয়। ও হাসি থামায়। বলে,
-নামটা মন্দ না। কিন্তু এর সাথে মিলিয়ে তোর ও একটা নাম রাখ।
-রেখেছি।
-কি.?
-শেষ বিকেল।
কথাটা শেষ করেই আমি ওর মুখ চেপে ধরি। হাসতে দেই না। বলি,
-তুই বড়লোক না গরিব.?
-এমন দার্শনিক প্রশ্ন শুনে ভোরের সকাল অবাক হয়। আমার কপালে হাত দিয়ে বলে,
-জ্বর টর হলো নাকি তোর.? এভাবে ভুল বকছিস কেন.?
-ভুল বকছি না। শোন তোকে একটা কথা বলি। জীবনে যদি কোনদিন বড়লোকও হোস তাও নিজেকে গরিব ভাববি৷ কেন জানিস.? কারণ নিজেকে গরিব ভাবা ভালো। গরিব সারাদিন পরিশ্রম করে। পরিশ্রম করলে তাদের খিদে পায়। খিদে পেলে চোখের সামনে সমস্ত কিছুকেই খেতে ইচ্ছা করে। খাওয়া হলে ঘুম৷ গরিব অত দুঃখ করার সময় পায়না। আর তাই তারা আজো খোলা আকাশের নীচে নিশ্চিন্তে ঘুমায়। যেটা আমি কিনবা তুই পারিনা।
-পারিনা মানে.? এই তো পারছি। খোলা আকাশের নীচে শুয়ে আছি। প্রেম করছি।
-না। করছি না। আমার একটা বাড়ি আছে। সেখানে একটা বিছানা আছে। আমি তার উপর শুয়ে ছিলাম। ঘড়িতে একটা বাজছিল। হঠাৎ ইচ্ছা হলো কিছু লিখি। তাই এসব লিখছি। সেই লেখাতেই তুই এলি। তুই হলি আমার কল্পনা।

আমি কল্পনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আসি। ঘরের ভেতর শুয়ে আছি। বাইরে বড় রাস্তাদিয়ে বোধহয় বড় একটা ট্রাক চলে গেলো। একটা কুকুর করুণ সুরে ডাকছে। সন্ধ্যায় অফিস ফেরত কে যেন বলছিল ও ওর বাচ্চা গুলোকে খুঁজে পাচ্ছেনা। আহারে মায়ের মন। এই রে, আবার বোধহয় জ্ঞান দিতে শুরু করলাম। লেখালেখি ছাড়ছি একটু একটু করে। সময় পাইনা। যখন নিয়মিত লিখতাম ভালো লাগত। ভালোলাগতো লোকে ভালো বলত তাই না, অন্তত বুক ঠুকে বলতে পারি কোনদিন কোন গল্পই কারো ভালোলাগাতে লিখিনি। এমন কি এই পাগলামি ভরা লেখাটাও না। আবেগ বেশি হয়ে যাচ্ছে। বেশি হয়ে যাচ্ছে ঘরময় ছড়ানো ব্যস্ততা। ওসব এখন থাক। বহুদিন পরে আজ আবার রাত জাগবো৷ কতদিন হয়ে গেলো ভোরটা কিছুতেই দেখা হয়না। আগে দেখতাম নিয়মিত। শেষ রাতে জানালা খুলে দিয়ে বিষন্ন বাতাস গায়ে জড়ানো যে কতটা প্রিয় হতে পারে তা বলে বোঝাতে পারব না। কিনবা ইচ্ছা করেই বলব না।

সব ভালোলাগার কথা বলতে হয়না। সব ভালোলাগার কথা বলে দিলে একদিন ভালোলাগাটা ফুঁরিয়ে যায়। ঠিক যেমন ভালোলাগার মানুষটাকে খুব ভালোকরে চিনতে যেতে নেই। চিনে ফেললে একটা মৃত্যু হয়। মৃত্যু হয় ভালোলাগার। মৃত্যু হয় ভালোবাসার। তখন আর কিছুতেই কিছু ভালোলাগেনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×