খুব ছোট বেলায় একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছিলাম।চন্দননগর থেকে ট্রেনে করে হাওড়া স্টেশানে পৌছে গেছিলাম।ক্লাস থ্রীতে পড়ি তখন।
বিকেল নাগাদ পালিয়ে একটা ফলওলার কাছে বসেছিলাম।মনে আছে ফলওলাটা আঙ্গুর আর আপেল খেতে দিয়েছিল।সারা সন্ধ্যে ধরে ফল বেচার মাঝেমাঝে আমাকে অনেক গল্প শুনিয়েছিল।সব গল্প মনে নেই।ওর গ্রামের গল্প,বাড়িতে থাকা মেয়ের গল্প শুনিয়েছিল। তারপর সন্ধ্যে পেরিয়ে যেই রাত হোল অমনি মায়ের জন্য মন খারাপ করল।আবার ফিরতি ট্রেন ধরে ফিরে এলাম।আসার সময় ফলওলাটা বলেছিল আবার কখনও পালিয়ে চলে এসো আমার কাছে।কিন্তু আর ফিরে যাওয়া হয়নি।
এখনও রোজ মাঝে মাঝে একটু একটু করে হারিয়ে যাই।আসলে এখন বড় হয়ে বুঝি হারিয়ে যাওয়াটাই ভবিতব্য।আমরা সবাই রোজ একটু একটু করে হারিয়ে যাই।এই ভাবে হারাতে হারাতে এক সময় ফুরিয়ে যাই আর পৌছে যাই যারা আগেই হারিয়ে গেছে।নাকি কে জানে যেদিন সবটা হারিয়ে যাব সেদিন কোথাওই পৌছাবনা।সবটুকু হারিয়ে গেলে আর কোথাও পৌছানো যায়না।তখন আর কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকেনা।তখন থাকে খালি শূন্যতা।আসলে আমরা সবাই রোজ একটু একটু করে হারাতে হারাতে শূন্য হয়ে যাই।শূন্য হয়ে মিলিয়ে যাই আকাশের তারা হয়ে।
জীবনটাও আসলে সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই।ধোঁয়া হয়ে উড়তে উড়তে ছাই হয়ে শেষ হয়ে যায় এক সময়।তারপর সেই ছাই মিশে যায় হাওয়ায় হাওয়ায়।পরে থাকে খানিকটা গন্ধ।ঠিক যেমন আমরা হারিয়ে যাওয়ার পরে আমাদের বিছানায়,বালিশে,বইতে আমরা খানিকটা করে থেকে যাই।আমাদের ফেলে যাওয়া পোষাকে লেগে থাকে আমাদের শরীরের ঘামের গন্ধ।তারপর একদিন কেউ সেসব কেচে তুলে রাখে কোন বাক্সে ঢুকিয়ে ন্যাপথলিন দিয়ে।পুরোনো গন্ধকে ঢেকে দেয় নতুন গন্ধ।আমরা তখন আর থাকিনা,কোথাও থাকিনা।খালি মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ার সাথে স্মৃতিতে ভেসে এসে আমরা জানান দিয়ে যাই আমরাও ছিলাম একদিন আমাদের সব রাগ,দুঃখ,হাসি,কান্না নিয়ে।তারপর একদিন সেই হাওয়াটাও মিলিয়ে যায় বাষ্প হয়ে।আমরাও মুছে যাই এই পৃথিবী থেকে।
সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরে থাকে খালি শূন্যতা।আর ঝরে পরা ছাই ভেসে বেড়ায় একা একা।তার থাকে খালি নিঃসঙ্গতা।শূন্য থেকে শুরু করে আবার শূন্য হয়ে যায় জীবন।থাকে খালি কিছু হারিয়ে যেতে থাকা ঘামের গন্ধ আর কিছু কিছু কথা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



