somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : পারফেক্ট মার্ডার

০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা খুন করতে চলেছি। নিখুঁত মার্ডার। যা টেকনিকালি সম্ভব নয়। আসলে খুন নিখুঁত বা খুঁতে হয়না। হয় পরের আনুষঙ্গিক কাজটা। বডি ডিসপোজ করা।
ভাবছেন ভুল বকছি?
আমি সরল লোক। নেশা করিনা, ভুল বকিনা। খুনটা করতেই হবে। আমার বৌকে। সে ইদানিং অসহ্য হয়ে উঠেছে। সন্দেহবাতিক, অসুস্থ, উদ্ধত আর বিরক্তিকর। সম্ভবত পুরোনো রোগটা মাথাচাড়া দিয়েছে। খামার থেকে বাড়ি ফিরতে দেখি ঘরদোর ছন্নছাড়া হয়ে রয়েছে। জিনিসপত্র ভাঙচুর, চিৎকার চোটপাট, আত্মহত্যার হুমকি। প্রভাবশালী বড়োলোকের হিস্টিরিয়াগ্রস্ত একমাত্র কন্যার সাথে আমার মত বোকা মধ্যবিত্ত পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর কিকরে বিয়ে হল তার বিরক্তিকর বর্ণনা দিয়ে বোর করবনা। আপনারা তরুন মজুমদারের ভালবাসা ভালবাসা ছবিটা দেখেছেন। এক অপ্রতিভ মুরগি ব্যবসায়ী তাপস পালের সাথে বড়লোক মেয়ের প্রেম। আমার অবস্থা কতকটা তাই।
জীবনটা ছারখার হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি মারা যাব। যথেষ্ট হয়েছে। এবার শান্তিতে বাঁচতে চাই। একা। নিসঃঙ্গ।

চিন্তাজাল ছিন্ন হল, ভাগাড় থেকে লোক এসেছে। শস্তায় ওদের কাছ থেকে কিনে নিই পশুর দেহাবশেষ। হাড়গোর গ্রাইন্ডিং মেশিনে গুঁড়ো করে মুরগির খাবার বানাতে হবে। এই বিরাট খামার আমার পেট চালায় যে।

কাজ শেষে ফিরে কষে ভাবতে লাগলাম
একটা খুন মানে অনেক ঝামেলা। মার্ডার করতে যে নার্ভ লাগে তা আমার আছে, কিন্তু সুচারুভাবে লাশ গায়েব করার টেকনিক আমার জানা নেই।
দুটো কঠিন কাজ আছে। লাশ হাপিস আর তার অন্তর্ধানের ব্যাখ্যা। অবশ্য প্রথমটা যদি ঠিকঠাক কর‍তে পারি দ্বিতীয়টা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবেনা। কত মানুষই, বিশেষত আমাদের দেশের কত মেয়েই তো হারিয়ে যায় চিরকালের জন্য। কিন্তু এই মফস্বলি শহরে লাশ গায়েব করা খুব কঠিন ব্যাপার।
হেডলি চেজের গল্পে গাড়ি করে দেহ খাদে ফেলা দেওয়ার আজগুবি প্লট কি করে লোকে পড়ে ভেবে পাইনা। প্লট এতটাই ফুলপ্রুফ হবে কাজ যে সে স্রেফ হাওয়া হয়ে যাবে দুনিয়া থেকে। কিছুটি খুঁজে পাবেনা কেউ। যদি ট্রেস না মেলে কারো বাপের সাধ্যি নেই আমায় ফাঁসায়।

কাল রটিয়ে দেব ভোর থেকে আর বৌকে খুঁজে পাচ্ছিনা৷ বাপের বাড়ি যাবে যাবে বলছিল কিন্তু না বলে তো যায়না... বিরহের কান্নায় ভেঙে পড়তে হবে। তারপর থানা পুলিশ এনকোয়ারির জন্য প্রস্তুত হবে এই বোকা অপদার্থ লোকটা।

*********************

আটমাস কেটে গেছে। পুলিশ তন্ন তন্ন করেও আমার বৌ এর হদিশ পায়নি। তদন্তকারী অফিসার খুঁজেছে বাড়ির আনাচ কানাচ এমনকি মুরগিঘরেও। সন্দেহ হতে খুঁড়িয়েছে উঠোন। ঠুকে ঠুকে দেখেছে দেওয়াল। যদি কিছু মিলতো, আমাকে দাঁড়াতে হত ফাঁসির তক্তায়। ক্ষমতাবান শশুর হন্যে হয়ে খুঁজেছে। এক রাত্রের মধ্যে হতচ্ছাড়ি কিকরে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ভেবে কূল কিনারা পায়নি।

আজ সকালে যখন মুরগিকে খাবার দিচ্ছি সেই তদন্তকারী অফিসার এসে হাজির। তারা নাকি ফাইল ক্লোজ করে দিচ্ছে। আসলে এতবার থানা কাছারি করতে হয়েছে যে একটা ভাল সম্পর্ক হয়ে গেছে ওদের সাথে। আমি মুক্তির আনন্দে ওদের নেমন্তন্ন করলাম আজ রাত্রে। হাল্কা খাওয়াদাওয়া, একটু পাণভোজন আর কি। পাড়ার দু চারজন মুরুব্বিকেও বলব।

এইমাত্র থানার কজন অফিসার ঢেঁকুর তুলতে তুলতে ফিরে গেল। যারা আমায় সন্দেহের চোখে দেখত সেই প্রতিবেশীরাও খেল পেটপুরে। প্রত্যেককে হজমি গুলি সাপ্লাই করলাম।

আমার খুনের সাক্ষী সত্যিই নেই আর। যারা ছিল তাদের খতম করে ফেলা হল। গ্রাইন্ডিং মেশিনে লাশটা পিষে থেঁতলে, গুঁড়ো করে মাংস রক্ত হাড় মিশিয়ে দিয়েছিলাম প্রচুর পরিমান মুরগির খাবারের সাথে। একটু একটু করে কয়েক দিন ধরে... সেই উৎকৃষ্ট খাদ্য খুঁটে খুঁটে খেয়েছে আমার পালিত পোষ্যরা। আজ তারাই খাদ্য হয়ে চালান হয়ে গেল সন্দেহবাতিকদের উদরে৷
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৯
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×