somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য : মাজার

০৪ ঠা মার্চ, ২০২৩ রাত ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন এক মাজারে এক মৌলবী বসে থাকতো ।
মৌলবীর পাশে একটা গাধাও বসে থাকতো ।
শ'য়ে শ'য়ে মানুষ মাজারে দান চড়াতো। তার মধ্যে একজন বানজারা-ও ছিল । লোকটা খুব গরীব ছিল । তবুও নিয়মিত আসতো, নিষ্ঠার সাথে মাথা ঠুকতো, মৌলবীর সেবা করতো, আবার নিজের কাজে ফিরে যেতো ।
লোকটার কাপড়ের ব্যবসা ছিল । কাপড়ের ভারী পোঁটলা কাঁধে নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অলি গলিতে ফেরী করে কাপড় বেচতো।
একদিন মৌলবীর লোকটার উপর দয়া হোল, লোকটাকে নিজের গাধাটা দান করে দিলো। এখন বানজারা লোকটার অর্ধেক সমস্যা মিটে গেলো। সে এখন সব কাপড় গাধার পিঠে চাপিয়ে দেয়, আর কষ্ট হয়ে গেলে নিজেও গাধার পিঠে চেপে বসে ।
এর মধ্যে গাধার সাথে নতুন মালিকের বেশ মিলমিশ হয়ে গেলো ।এইভাবে কয়েক মাস কেটে যায় ।
কিন্তু একদিন গাধার মৃত্যু হলো । বানজারার মনে খুব দুঃখ হলো । সে একটা গর্ত বানিয়ে গাধাটাকে সেই গর্তে কবর দিয়ে ওখানে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো ।
কাছ দিয়ে একজন লোক যেতে যেতে এই দৃশ্য দেখে ভাবলো এটা নিশ্চয়ই কোনও বড় এক পীরের কবর হবে । ঐ জন্যই ঐ বানজারা ওখানে বসে নিজের দুঃখ কেঁদে কেঁদে জানাচ্ছে ।
এই ভেবে লোকটা ঐ কবরে মাথা ঠেকিয়ে নিজের ইচ্ছা জানিয়ে প্রার্থনা করে কবরের উপর কিছু পয়সা চড়িয়ে চলে গেলো।
কিছু দিন পরে ঐ লোকটার ইচ্ছা পূর্ণ হয়ে গেলো । মনের আনন্দে লোকটা সারা গ্রামে যেন ঢাক পেটাতে শুরু করলো যে ঐখানে একটা পীরের মাজার আছে যেখানে মানত করলে সব ইচ্ছা পূরণ হয় ।
ঐদিন থেকে ঐ কবরে লোকের ভীড়ে একাকার হয়ে গেলো । দূর দূর থেকে মানুষজন নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য ছুটে আসতে শুরু করলো। বানজারা তো হাতে চাঁদ পেয়ে গেলো । বসে বসে আয়ের ব্যবস্থা হয়ে গেলো । ধীরে ধীরে ঐ কবর সম্পূর্ণভাবে মাজারের আকার ধারণ করলো ।
একদিন যে মৌলবী বানজারাকে নিজের গাধা দিয়েছিলো ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো । তাকে দেখে বানজারা তার পা ছুঁয়ে মাথায় হাত দিয়ে বললো, "আপনার গাধা তো আমার জীবনের মোড় ফিরিয়ে দিয়েছে । যতদিন বেঁচে ছিল আমার রোজগারে সাহায্য করেছে, আর মরার পরেও কবর থেকে আমার রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।"
মৌলবী হেসে বললো, "বাচ্চা ! যে মাজারে তুই প্রতিদিন মাথা ঠেকাতে আসতিস, ঐ মাজার এই গাধার মায়ের !"
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৩ রাত ১০:৩৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মিনি পোস্ট!

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

ইদানীং ব্যস্ততার কারণে সামুতে আসা হয়না। মাঝে মাঝে ঢু মারলেও লগইন করা হয়না।
আজ একটা ভাবনা মনে উদয় হওয়ায় সবার সাথে শেয়ার করতে এলাম-

জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×