মা হাসিনা,
আশা করি অনেক ভাল আছ।খুব ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে আজকে অনেক দিনের পুরাতন পত্রিকা পড়া শুরু করলাম...এই কয়দিন পড়া হয়নাই পেপার..রাখা হয়নাই দেশের খবর।মনে খুব আশা ছিলো...হয়ত এই কয়দিনে অনেক সুখবর অপেক্ষা করছে।একমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের টি-টুয়েন্টিতে জয় ছাড়া আর কোন ভাল সংবাদ নাই।ভাল খবর তো নাইই...সাথে যোগ হয়েছে নোংরা সব কথা।একজন দেশের প্রধানমত্রী যিনি একজন মহিলা তিনি আরেকজন মহিলা নেত্রীক উদ্দ্যশ্য করে বলেছেন, ‘উনি সারা রাত কি করেন’।তোমার তো মা মনি হুঁশ থাকতে হবে যে তুমি একজন মহিলা...আর একজন মহিলা হয়ে আরেকজন মহিলা কে যদি এভাবে বলো তাহলে আর সবাই কি শিখবে?ধরে নিচ্ছি বেগম খালেদা জিয়া ভুল টা আগে করেছেন...কিন্তু তোমাকে সবার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে যে তুমি আমাদের দেশের প্রতিনিধি...তোমার প্রতিটা কথা সারা বিশ্বের মানুষ দেখে...শুনে...সুতরাং তোমার একটা বাজে মন্তব্য আমাদের বাংলাদশ কে চরম লজ্জায় ফেলে দেয়।
মা রে,
আমি এখন যেই দেশে আছি...সেখানে একটা মানুষ চাকরি করতে হলে তাকে তার এজেন্সি সব কিছু বলে দেয়...যেমন কোন শিফটে কাজ করলে ঠিক কয়টায় কোন বাস বা ট্রাম বা ট্রেনে উঠতে হবে অথচ আমরা স্বাধীনতার ৪০ বছরেও দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থ্যা ঠিক করতে পারলাম না।আবুল সাহেব দোষ দিলেন আরেক মাল সাহেবের...আর মাল সাহেব তার এভার গ্রীন হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিলেন সব কিছু।কিন্তু মা রে,এভাবে আর কত?একজন তারেক মাসুদ ,মিশুক মুনির না মরলে কি আবুল সাহেব এতটা সিরিয়াস হতেন? যেই রাস্তা আবার জল কাদায় সেই রাস্তায় হয়ে গেছে...মাঝখান থেকে সাড়ে ছয়শ কোটি টাকা নাই...কোথায় গেল এই টাকা মা মনি?
মা রে, মানলম নৌ-পরিবহন মন্ত্রী অনেক ক্ষমতাধর লোক...অনেক টাকা চাঁদা দেন তোমাদের...কিন্তু তাই বলে যা মুখে আসবে তাই বলবে? মানুষ কি হাস মুরগী?এইসব মাতাল লোক নিয়ে তোমার কিভাবে শক্ত বিশ্বাস জন্মায় যে তুমি আগামি বার আবার ক্ষমতায় যাবেই যাবে?
এই আবুল হোসেনের চরম দুর্নীতিই কিন্তু পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন এখন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে...তুমি তাকে এতটাই লাই দিয়ে ফেলেছো...যে তার সেই আবুল মার্কা হাসি দেশর একটা স্বপ্ন আর তোমার দলের অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার কে এখন হাসির পাত্র বানায় ছাড়ছে।
মা রে,
তোমার একট বৈশিষ্ঠ আমার কাছে একই সাথে ভাল লাগে আবার মাঝেমাঝে অবাকও লাগে...যেমন সেই কাজটা তুমি দলের সাথে বেঈমানী করা আব্দুল জলিলের সাথে করেছিলা...সেই কাজের মতই কাজ কিন্তু তুমি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শামিম ওসমানের সাথে করতে পারো না।শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের মত স্বীকৃত সন্ত্রাসী বাংলাদেশে খুব কমই আছে...এটা দেশের মানুষ এবং ঐ এলাকার মানুষ জানে।তার মাথা ঠান্ডা রাখতে যেয়ে যে একই সাথে সেলিনা হায়াত এবং তাকে নির্বাচনে দাড়ানোর ব্যাপারে সায় দিতে হবে এটা মেনে নিতে পারলাম না।তুমি জনগণ কে এতটা বোকা ভাবতে পারোনা।আমার ধারণা তোমার এই মৌণ সম্মতিতে সেলিনার মত প্রার্থী এবার জিততে পারবে না...কারণ শামীম ওস্মান তার ভোটের অনেকটাই নষ্ট করে দেবে।আমার মতে ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের ভেতর ভাঙন সৃষ্টিকারী নেতাদের চিনে তুমি যতটা উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছিলে...শামীম ওসমানের মত সন্ত্রাসী আর বেঈমান কে না চিনার ভান করে ততটাই নির্বোধের পরিচয় দিলে।
মা রে,
শেয়ার বাজারের এই পতন কি তোমার চোখে পরে না?কারা কারা জড়িত এগুলার সাথে?কোথায় গেল একদিনে ২৭ হাজার কোটি টাকা মার্কেট দিয়ে?আমার জানা মতে এখন অনেক ঘরে বসে থাকা বয়স্ক ব্যাক্তি তার পেনশনের টাকা শেয়ার বাজারে খাটান...ব্যাঙ্কে না রেখে।তারা দিনের একটা সময় শেয়ার বাজারে বসে গল্প করে...তার টাকাকে বাজারে খাটিয়ে দুইটা টাকা মুনাফার স্বপ্ন দেখেন...এরা কি তবে সবাই ফাটকাবাজ?কি বললেন তোমার দলের সবচেয়ে ভদ্র আর এভারগ্রীণ ফেস্ড আবুল মাল আব্দুল মুহিত সাহেব?এইসব সল্প টাকা হারানো লোকের আন্দোলন চোখে পরে আর স্বীকৃত ঋণখেলাপী সালমান এফ রহমান কে চোখে পরে না?চোখে পরে না তার দরবেশ রুপি চেহারার আড়ালে শেয়ার বাজার নিয়ে নয় ছয় করার খেলা?চোখে পরে না আ হ মোস্তফা কামালের খেলা?দেশের অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের দুঃখে কাঁদবেন...তাকে ফাটকাবাজ বলবেন আমি মেনে নিতে পারলাম না মা মনি।মেনে নিতাম যদি শেয়ার বাজার একদিনেই আবার স্থিতিশীল হয়ে যেত...কিন্তু তা হয়নাই।
মা রে,
যুদ্ধপরাধীদের আর জামায়াত ইসলামীদের উপর তুমি এবার মহাক্ষ্যাপা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে এটা আমিও চাই...কিন্তু প্রশ্ন হলো আসলেই কি বিচার হবে?যেই দেশে স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হয়ে গেলেও মানুষ জানের ভয়ে পথ চলে সেই দেশে এই বিচার কি আমি দেখে যেতে পারব?একদিকে যখন এইসব রাজাকারদের বিচারের প্রক্রিয়া চলছে...আরেকদিকে তোমার দলের লোক টাকা খেয়ে জামায়াতপন্থীদের বিসিএস ক্যাডার বা অন্যান্য সরকারী চাকরি দিয়ে দিচ্ছে...সুতরাং এগুলা আমার কাছে লোক দেখানো কর্মকান্ড ছাড়া আর কিছুই না।মা মনি, দেশের মানুষের নিরাপত্ত নিশ্চিত করো...তারা যেন নিজের দেশে যেকোন সময় স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারে...সঠিক মুল্যে খাবার পায়...তার বেসিক ৫টা প্রয়োজন মেটাতে পারে...তবেই মানুষ খুশি হবে।
মা রে,
তোমার সরকারের আরেক সার্কাস সিলেকশন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।এই লোক কে কেনো তুমি রেখে দিছো এখনো আমার মাথায় ঢুকেনা।রোজার মাস আসল আর সাথে সাথে চিনির এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্য লাফ দিয়ে আকাশে উঠে পরল অথচ এই লোক কিছুই করতে পারল না।তুমি চাইলেই নিউইয়্র্ক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ধরে আনতে পারো আর এই সিন্ডকেট কে ধরতে পারলা না?এই কথাটা কি বিশ্বাসযোগ্য কোন কথা? মানুষ কে কম কম খেতে বলে কি তাদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন এই ফারুক সাহেব?জবাবটা আবার ভোটে চলে না আসে।মা গো, তোমরাই তো ফখুরুদ্দিনের আমলে চালের কেজি ৫০টা কেন হলো এই নিয়ে বাজার গরম করে ফেলেছিলে...অথচ তলে তলে তোমরাই ব্যবসায়ীদের বলে ছিলে তারা যেন ব্যাবসা গুটিয়ে রাখে...দেশের মানুষ এগুলা জানতে পারেনি অনেকে...তাই এসব কথা শুনে আজকে হাসি পায় আমার...যে ফখুরুদ্দিনের আমলে গণতন্ত্র ছিলোনা।মা মনি রে, ফখুরুদ্দিন সাহেবের মতন একজন শিক্ষিত লোক যিনি কিনা জিবনের বেশির ভাগ সময় লেখাপড়া আর চাকরী করেই কাটালেন তাকে আমরা সময় দিলাম না ২ বছর অথচ একজন মহান রাজনীতিবীদের ঘরে জন্ম নেয়া তুমি বিগত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ভুলের ভানে ভুল করেই যাচ্ছ...তুমি এমন ভাবে থাক যেন চোখেও দেখো না এবং কানেও শুনোনা। এভাবে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারবানা বেশিদিন।
মা রে,
একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সব সময় হাসি খুশি থাকবেন এটাই স্বাভাবিক...কিন্তু তাই বলে পা চাটা ভাব থাকলে তো হবে না। ইন্ডিয়া দেখলেই দিপু মায়ের এই পা চাটা ভাবটা আসলে আমাদের আক্ষরিক অর্থেই কোন উপকার বয়ে আনেনি।আমরা আসল চুক্তিতে পৌছাতে পারিনি...শুধু আশার বানীতে আর কতদিন চলবে বলো?একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মনে দয়া না থাকলে সেটা প্রবাসী সকল বাংলাদেশীদের জন্যই হুমকি স্বরুপ।সীমান্তে মারা যাওয়া সকল বাংলাদেশীদের ব্যাপারে তার উন্যাসিকতা ভাব আমাদের অবাক করে দেয়...তার দীর্ঘ সময় পর জবাব আমাদের হতবাক করে দেয়।প্রতিবেশির সাথ সু-সম্পর্ক রাখতে হবে মানে এইনা যে আপনার ইচ্ছা হলে আমাকে জবাইও দিতে পারেন।
মা গো,
আজকে ব্যাস্ত...আছি।আবার ফিরে আসব আগামিকাল কে।আসলে তোমাকে লেখার অনেক কিছুই আছে...যা এক চিঠিতে বলা সম্ভব না।ভাল থেকো না মনি।
মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে লেখা গেদু চাচার খোলা চিঠি।(১)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



