somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়েশিম ও জাফর স্যারকে নিয়ে ইতরামী এবং আমার কিছু কথা

০৭ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কালকে সামুতে জাফর ইকবাল স্যারের মেয়ে ইয়েশিম কে নিয়ে অনেকগুলো পোস্ট দেখলাম। যারা যারা পোস্ট দিয়েছে তারা আবার বেশ কায়দা করে একটা আলাদা ওয়েবসাইটে সেসব ছবি আপ্লোড করে সেগুলোর নীচে নানবিধ প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছে। যেমন-

১) স্যার নিজে বাঙালিত্ব নিয়ে কথা বলে, তবে মেয়ের এই হাল কেন?
২) নিজের মেয়েকে কি স্যার সামলে রাখতে পারে না?
৩) মেয়েটা অনেকগুলো ছেলের সাথে ছবি তুলেছে, এটা বাঙালিত্বের বিরোধী।

এই ধরনের অনেক প্রশ্ন। যেসব সাইটের লিঙ্ক গুলো ওইসব বিভিন্ন পোস্টের লেখকেরা দিয়েছিলেন তাতে করে সেখানে গিয়ে দেখলাম এলাহী কান্ড। উক্ত সাইটটি একটি ছাগু বই ডাউনলোডের সাইট এবং সেখানে গো। আজম ও মওদূদীর বইয়ে বইয়ে ধূল পরিমাণ। সুতরাং খুব সহজেই অনুমেয় যে, কিছু ছাগু পোনারা ধান্দায় ব্যাস্ত।

জাফর স্যারকে তুলোধুনা করবার চেষ্টা আজকে নতুন না। এর আগেও মেয়ের কাঁধে হাত রেখে নাচাতে জামাতে ইসলামী সহ সব রাজাকারের বাচ্চা কাচ্চা সহ সব ছাগু এক ধরনের মিলিত ধ্বনি করে ম্যাৎকার করেছিলো যা পরবর্তীতে ব্লগারদের লাত্থি, গুতা আর চড়ের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলো। এবারো হয়ত সেটির ব্যাতিক্রম হবে না।

স্যারের মেয়ে বা ছেলে কোনো ছেলে বা মেয়ের সাথে ছবি তুল্ল, হাফ প্যান্ট পরে তুল্ল না জাইঙ্গা পরে তুল্ল এতে করে কোন চুদির ভাইয়ের কি সমস্যা? স্যারের মেয়ের বন্ধু ১০০ তা থাক কিংবা ৫০০ তা থাক এটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। এখানে কার সমস্যা কোথায়? দেশের বাইরে যারা পড়তে এসেছে তারা মাত্রই জানেন, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশ গুলোতে যে এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ছেলে মেয়েরা পড়তে আসেন, একজন আরেক জনের সাথে পরিচিত হয়, বন্ধুত্ব হয়। সেরকম ইয়েশিমের সাথে ১০০ জনের বন্ধুত্ব্ব হতেই পারে, হতেই পারে এক বা একাধিক মানুষের সাথে তার সম্পর্ক। তাতে কার বাপের কি আসে যায়? এটা তার অধিকার এবং এটা তার ইচ্ছা। ইয়েশিমের বন্ধুত্ব্ব বা সম্পর্কের কারনে জবাব্দিহি জাফর স্যারকে করতে হবে কেন?

বাঙালী সংস্কৃতি মানে কে লাল পাড়েড় শাড়ী পড়ে কোনো রোমশ মোচালা লোকের উরুবন্দী হয়ে থাকা? পান আর চা হাতে স্বামীর আপ্যায়ন করা? বাঙালীত্ব দেখাতে গেলে তো আমাকে জিন্স আর টি শার্ট ছেড়ে ধুতি পরতে হবে এখন। কিংবা আমার বাপকে শার্ট ছেড়ে পাঞ্জাবী পরে থাকতে হবে ২৪ ঘন্টা। আসলে এই আইপড, ম্যাক, নিউ ক্লিয়ারের যুগে কি করে এমন অর্বাচীনের মত প্রশ্ন কিংবা অনুযোগ উত্থাপন করা যায়, সেটিই আমার মাথায় ঢোকে না। বাঙালীত্ব্ব কি পোষাকে থাকে? বাঙালীত্ব কি রয়েছে প্যান্টের চিপায়? নাকি শার্টের পকেটে? আমি এমনো কয়েকশ মানুষকে চিনি যারা জন্ম থেকেই অভিবাসী, এবং তাদের সব কিছুই পশ্চিমা শুধু তাদের বুকটি বাংলাদেশের। এটাই কি যথেষ্ঠ নয়? মুখে বাঙালিত্বের গান গেয়ে খুর দিয়ে রগ কাটতে গেলেই কি বাঙালি হওয়া যায়?

যেসব ছেলে পেলেরা এসব ছবি দিয়েছে, নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় এদের সামাজিক গন্ডি অনেক ছোট। জীবনে হয়তবা গোলাম আজম, নিজামীর সমাবেশে তাদের কথা শুনবার জন্য খুর নিয়ে গিয়েছে কিংবা সেখান থেকে খুর নিয়ে বাসায় ফিরেছে। তা না হলে হয়ত সারা জীবন এদের শরীয়তি বাপের কারনে জোব্বার নীচে অনেক বছর গুজরান করেছে। সুতরাং হঠাৎ করে এসব ছবি দেখলে এদের খিদে চাগাড় দিয়ে উঠবেই এবং অসুস্থ ইতরের মত ইতরপনাও এরা জমিয়ে ফেলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। খোঁজ নিলেই দেখা যাবে, এসব মওদূদীর চ্যালাদের বাপেরা একাত্তরে অসংখ্যা বাঙালী মা-বোন কে ধর্ষন করেছে কিংবা হত্যা করেছে।

আসলে কিছুই বল্বার নেই। যা আছে তা হচ্ছে ভয় পাবার। দেশের আনাচে কানাচে এমন অসুস্থ জামাতী পশুগুলো কেমন যেন আক্রোশ নিয়ে বসে আছে। যেন সুযোগ পেলেই খাবলে খাবে লাল সবুজের পতাকা কিংবা মানচিত্র। দেশে যেটুকু ভালো রয়েছে তার পুরোটাই এই ইতর প্রজাতীরা হামলে পড়ে শেষ করে ফেলতে চায়। এরা খুন করেছে হুমায়ুন আজাদকে, এরা খুন করেছে আমাদের মুক্ত চিন্তাকে, এরা খুন করেছে আমাদের স্বাধীনতাকে, এরা খুন করেছে একাত্তরে।

আর এদের পায়ু নিঃসৃত জারজেরা এখন প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্তে খুন করতে চায় বাংলাদেশকে।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:০৯
৮০টি মন্তব্য ৮০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন ইউনুস স্যার!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৪



অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। দীর্ঘ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×