somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীল অপরাজিতা,হুমায়ূন আহমেদ

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বুক রিভিউ


নীল অপরাজিতা উপন্যাসটি ঘুরপাক বা আবর্তন করেছে একজন লেখক কে ঘিরে যার নাম শওকত। এই লেখকের জীবনের ছোট একটা অধ্যায় উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে খুব সুচারূরুপে। লেখকের জীবনের প্রাপ্তি,অপ্রাপ্তি,মায়া,মোহ সবই আছে উপন্যাসের বিভিন্ন লাইনে লাইনে। মূল গল্পের সারাংস এখন বলতেই হচ্ছে।

শওকত সাহেব তার লেখা শেষ করার জন্য অবস্থান পরিবর্তন করেন,কারন পরিবেশ পার্থক্যে লেখকদের লেখনী কখনো কখনো অন্যরকম মাত্রা নিয়ে আসে সেই বিষয়টা পরীক্ষা করা,এছাড়াও লেখক শওকত সাহেব তার চলমান জীবন থেকে কিছুটা ব্রেক চেয়েছিলেন। আসলে জীবন চলার পথে সংসার ধর্ম করতে করতে অধিকাংশ পুরুষই বোধহয় একটা সময় হাপিয়ে উঠে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উক্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে। স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে আশেপাশের পরিবেশ যেমন বদলায় তেমনি চেনা মানুষের স্থানে অপরিচিত মুখ চলে আসে। সেই প্রবাহমানতায় গল্পের নায়িকা পুস্পের আগমন। দারুন সুন্দর নাম “পুস্প”। পুস্পের নাম যেমন সুন্দর তেমনি তাহার রুপ। পুরুষরা বোধকরি মেয়েদের রুপই আগে দেখে,আর লেখকরা আরো বেশি দেখেন। লেখক শওকত সাহেব তার চেতন বা অবচেতন মনে সেই রুপের প্রেমে পড়ে যান। আসলে শব্দটা প্রেম হবে না হবে মোহমায়া, তিনি পুস্পের মোহমায়ায় পড়ে যান। অসাধারণ সেই মুগ্ধতা। কিন্তু প্রকাশের অবকাশ ছিল না।অপর দিকে গল্পে শওকত সাহেবের স্ত্রীর প্রতিও অনেক স্থানে তারপ্রতি কিছুটা অভিমান প্রকাশ পেলেও ভালবাসাকে তা ছাপিয়ে যেতে পারে নি।কিন্তু জীবনে অনেক কিছু চাইলেও বাস্তবতা,সামাজিকতা,নিজের বিবেকবোধ এর কারনে মানুষ তা বলতে পারে না বা তাকে উপেক্ষা করে চলতে হয়। পুস্পের প্রতি লেখকের এই দূর্বলতা এবং তার নিজের ভেতরের অন্তর্দন্দ্ব দিয়েই শেষ হয়েছে গল্পের উপ্যাখ্যান। হুমায়ুন আহমেদ নিজে গল্পটি শেষ না করে পাঠকের মনের ভাবনার উপর ছেড়ে দিয়েছেন শেষ অংশে এসে যার কারনে পাঠকের দায় বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই।

উপন্যাসটি সুখ পাঠ্য এবং পড়ার পর বর্ষা ঋতুকে নতুন করে ভাবনায় এনে দেবে যে কাউকে। আমরা সচরাচর প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষন করিনা উপেক্ষা করে যাই,কিন্তু এই উপন্যাস পাঠের মধ্যদিয়ে সচেতন পাঠকের মাঝে নতুন করে বর্ষাকে দেখার সাধ হবে বলে আমার ধারনা। গল্পে নারী মন কেমন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের ব্যাবহার কেমন হয় তার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে।এই ক্ষেত্রে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, শওকত সাহেবের লেখালেখি করার জন্য স্থান পরিবর্তন তার স্ত্রী পছন্দ করেন না তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই তার স্ত্রী তার ব্যাগ গোছানোর সময় অপ্রয়োজনীয় একটা বই দিয়ে দেয়। হয়তো এটাই ছিল শওকত সাহেবের স্ত্রীর নীরব প্রতিবাদ।

লেখনীর এই পর্যায়ে সামান্য সমালোচনা করতে চাচ্ছি।আমার কাছে উপন্যাস হিসাবে এর চরিত্রের সংখ্যাগুলি সল্প মনে হয়েছে। পুস্পের চরিত্র আরো বিকশিত হবার সুযোগ ছিল বলে মনে হয়েছে। আর এ কথা না বলে থাকতে পারছি না যে, বইটির প্রচ্ছদ মোটেও গল্পের সাথে যায় নি। প্রচ্ছদে আরো ভাল কিছু আশা করেছিলাম একজন পাঠক হিসাবে। আমার কাছে মনে হয়েছে প্রচ্ছদটা উপন্যাসের আগে করা হয়েছে বা তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে।

বইটির পিডিএফ ডাউনলোড লিঙ্ক - নীল অপরাজিতা


বিঃদ্রঃ- জীবনের প্রথম বুক রিভিউ লেখার চেষ্টা করলাম,জানিনা কেমন হয়েছে। ভুল ত্রুটি গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা গেল। গঠনমূলক পরামর্শ সর্বদা গ্রহনযোগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ১১:৫২
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×