গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও তারেক রহমান একই স্কুলে পড়তেন। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে 1985 সালে এইচএসসি পাশ করার পর বাবার ব্যবসা সামলানো শুরু করেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। কয়েক বছরের মধ্যেই একটি তোয়ালে কারখানা ও একটি টেক্সটাইল মিলের মালিক হয়ে যান মামুন। তার এ ব্যবসায়িক উত্থানের পেছনে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমমানের সরাসরি মদদ ছিল।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মামুনকে। ধীরে ধীরে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানে শিপিং, টেক্সটাইল, গার্মেন্ট এবং অন্য ব্যবসায়ও অংশীদারিত্ব বাড়তে থাকে তার। 2001-এর নির্বাচনের পর তারেক রহমান হাওয়া ভবনের দায়িত্ব নেন এবং পুরোদমে রাজনীতি শুরু করেন। তারেক রহমানকে ঘিরে সুবিধাভোগীদের একটি মতা বলয় তৈরি হয়। তারেক রাজনীতি এবং মামুন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মামুন বলেছেন, তারেক রহমানের বিদেশে বিনিয়োগের খবর তিনি জানেন না। তারেকের ব্যবসায় মনোযোগ ছিল না। মামুনকে ব্যবসার সব সুযোগ করে দিতেন তিনি। বিনিময়ে মামুন তার ব্যক্তিগত ও পার্টির খরচ যোগাতেন। মামুন আরো বলেছেন, তারেক রহমান হাওয়া ভবনের মতা নেয়ার পর বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের জন্য কয়েকজন নিয়মিত তাকে টাকা দিতেন। ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম), জিলেট গ্রুপের বাংলাদেশ এজেন্ট এবং রেডিও ফুর্তির মালিক আনিস আহমেদ গোর্কি নিয়মিত তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এদের কাছ থেকে তারেক টাকা নিতে পারেন বলে ধারণা করছেন মামুন। আল-আমিন কনস্ট্রাকশনসের মালিক আমিন আহমেদ ভুইয়া তারেক রহমানের ব্যক্তিগত খরচের জন্য প্রতি মাসে 25 লাখ টাকা চাঁদা দিতেন। নাজমুল হুদা ঘনিষ্ট এ ব্যবসায়ী মেঘনা-গোমতী সেতু, ভৈবর সেতু, রূপসা সেতুর টোল আদায়ের ইজারা পাওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের ঠিকাদারি পেয়েছেন।
প্রোবে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন বলে মামুন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। মামুন আরো জানিয়েছেন, যদি তারেক রহমানের বিদেশে বিনিয়োগ থেকে থাকে, তবে তা' সুবিধাভোগী ওই 3 জন জানেন। মোসাদ্দেক আলী ফালু ও হারিস চৌধুরীরও এ সব দেশে বিনিয়োগ রয়েছে, ওরাও হয়তো এ সমঙ্র্কে কিছু জানেন। মামুনের মতে, তারেক রহমান 15 থেকে 20 বার মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন। তিনিও একবার তারেকের সঙ্গে গিয়েছিলেন। তবে সেবার স্রেফ ছুটি কাটাতে_ কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ সে সফরে নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন।
লুৎফুজ্জামান বাবরের সিঙ্গাপুরে ব্যবসা রয়েছে এবং তারেক রহমান তার সঙ্গে বেশ কয়েকবার সেখানে গিয়েছিল। সিঙ্গাপুর ছাড়াও দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও তারেকের সফর সঙ্গী ছিলেন বাবর। মামুনের ধারণা, তারেকের বিদেশে বিনিয়োগ সমঙ্র্কে বাবরের কাছে তথ্য থাকতে পারে।
অপরদিকে তারেকের ছোট ভাই আরাফাতের কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল না। তিনি শুধুই টাকা বানাতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। দুবাইভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান ওয়ারিদ টেলিকম বাংলাদেশে ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য বাবর, আলী আজগর লবী এবং আরাফাত রহমানকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়েছে বলে জানিয়েছে মামুন। আশির দশকের শেষের দিকে তারেক, মামুন ও সাইদ ইস্কান্দার যৌথভাবে লঞ্চ ব্যবসায় নামে। লঞ্চের নাম ছিল 'কোকো' (আরাফাতের ডাক নাম)। 1995 সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে লঞ্চ ব্যবসায় অংশগ্রহণ করেন আরাফাত। 2001 সালে জিয়া এয়ারপোর্ট থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত রাস্তার দু পাশের সব বিলবোর্ড আরাফাতের এড ফার্মের নিয়ন্ত্রণে আসে। যে কোনো সরকারি প্রকল্পের কমিশনতো আছেই, এছাড়াও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, কমলাপুরের আইসিডি পোর্ট প্রকল্প থেকেও টাকা নিয়েছেন তিনি। থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছেলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল আরাফাতের। চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের ব্যবসা করার অনুমতির বিনিময়ে লভ্যাংশ পেতেন তিনি। 4 দলীয় জোট সরকার মতায় থাকাকালে টেলিযোগাযোগ এবং শিপিং মন্ত্রণালয়ের সব প্রকল্পের ওপর তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে মামুন জানিয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



