সম্প্রতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মহিউদ্দিনকে নিয়ে লসএঞ্জেলস টাইমসে যে সাাৎকার দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মহিউদ্দিনের ছেলে রুবেন। জয়কে উদ্দেশ্য করে ইংরেজি ভাষায় লেখা এ চিঠিতে বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রুবেন জানান, 15 আগস্টের সে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এখনো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি, যে কারণে আমরা এখনো সত্য ঘটনা জানি না।
গতকাল ই-মেইলে পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সময় তার বাবা ঘটনাস্থল থেকে মাইল খানেক দূরে টহলের ডিউটিতে ছিলেন। মহিউদ্দিন রাসেলকে হত্যা করেছে, জয়ের এ বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে রুবেন আরো জানান, যখন সেনা সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে তখন মুজিবের অনুগত রী বাহিনীর সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ সংগঠিত হয়_ রাতের অন্ধকারে কে কাকে গুলি করেছে, সেটা আজো পরিষ্কার হয়নি।
রুবেন জয়ের কাছে প্রশ্ন করেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বাবা কূটনীতিক হিসেবে কাজ করলেন কিভাবে? এমনকি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালেও তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করলেন কিভাবে, এ প্রশ্নও তুলেছেন রুবেন।
21 বছর আগের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর ওপর কতখানি ভরসা রাখা যায়_ এ প্রশ্ন তুলে রুবেন আরো বলেন, জয় নিশ্চয়ই ভালো করেই জানেন বাংলাদেশে সাক্ষী বেশ সহজেই ম্যানেজ করা যায়। সুতরাং সাক্ষীর বিবরণের সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া ওই মামলার অনেক সাক্ষীই ঘটনার দিন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ছিলেন না। ঘটনাস্থলে ছিলেন না, এমনকি সেনাবাহিনীতেও ছিলেন না, এমন সাীরা কিভাবে জানলেন মহিউদ্দিন ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, এ প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রুবেন আরো লিখেছেন, ওই রাতে মাহিউদ্দিনের ঘটনাস্থলে থাকার কোনো প্রমাণ নেই।
রুবেন লিখেছেন, 1996 সালে দায়েরকৃত এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় আত্দপ সমর্থনের কোনো সুযোগ পাননি তার বাবা। তার প েউকিল নিয়োগও করেছে হাসিনা সরকার। মৃতু্যদণ্ডের এ রায়ও ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রাজনীতি প্রভাবিত এ মামলায় ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন রুবেন। জয়ের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে রুবেন আরো বলেন, মহিউদ্দিনের মতো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে যেমন জয়ের হারানো পরিবার ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, তেমনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



