
ইতিহাসের প্রতি ভালবাসা থেকে ইতিহাসের চিহ্ন বহন করার একটা আকাঙ্ক্ষা সবসময়ই ছিল। একদিন পকেটে থাকা পুরানো কয়েন ধরে চিন্তায় আসলো এই কয়েনই তো ইতিহাসের সাক্ষী। সে থেকে কয়েন সংগ্রহের শুরু। এরপর ইতিহাসের খুব ইন্টারেস্টিং সময় ও দেশের কয়েন কালেকশনের নেশা। হঠাৎ ভাবনা আসলো কয়েন আর ইতিহাস নিয়ে লেখা ; সেখান থেকে এই সিরিজ করা। এভাবে নিজের অবসর সময়ে নানা দেশ ও কালের কয়েন নিয়ে লিখে যাবো। ধন্যবাদ।
আজকের কয়েন >>>>
১৮৮৭ সালের অস্ট্রীয়-হাঙ্গেরির কয়েন। ২ হেলার।
মধ্যযুগে ইউরোপের সাম্রাজ্যের ভাঙ্গাগড়ার মাঝেও হাবসবার্গ সাম্রাজ্য ছিল ব্যাতিক্রম। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পরই ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে বেশি সীমানার দাবিদারও ছিল তারা। প্রায় হাজার বছরের স্থায়িত্ব নিয়ে হাবসবার্গ ছিল ইউরোপের বুকে এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯১৪ সালে সেই ইমারত গুড়িয়ে দেয়ার মশাল ধরিয়েছিল মাত্র ১৯ বছর বয়সী বসনিয়ান বিপ্লবী গেভ্রিলো প্রিন্সিপ। সেখান থেকে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
হাবসবার্গ সাম্রাজ্য ছিল বিকেন্দ্রিক, ফলে অন্য উপনিবেশিক শক্তির মত এরা এক কালচার, এক ভাষা বা এক জাতির বন্দনা করতো না। এটা যেন মনার্কি/রাজতন্ত্রের মাঝে কিছুটা এনার্কি/অরাজের ছিটে ফোটা। তাদের এই বিকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তা ন্যাশনালিজম ঊর্ধ্বে গিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল সুপ্রান্যাশনালিজমে।
হাবসবার্গদের মাঝে প্রচলিত ছিল নিজের রক্তের মধ্যেই সম্বন্ধ রাখা। এমনকি নিজেদের বৃহত্তর পরিবারেই এদের বিয়ে হত। যার ফলে প্রজন্মপর এদের শারীরিক ত্রুটি খুবই কমন হয়ে গিয়েছিল। কম বয়সে মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি একটা কমন শারীরিক ত্রুটি ছিল তাদের বর্ধিত চোয়াল; যাকে সে সময় উপহাস করে "হাবসবার্গস জ" বলা হত। অনেকের অবস্থা এতও বাজে ছিল লোকসম্মুখে তাদের আসা মানা ছিল।
যোগ্য উত্তরাধিকারের অভাব আর অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তাই ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হতে থাকে এই সাম্রাজ্য । অবশেষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায় হাবসবার্গ
ছবিতেঃ
(উপরে) হাবসবার্গদের চোয়াল - [ সূত্রঃ HowStuffsWork ]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১০:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




