somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

শাহেদের সাথে জীবন বদল

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




প্রতিদিন সূর্য ডুবার পর আমাকে
অচেনা অস্থিরতায় পেয়ে বসে,
দরজায় সামান্য আওয়াজ ও আমাকে
বিভ্রান্ত করে ফেলে,
বাতাসের ফিসফিসানি শব্দও আমার
রক্তে মুক্তির ডাক দেয়,
আমি অপেক্ষায় আছি, আমার বন্ধু শাহেদের জন্য।

শাহেদ আমাকে বাইশ বছর আগে কথা দিয়েছিল,
একদিন আমার জীবনটা ও নিয়ে নিবে,
বিনিময়ে, ওর জীবনটা আমাকে দিয়ে দিবে,
আমরা দুজন দুজনের জীবন অদল বদল করবো,
তারপর থেকে আমি লোভী বিড়ালের মত
অপেক্ষায় থাকি একটা নতুন জীবনের জন্য,
শাহেদ তোর জীবনটার জন্য।

একটা বোকা হাহাকার বাড়তে বাড়তে
বুকের মধ্যে আজ দুঃখের গাছ হয়ে গেল,
অনবরত আক্ষেপের পাতা ঝরে,
আর একটা করে পাতা দেখি আর ভাবি
এইবার বুঝি শাহেদ আসলো।

শাহেদ,
আমাকে তোর আলো জলমলের জীবনটার
লোভ না দেখালে ও পারতিস,
পরতে পরতে এতো সুখের গল্প,
পাওয়া না পাওয়ার হিসাব নাই তোর গল্পে,
সবাইকে সুখ দেখিয়েছিস হাসতে হাসতে,
বুকটা খুলে সুখের হাওরের সুখী বাতাস
আমাদের অসুখী শরীরের মেখে দিয়েছিস,
আমাদের লোভী করেছিস অন্য জীবনের জন্য।

আর আমি সারা জীবন অন্ধাকারে
আয়নায় নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত,
নিজেকেই খুজে পেলাম না এক জীবনে।

আমার এই কালো জীবন
আমার এই অপেক্ষার জীবন
আমার এই লোভী জীবন
সবই নিমেষে বদলে যাবে, যদি শাহেদ তোর জীবনটা আমার সাথে অদল বদল করিস।

শাহেদ, এক জীবনের জন্য বাইশ বছর অনেক,
তোর যদি আর জীবন বদলাতে ইচ্ছা না করে,
নিজের জীবনের প্রতি তোর লোভ জেগে যায়,
আমাকে একবার জানালেই হতো,
আমি হয়তো অন্য কারো জীবন খুঁজতাম।

কোন সন্যাসীর জীবনের জন্য
সব ত্যাগ করে করতাম,
কোন খুনির জীবনের জন্য
একটা খুন করে দেখতাম,
কোন রাজনীতিবিদ এর জীবনের জন্য
দাবা খেলা শিখতাম,
কোন বিরহী জীবনের জন্য
কবি হয়ে যেতাম।
অথবা বিপ্লবী জীবনের জন্য
প্রেমিক হয়ে যেতাম,
"শাহেদ আমি শুধু তোর অপেক্ষায় আছি বাইশ বছর
জীবনটা অদল বদল করার আশায়"।
-----------------------------------------
জি, এম, হারুন অর রশিদ
০৪/০৪/২০১৭


সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×