somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

সব শেষের চিঠি

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনোলীনা,
কেমন আছো ? তুমিতো ভালোই থাকবে,
কেমন আছো জানতে চাওয়া ঠিক হয়নি,
তোমাকে অনেক কাল লিখিনা,
কেমন যেন সংকোচ হচ্ছিলো,
তুমি হয়তো বিব্রত হবে ভেবে,
বোকা মানুষতো, তাই বেশী চিন্তা করতে পারিনা,
লিখেই ফেললাম,
তোমার মনে আছে,
তুমি আমাকে“ বোকা মানুষ” বলতে সব সময়।

মনোলীনা,
আমার না খুব, খুব জানতে ইচ্ছে করে
তুমি ঘুম থেকে উঠে এখনো রবীন্দ্র সংগীত শোনো কিনা ?
সকালে নাস্তার পর কি এখনো ব্ল্যাক কফি খাও
নাকি অব্যেশটা বাদ দিয়েছ?
গোসলের সময় তোমার এক ঘন্টার বেশী সময় লাগতো
এখনো কি এতো সময় পাও গোসলের জন্য?
বৃষ্টি তোমার খুব পচ্ছন্দ ছিলো,
বৃষ্টি হলেই ভিঁজার জন্য পাগল হয়ে যেতে,
সাথে সবসময় আমাকে লাগবেই,
আমার আবার বৃষ্টির জলে মাথা ব্যাথা করতো
তোমার কারনে আমাকে কতোবার যে বৃষ্টির জলে ভিঁজতে হয়েছে,
আর মাথা ব্যাথা নিয়ে রাতে ঘুমোতে পারতাম না,
তোমাকে তবুও বুঝতে দেইনি।
তুমি এখনো বৃষ্টিতে ভিঁজো কিনা জানিনা,
তবে আমি ভিঁজি সারাক্ষনই , বুকের জলে
কেউ দেখেনা ,শুধু বুকটা ভিঁজে কাদার মতো থকথক করে।

মনোলীনা,
তোমার খুব শখ ছিলো বিদেশ ঘুরার
অথচ আমি পাশের দেশ ইন্ডিয়াতে
নিয়ে যেতে পারিনি তোমাকে কখনো,,
ইন্ডিয়া কেনো , কক্সবাজারে ঘুরার সামর্থ ও ছিলনা আমার,
ছোট চাকুরী , যাই বেতন পেতাম সংসার চালানোই
ভয়াবহ ব্যাপার ছিলো আমার জন্য,
আতংকে থাকতাম প্রতি মূহুর্তে,
অসুখ বিসুখ আর রোগ বালাই যেনো হুট করে না আসে,
নিজের গাড়ী বাড়ির খুব স্বপ্ন দেখতে তুমি,
আমার স্বপ্ন ছিলো ঋন না করে মাসটা শেষ করা।

মনোলীনা,
তোমাকে নিয়ে রাতে আকাশ দেখতে আমার খুব ভালো লাগতো
আর তুমি বলতে, যে আকাশকে স্পর্শ করা যায়না
তাকে শুধু শুধু দেখার কি আছে ?
আকাশে আমি যে তোমাকেই দেখতাম
যেখানেই যাই যেনো তুমি আমাকে আগলে রেখেছো মনে হতো,
আমি এখন আর আকাশ দেখিনা,
বুকের মধ্যেই একটা আকাশঘর বানিয়েছি,
মন বেশী খারাপ হলে সেখানে ডুকে দরজার খিল আটকিয়ে দেই ,
তারপর চুপটি করে বসে থাকি অনন্তকাল।

মনোলীনা,
আমার বিলাসিতা বলতে ছিলো
একটু কবিতা লেখার চেষ্টা করা,
তাও তোমাকে নিয়েই ভালোবাসার কবিতা,
তুমি কেনো যে আমার কবিতা পড়তে না ,
আর পড়লেও বলতে -,কিছু বুঝোনি,
একদিন আমি কিভাবে যেনো বুঝে ফেললাম
তুমি আসলে অন্য কারো কবিতা পড়তে ভালোবাসো,
তার দূরবোধ্য শব্দগুলোর অর্থ অবলীলায় ধরে ফেলো,
সেদিনই আমি টের পেলাম
তুমি দুরে চলে গেছো
লক্ষ কোটি মাইল দুরে।

মনোলীনা,
তুমি যতই কাছে থাকতে না কেনো,
আমি প্রতি মূহুর্তে টের পেতে শুরু করলাম
আমি সারা জীবন আলোর বেগে ছুটলেও
তোমার নাগাল পাবোনা।
তুমি এতো দুরে কবে চলে গেলে আমি একবারও জানলাম না,
হয়তো আমি “বোকা মানুষ” ছিলাম ,এই জন্য বুঝতে পারিনি,
কাছে থেকেও যে অনেক দুরে যাওয়া যায়
ঈশ্বর সেদিন আমাকে জ্ঞান দিলো,
তারপর আমি সারারাত আকাশের দিকে তাকিয়ে
কেঁদেছি,শুধু কেঁদেছি,মনে মনে তীব্র চিৎকার করে,
আমার এই ছোট্টবুকে এতো জল কবে জমে ছিলো
আশ্চর্য্য আমি টেরই পাইনি,।

মনোলীনা,
তুমি বোধহয় এখন বিদেশ ঘুরাঘুরি করো প্রায়ই,
নতুন কবির কবিতা তুমি খুবই পচ্ছন্দ করতে,
এখনো করোতো?
উনি তোমার সাথে কি বৃষ্টিতে ভিঁজে ?
নাকি বৃষ্টিতে ভিঁজা তুমি ছেড়ে দিয়েছো?
ঈশ্বর সবার ইচ্ছে পুরন করে একদিন,
দেখো তোমার নিশ্চই খুব দামী গাড়ী বাড়ী হয়েছে?
খুব আরামে থাকো নিশ্চই,
সুখে থাকো তো ? বুঝলে সুখ ???

মনোলীনা,
আমি এখনো বিলাসিতা টুকু ছাড়তে পারিনি,
আজকাল আর ভালোবাসার কবিতা লিখিনা.
লিখি ,অভিমান,ক্রোধ,বিশ্বাসহীনোতা
আর বুকের হাহাকারের কবিতা,
যেদিন আমার এই কবিতাগুলো দিয়ে প্রথম বই ছাপবো
তোমাকেই উৎসর্গ করবো বইটি।

ইতি
“বোকা মানুষ”

বিঃদ্রঃ তোমার নতুন সংসারের বিদেশের ঠিকানা এখনো পাইনি । পেলেই চিঠিটা পাঠিয়ে দিবো, ততোদিন থাকুক চিঠিটা আমার কবিতার খাতায়।
----------------------------
রশিদ হারুন
০৯/০৪/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×