somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

মাধুরী দীক্ষিতকে খুঁজতে

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শাহপরান হলের ৪৩৯/ডি রুমের
দেওয়ালের ঠিক এইখানে মাধুরী দীক্ষিতের
একটা ছবি ছিল।
আপনারা মাধুরীকে চিনলেন না!
বলিউডের এক সময়ের ধাক্ ধাক্ নায়িকা ছিল।
আমার হল জীবনের চার বছরই মাধুরীকে আমি আটকে রেখেছিলাম এই রুমেই,
কখনোই রুম থেকে বের হতে দেইনি তাকে এক মুহূর্তের জন্য।
যখনই বিছানায় শুতে আসতাম
তখনই দেখতাম মাধুরী আমার দিকে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,
তার ঠোঁটে ঝুলে আছে এক নেশাধরা বিষাক্ত হাসি!
আমাকে ঠিকমতো ঘুমাতে দিতোনা সেই বিষাক্ত হাসি।
বিশ্বাস করেন ঘুমে আমার চোখটা বন্ধ হতে শুরু করলেই
মাধুরীর সেই হাসির রিমঝিম শব্দে আমার প্রায়ই ঘুম ভেঙে যেত।


প্রায় আটাশ বছর পর শাহপরান হলের ৪৩৯/ডি রুমে এসে দেখলাম
ছবিটা এখন নেই দেওয়ালের সেই জায়গায়!
এখনো ভালোভাবে তাকালেই বুঝা যায় দেওয়ালের এই জায়গায় কিছু একটা ছিল কোন এক সময়।


এই রুমের দক্ষিণের জানালা বরাবর একটা ইউক্যালিপটাস গাছ ছিল।
সেটার ডালপালার মাঝে একটা
বেহায়ার মতো আমার জানালা ছুঁয়ে ছিল!
গভীর রাতে দিনের পর দিন অঘুমে
মাধুরীর জন্য আমার অভিমান, হাহাকার আর বিষণ্ণতা সবই ভাগাভাগি করতাম
সেই গাছটার সাথে, সেই বেহায়া ডালে হাত রেখে।
কিন্তু মাধুরীকে কখনো বুঝতেও দিতাম না
আমার সেই অভিমান, হাহাকার আর বিষণ্নতা,
তাইতো সে সবসময় হাসিমুখে মায়াজাল পেতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল চার বছর ধরে-
খুব যত্নে রেখেছিলাম মাধুরীকে,
ধুলোবালি জমতে দেইনি কখনো সেই ছবির হাসিতে।


আমি কি আজ ভুল রুমে দাঁড়িয়ে?
ইউক্যালিপটাস গাছটা কি অন্য রুমের জানালা বরাবর?
রুমের চারজন বিশ একুশের যুবক আমার দিকে উৎসুক ভাবে তাকিয়ে!
প্রায় আটাশ বছর পর একই রুমে হঠাৎ করেই
মাধুরীর সেই নেশাধরা বিষাক্ত হাসি আবার আমার কানে ভেসে এল,
আর ঠিক তখনই বাতাসে ইউক্যালিপটাস গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দে
আমি আমার হারিয়ে যাওয়া সব অভিমান, হাহাকার আর বিষণ্নতার গল্প শুনতে পেলাম।


হঠাৎ করেই বলে ফেললাম,
মাধুরী কোথায় গেল,
তোমার কি জানো?
এ‌ই জানালা বরাবর একটা ইউক্যালিপটাস গাছ ছিল,
ওটা কি মাধুরীর সাথে চলে গেছে
আমার বিশ একুশের সব অভিমান, হাহাকার আর বিষণ্নতা বুকে নিয়ে?


৪৩৯/ডি রুমের চার যুবকই একসাথে বলে উঠলো,
মাধুরী কে?
উত্তরে আমি অবলীলায় বলে ফেললাম,
‘আমার বিশ একুশের ধাক্ ধাক্ নায়িকা,
বন্ধু কামরুলকে নিয়েই একদিন আসতেই হবে মাধুরীকে খুঁজতে।
——————
র শি দ হা রু ন

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৪:২২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×