somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নোয়াখালী পৌরবাসীর চলাচল দুর্ভোগ চরমে

০৫ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাঁচ’শ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা ॥ পাকাগুলোর বেহাল দশা
গোলাম মহিউদ্দিন নসু,নোয়াখালী ঃ

দেড়শত বছরের পুরোনো নোয়াখালী পৌরসভা ৭২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা । ১০০ কিলোমিটার আধা পাকা। ১২০ কিলোমিটার পাকা। পাকা-আধা পাকা সড়কগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক সড়কেরই বেহাল দশা।বর্তমানে এসব সড়কগুলো যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

প্রতি বছর শহরের প্রধান সড়কসহ সংযুক্ত সড়কগুলোর সবগুলোই হাটু পানিতে ডুবে যায়। প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত প্রত্যেকটি সড়ক খানাখন্দক হয়ে আছে। সরকারি আবাসিক এলাকার (ফ্ল্যাট) সড়ক, জেলা জজকোর্ট-প্রেসক্লাব সড়ক, জেলা প্রশাসন-পুলিশ সুপার-সিভিল সার্জন অফিস সড়ক, শিল্পকলা এ্যাকাডেমি-সরকারি প্যারামেডিকেল স্কুল-পাঁচ রাস্তার মোড় সড়ক, মাইজদী বাজার- মাইজদী স্টেশন সড়ক, মাইজদী বাজার-জেলখানা-পুলিশ লাইন-সুজাপুর সড়ক, মাইজদি বাজার-মাস্টার পাড়া হয়ে -নোয়াখালী সরকারি কলেজের সংযুক্ত প্রায় সবগুলো সড়ক, সার্কিট হাউজের সামনের দত্তেরহাট গরু বাজার পর্যন্ত সড়ক, ফকিরপুর, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হরিনারায়ণপুর ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে মুরগীর ফার্ম সংলগ্ন সড়কগুলোসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবগুলো সড়কই কয়েক বছর থেকে যান চলাচল অযোগ্য হয়ে রয়েছে । বর্ষা মৌসুমতো দুরের কথা শুকনো মৌসুমে এ সড়কগুলোতে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
শহরের অভ্যান্তরিন সড়কের রিক্সার ড্রাইভারদের অভিযোগ- প্রধান সড়ক, হাউজিংয়ের সড়কগুলো ছাড়া পৌরসভার প্রত্যেকটি সড়কই গাড়ি (রিকশা) চালানোর অযোগ্য। এ সব সড়কে কিছুক্ষন গাড়ী চাললে শরীর অসুস্থ হয়ে যায়, গাড়ির টায়ার, রিং, স্প্রুকসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কিছুনা কিছু নষ্ট হয়।
মাইজদী বাজারের বাসিন্দা কামাল হোসেন মাসুদ, পূর্ব মাষ্টার পাড়ার বাসিন্দা ডাঃ খোন্দকার শহীদুল্যাহ বলেন- মাইজদী বাজার থেকে পশ্চিম দিকে পুলিশ লাইন হয়ে সুজাপুর, মাইজদী বাজার-মাইজদী স্টেশন সড়ক ও মাস্টারপাড়ার ভিতর দিয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজ যাওয়ার বেশ কয়েকটি সড়ক পুরোটাই খানাখন্দ । ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা। এ সব সড়ক দিয়ে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলে বেশি। ফলে দেখা যায় সুস্থ্য মানুষও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রতিদিন ছোট-খাট দু-তিনটি দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় যানবাহন চালকরা সাধারণ মানুষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ডাঃ শহীদুল্যার বিদ্যা নিকেতনে পড়ুয়া মেয়ে কলিসহ মাষ্টার পাড়া বাসির অভিযোগ, এ এলাকাকে মাষ্টারের পাড়া বলা হলেও মূলত এখানে কোন দায়িত্বশীল মানুষ বসবাস করে না,দায়িত্ববানদের আচরনে এমনই মনে হয়। এমন অভিযোগ অসংখ্য পৌরবাসীর। পৌর শহরের আভ্যন্তরের বিভিন্ন ইজিবাইক ও রিকশা চালকরা ক্ষোভের সাথে বলেন- প্রতিটি রিকশা নতুন লাইসেন্স করতে ২০০ টাকা ফি দেয়া হচ্ছে। আবার প্রতি বছর ১০০ টাকা করে নবায়ন ফি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইজিবাইকগুলো লাইসেন্স না করলেও অবৈধভাবে পুলিশ, বিট ইত্যাদি নামে প্রতিদিনই অনেক টাকা নেয়া হচ্ছে। অথচ সড়কগুলোতে গাড়ি চালানো দু:সাধ্য। নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়া পৌর শহরের সড়কগুলোর বেহাল দশার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন- দীর্ঘদিন পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্বল্পতার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সড়কগুলোর এমন দশা হয়েছে। বর্তমানে আধুনিক ও যুগপোযোগী ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পুরোপুরিভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে সড়কে আর পানি জমবে না।
সহকারী প্রকৌশলী শাহীদুল ইসলাম জানান,- ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক, জজকোর্ট-প্রেসক্লাব ও প্যারামেডিকেল স্কুলের সামনের সড়ক,মাইজদি স্টেশনরোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুন:পাকা করণের জন্য বিএমডিএফ প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হতে পারে। এ ছাড়া অন্যান্য সড়কগুলোরও পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু করা জন্য প্রক্রিয়া চলমান াাছে।।#
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×