কৃষি জমির উর্বর মাটি যায় ইটভাটায়
গোলাম মহিউদ্দিন নসু,বিশেষ প্রতিনিধি-নোয়াখালী হতেঃ
হাই লাইটসঃ
*-বেগমগঞ্জে ১ মাসে মামলা ২১ টা জরিমানা প্রায় ২০ লাখ-
*ব্রিকফিল্ড প্রায় শতাধিক- অনুমোদিত-৪৪টি
*আগামীতে বেগমগঞ্জে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হ্রাসের আশঙ্কা-৩০-৪০ মেঃটঃ
*জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকবল ১২ জনের স্থলে আছে-৫ জন।
নোয়াখালীর ফসলী জমির মাটি(টপসয়েল/উর্বর মাটি) দিয়ে চলে ইট ভাটা। পতিত জমি বা মজা পুকুর থেকে মাটি নেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রশাসনের কোন অনুমতি না নিয়ে ইট ভাটার মালিকরা ধংস্ব করছে জেলার কৃষি পরিবেশ।পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র-ঘন বসতি বা কৃষি ফসলী এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে ইট ভাটা।প্রতি নিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে জমির শ্রেনী রুপ।আগামীতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টজনদের সাথে আলাপে এসব তথ্য উঠে আসে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে কৃষি জমির মাটি কাটা এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইট ভাটার কার্যক্রম চালানোর অপরাধে প্রায়ই অর্থদন্ড-জেল জরিমানাসহ নানাবিধ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে অপরাধ দমনের চেষ্ট চলছে । ব্যাপক হারে জেলার কৃষি জমি বিনষ্ট হলেও এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
এসব অপরাধে ২৭ এপ্রিল নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট হোমায়রা ইসলাম চরমটুয়ায় ২টি ইটভাটায় পৃথক দুই মামলায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
১৭ এপ্রিল সেনবাগের নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মুহসিয়া তাবাসুম ৩টি ইটভাটার মালিককে পৃথক ৩ মামলায় ৬ লাখ ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নিয়মনীতি বেশী উপেক্ষিত হচ্ছে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায়।এখানে ২৫এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট কায়েসুর রহমান কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে একটি স্কেভেটর ও একটি ট্রাক জব্দ করে। ২২ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট মোঃ শাহাদাত হোসেন কাদিরপুর ও রসুলপুর ইউনিয়নের ৩টি ব্রিক ফিল্ডকে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ১৯ এপ্রিল অবৈধভাবে নাল শ্রেনীর জমি কেটে শ্রেনী পরিবর্তন করার অপরাধে ছয়ানীতে ২টি মামলায় ১ লাখ বিশ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।১৮ এপ্রিল কুতুবপুরে জিলানীর টেক এলাকায় কৃষি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় সরবরাহ করার দায়ে দুইজন মাটি ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমান করা হয়।১৬ এপ্রিল হাজিপুরে কৃষি জমি বিনষ্ট করার অভিযোগে একজনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
এ ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এপ্রিল মাসে ৪টি পৃথক মামলায় ৪ লাখ টাকা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৭টি মামলায় ১৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান,বেগমগঞ্জে ব্যাপক হারে কৃষি জমির মাটি কাটা হচ্ছে।্এতে জমির উর্বরতা কমছে এবং শ্রেনী বিনষ্ট হয়।এসব জমির অধিকাংশ মাটি ইটভাটায় যায়।দায়ী সকলকেই আইনের আওতায় নেয়া হচ্ছে।প্রসঙ্গিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,প্রশাসনের অনুমতি ক্রমে মজা পুকুর বা বেয়াবাদি/পতিত জমি থেকে মাটি নিয়ে ইট প্রস্তত করার সূযোগ আছে।
নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শওকত আরা কলি বলেন- প্রশাসনের সহযোগীতায় জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়ার দায়ে বিভিন্ন ইট ভাটাকে নানা ভাবে জরিমানা করা হচ্ছে। নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়ে থাকে।প্রসঙ্গত তিনি জানান জেলায় শতাধিক ইটভাটা থাকলেও- বৈধ ইটভাট আছে ৪৪ টি।১০ থেকে ১২ টি ভাটা অনুমোদন নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। জেলায় অনেকগুলি অন অনুমোদিত ইটভাটা রয়েছে- যেগুলি বন্ধের কার্যক্রম চলমান আছে। এক্ষত্রে তিনি বলেন- জেলাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মাত্র একটি অফিস- তাও ১২ জন কর্মকর্তার স্থলে আছে ৫ জন। যা দিয়ে আশানুরুপ কাজ করা যায় না।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,-ইটভাটার মালিকরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পতিত জমি বা মজা পুকুর ডোবা থেকে মাটি নিয়ে ইট বানানোর বিধান রয়েছে। নোয়াখালীতে এ পর্যায়ের মাটি নাই বিধায় তিনি নির্মান কাজে ব্লক ইট ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেলাল আহাম্মদ জানান,উপজেলায় কৃষি জমির পরিমান ১৮ হাজার ৩শ হেক্টর। পতিত জমি ১১৫ হেক্টর যা আবাদ য্ােগ্য। বিগত বছর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে দান চাষে ৮০ হাজার ৮ শ মেঃটঃ ধান উৎপাদন হয়েছে।এ বছর ধান কাটা শেষ অবধি আবহাওয়া অনকুলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার ফসল বেশী হবে। যে হারে কৃষি জমি কর্তন করে জমির উর্বরতা এবং শেন্রী বিনষ্ট করছে- তাতে আগামী বছরে ৩০-৪০ মেঃটঃ ফসল কম উৎপাদনের আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কি পরিমান ফসলী জমি বিনষ্ট হচ্ছে এমন কোন পরিসংখ্যান তাদের কাছে নাই।
নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশিস কুমার কর জানালেন,জেলাতে কি পরিমান জমির টপ চয়েল কাটা হয়েছে এমন কোন তথ্য নেই।সব উপজেলায় কমবেশী কৃষি জমি কাটা হয়ে থাকে। তবে বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ি উপজেলায় আশঙ্কাজনক ভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন গুরুত্বপূর্ন ভূ মিকা পালন করছে।কৃষি সংক্রান্ত সকল সভায় টপ চয়েল না কাটার ব্যাপারে সর্তকতার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
নোয়াখালী জেলা ইট প্রস্ততকারী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও খোন্দাকর ব্রিক ম্যানুফেক্চারিং এর মালিক মোঃ আফতাব উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,একটি চক্র অনৈতিক সুবিধা নিতে প্রশাসনকে ইট প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ফসলী জমি নষ্ট করে কোন মাটি ব্রিক ফিল্ডে নেয়া হয় না। যে সব জমির উর্বরতা হারিয়েছে,বা পতিত রয়েছে-সে সব জমির মালিকের থেকে ন্যায্য মূল্যে খরিদ করেই মাটি নেয়া হয়।নোয়াখালীর প্রায় শতাধিক ব্রিক ফিল্ডে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে। ছোট খাট নানাবিধ কারনে অকারনে ব্রিক ফিল্ড মালিকদের হয়রানি না করে- এ বৃহৎ উৎপাদনমূখী শিল্পের প্রতি সহায়তা মূলক আচরন করার জন্য তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।#

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



