somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘দ্যা টেররিস্ট’

২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষটির হাতে বন্দুক। আমাকে দেখামাত্রই সে দৌড়াতে শুরু করল..................!
সময় তখন আনুমানিক রাত ৯ টা। আমি ব্যাচেলর মানুষ। চা খাওয়ার জন্য বাহিরে বের হলাম। গলি পার হতে গিয়ে মানুষটির দিকে আমার দৃষ্টি পড়ল। তার হাতে বন্দুক। সে খুব সতর্ক ভঙ্গিতে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কেউ তাকে দেখতে না পায়। আমি তাকে দেখামাত্রই চিনে ফেললাম। সে এক মস্ত বড় খুনি। কয়েকদিন আগেই এলাকার নেতা আসিফ ভাইকে খুন করেছে। আমাকে দেখামাত্রই সে দৌড়াতে শুরু করল। ঘটনা কি তা বুঝতে পারলাম না। আমি তার পিছুপিছু দৌড়াতে লাগলাম। সে খুব দ্রুত গলি পরিবর্তন করছে। আমিও তাকে অনুসরণ করতে থাকলাম। আমার মাথায় একটাই চিন্তা, ‘যে করেই হোক এই খুনিকে ধরতে হবে। কিছুতেই তাকে ছাড়া যাবে না। কিছুতেই না!
এতক্ষণ যে রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম তা ছিল আমার চিরচেনা। কিন্তু সমস্যা বাঁধল অন্য জায়গায়। এখন ছেলেটি যে গলিতে উঠল তা আমি চিনি না। এই প্রথম এই রাস্তায় পা রাখলাম। আমার ভয় লাগতে শুরু হল। প্রচণ্ড ভয়! তাও আমি হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়াতে থাকলাম।

দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকটা নির্জনে চলে এলাম। এখানে মানুষজনের লেশমাত্র নেই। যে মানুষটিকে ধরতে এসেছিলাম, তাকেও দেখা যাচ্ছে না। চারপাশে অন্ধকার। আকাশে মিটিমিটি তারা জ্বলজ্বল করছে। এবার আমি ঘাবড়ে গেলাম। ঘটনা কি? কোন জিন-ভূত বা কোন পেতাত্তা আমাকে এখানে নিয়ে আসে নাই তো! যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে মানুষটি কোথায় গেল? আমার শরীর বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ছে। এখন আমি কি করবো? আমার খুব কান্না পাচ্ছে। খুউব!
তখনই মানুষটিকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখলাম। সে আমার সামনে এসে দাঁড়াল। কোমর থেকে বন্দুক বের করে হাতে নিল। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বন্দুক আমার মাথায় বন্দুক ঠেকাল। আমার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেল। এবার আমি সত্যি সত্যি হাউমাউ করে কান্না করতে শুরু করলাম। আমাকে কাঁদতে দেখে বন্দুক নামিয়ে ফেলল। দানবীয় কণ্ঠে সে কথা বলতে শুরু করল,
-কিরে কান্দস ক্যান? আমি কি তোরে মারছি নাকি?
-চুপিচুপি কান্না করতে করতে বললাম, ‘না’।
-না মারলে কান্দস ক্যান?
-ভয়ে!
-তোর তো ভালোই সাহস, আমার পেছন পেছন দৌড়াইয়া আইছস। বুকে পাঠা আছে তোর। আমার পিছে ক্যান দৌড়াইতেছিলি?
-এমনি, ভুল হয়ে গেছে ভাই। আমারে মাফ কইরা দেন ভাই। আর জীবনেও হইব না ভাই। জীবনেও হইব না। কথা দিলাম।

-হাহাহাহাহা...............। চিপায় পরছস, তাই এখন সাধু সাজস না? আমি জানি তুই ক্যান আমার পিছে পিছে আইছিলি?
-ক্যান ভাই?
-কারণ আমি খুনি। আমি তোর এলাকার আসিফরে খুন করছি। এতে সবার গায়ে লাগছে। কিন্তু ঐ মাদারচোদ রে ক্যান খুন করছি তা কেউ জানতে চায় না। সব শালা স্বার্থপর।
-ক্যান খুন করছেন ভাই?
-‘ঐ শালা ছিল একটা হিরইঞ্ছি, মাগিবাজি করতো। ঐডা নিয়া আমার কোন মাথাব্যথা ছিল না। মাইয়াগরে বইন ডাকতো, তারপর তার দলের পোলাপাইন মিল্লা ধর্ষণ করতো। তারপর ঐ মাইয়ার নামে স্কেন্ডাল বাইর করতো। শেষ পর্যন্ত মাইয়া মান সম্মানের ভয়ে আত্মহত্যা করতো।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে মানুষটি কেঁপে কেঁপে উঠল।
-তাই বলে আপনি তারে খুন করবেন? দেশে আইন আছে না? পুলিশের কাছে বিচার দিতেন?
-এই বালের কথা কবি তো গুল্লি কইরা তোরেও উড়াইয়া দিমু কইলাম। এই দেশের আইন? কিচ্ছু হয় নাই এই আইন দিয়া, আর হইব ও না। আইন ধনী মানুষের লাইগা, আমাগো মত গরীব মানুষের লাইগা আইন না।
-আমি চুপচাপ তার কথা শুনছিলাম।

-আচ্ছা কয়দিন আগে যে কাশফিয়া নামে ইডেন কলেজের এক মাইয়া আত্মহত্যা করছিল তা জানস?
-জী ভাই। পেপারে দেখছিলাম।
-সে কেন আত্মহত্যা করছে তা জানস?
-না ভাই।
-‘তোগ এলাকার নেতা আসিফ কাশফিয়ারে প্রথমে বোন ডাকছিল। কাশফিয়া সহজ সরল ভাইবা তারে ভাই বানাইছিল। আসিফ একদিন ঘুরার নাম করে তাকে এক জায়গায় নিয়া গেল। তারপর সবাই মিল্লা তারে রেপ করছে। তা আবার ভিডিও ও কইরা রাখছে। কাশফিয়ারে মাসুদ ব্ল্যাকমেইল করতো সেই ভিডিওর জন্য। শেষ পর্যন্ত কাশফিয়া সহ্য করতে না পাইরা আত্মহত্যা করছে।’
আমি লক্ষ করলাম কথা শেষ করেই খুনি লোকটি ক্ষোভে ফুঁসছে। সেই মুহূর্তে সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
-কাশফিয়া নামের মাইয়াডা আমার কি হইত জানস?
-না ভাই।
তখন আমাকে অবাক করে দিয়ে খুনি লোকটি বলল, ‘কাশফিয়া আমার আপন বোন হয়, আমার আপন বোন!’ এই বলেই সে হাউ মাউ করে কান্না করতে লাগলো। তার চোখের কোল বেয়ে অশ্রুরা ঝরে পড়ছে। তখন আমি আবিষ্কার করলাম, আমি নিজেও কাঁদছি। আমরা কেঁদেই যাচ্ছি। এ কান্না শেষ হবার নয়। এ কান্নারা কখনোই থামবে না। কখনোই নয়.............................................!

পুনশ্চঃ লেখাটি একটি নিছক গল্প মাত্র। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোন মিল নেই। অনেকদিন পর কিছু ফ্রি টাইম হাতে পেলাম। তাই লিখে ফেললাম।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:২৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×